somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"পারিবারিক কলহ" বাচ্চাকে কি ভাবে এফেক্ট করে

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

 
 
ছেলে রনি নিজ ঘরে সারা দিন শুয়ে থাকে। কোন কিছু খেতে চায়না । রাতে নাকি ভালো ঘুমও আসে না । নিজেকে সব কিছু থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
সিমটোম গুলো চলছে অনেক দিন থেকে। স্কুল থেকে কমপ্লেন এসেছে বাচ্চা কথায় কথায় মেজাজ দেখায়। কারর সাথে মিশতে পারেনা। এবং পড়ায় ভীষণ অমনোযোগী ।
মা ভেবে পায়না কি করবে। স্কুলের কাউন্সেলর থাকে বাচ্চাদের কথা শোনার জন্য। মকে  ডেকে পাঠানো হয়েছে।
আমিনা তাড়াতাড়ি নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে রওনা দায়। আয়নাতে চোখ পড়ে,  চেহারায় একটা  কষ্টের আভাষ পড়ে গেছে। চোখের কোণে কালি । কে বলবে , আমিনা ছোটো ছোটো দুই বাচ্চার মা যার  বয়স মাত্র বিশের কোঠায় ।
সামনে বসা কাউন্সেলর । বাচ্চার কথা বলতে থাকেন তিনি। বের করার চেষ্টা  করেন  সত্যি ঘটনা।   তারা তো  প্রফেশনাল,  কথা  বের করেন সু - চিন্তিত ভাবে।
কথায় কথায় বের হয়ে পড়ে আসল ব্যাপার । পরিবারের মধ্যে চলমান অশান্তি , রনির বাবার অত্যাচার,কন্ট্রোলিংক   আচরণ, মানসিক ভাবে অত্যাচার এসব  বের হয়ে পড়ে।
যা  সে কোনদিন কারর কাছে বলতে পারে নাই। কাউন্সেলর এমন একটি পেশা যাকে  নিরপেক্ষ (Non-judgemental) হতে হয়  ,ভালো লিসেনার অর্থাৎ যে  কিনা সব কিছু মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং  গোপনীয়তা বজায় রাখে।
আমিনা এই  পারিবারিক অশান্তি কারর সাথে শেয়ার করতে পারেনা মানুষের Non judgemental আচরণ এবং গসিপ ছড়ানোর ভয়ে।ভরসা পেয়ে সে সব কিছু তার কাছে শেয়ার করে ।
কিন্তু এগুলো তো বাচ্চার উপর প্রভাবিত হচ্ছে। একটা  বাচ্চা কে  বড় হতে হয় হাসিখুশি পরিবেশে।যেখানে সে দেখতে পাবে তার মা সন্মানিত হচ্ছে বাবার দ্বারা । এবং তখন সে এটাই শিখতে থাকবে। তা  না হলে পরোবর্তি জীবনে সেও এই একি ব্যাবহার করবে তার নিজের বিবাহিত জীবনে।
এভাবে একটা  পরিবার প্রস্ফুটিত হতে পারেনা। বাচ্চারা দেখতে দেখতে শিখে।
আমিনা ঘরে ফিরে। কাউন্সসেলিং ব্যাপারটা এমন,  হয়ত কাউন্সেলর  কিছু করতে পারবেনা, অর্থাৎ রনির বাবাকে অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকতে বলার এখতিয়ার তার নয়।  কিন্তু  মনের কথা বলাতে ক্ল্যাইন্টের মনের জোর বেড়ে যায় । একটা সিদ্ধান্ত   নিতে শক্তিশালী মন গোড়ে উঠে।এবং একটা  সাহসী প্রতিবাদী মন গোড়তে সাহায্য করে।
'স্বভাবের প্রতিবাদ করা এবং তপ্ত লোহার উপর হাত বুলিয়ে আনা বোধ করি একই । উভই ক্ষেত্রে বীরত্ব থাকতে পারে তবে আরাম নাই।' রবীন্দ্র নাথের উক্তিটি তাকে শক্তি দায়।
স্কুল কাউন্সেলর একটা লিস্ট ধরিয়ে  দিলো আমিনাকে । যাতে লেখা আছে পারিবারিক নির্যাতন একটা  বাচ্চার উপর কি কি প্রভাব ফেলতে পারে , যেমন বাচ্চা উদবিগ্নতা(angjaiti) এবং হতাশা বা  ডিপ্রেশন  ভুগতে পারে, রাতে বিছানা ভেজানো, নিদ্রাহীনতা, কনফিউজড, পড়াশোনায় মনোযোগ কমা, খেতে না পারা বা খিদে না থাকা ( Eating disorder) ,অতিরিক্ত রাগ, নিজেকে দোষী মনে করা, নিরাপত্তা হীনতা, একাকীত্ব, ভীত, ক্ষমতা হারানো,    এসব  তো থাকবেই আর বড় হলে ড্রাগ বা মদে  আসক্ত ,হাত কাটা বা সেলফ হার্ম অথবা  ওভার ডোজ ঘুমের ঔষধ সেবন করে আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে পারে।
সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট  করা যায়না।আমিনা ভাবতে থাকে মা হিসেবে সন্তানের ক্ষতি সে হতে দিতে পারেনা।আমিনা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। তাকে লড়তে হবে।
আমিনা ভাবতে থাকে কি সুন্দর হাসিখুশি একটা  মানুষ ছিল বিয়ের আগে সে। একটা সুস্থ পরিবেশে সে বেড়ে উঠেছিল । যতো  অশান্তি বিবাহিত জীবনে এসে।
আমিনা ভাবতে থাকে একেকটা বিয়ে মানে একেকটা মেয়ে কে পানিতে ফেলা। আর  মেয়েটা প্রাণপণে চেষ্টা করে কি ভাবে কুলে  উঠা যায়। যে সাঁতার দিয়ে কুলে  উঠতে পারবে  সে বাঁচতে পারলো যে কৌশল জানেনা তাকে ডুবতে হবে।
আমিনা একটা  সিদ্ধান্ত  নায়  কি ভাবে সচেতনতা বাড়ানো যায়। মেয়েরা কে স্কুলের মাধ্যমে বোঝাতে হবে বিয়ে জিনিস টা কি? কি ইনভল্ব এতে । কি কি বাধা বা প্রথিবন্ধকতা আসতে  পারে। নানা রকমের পারসোনালিটির পুরুষ মানুষের সম্মুখীন হতে পারে।
এটা  কোন ভাবেই একটা  সহজ জিনিস নয় অনেক দায় দায়িত্ব আছে। ছেলে খেলা তো নয়ই । 'marriage is not a hindi film'।
অনেক সময় একটা  মেয়েকে  যথেষ্ট বাস্তব জ্ঞান হওয়ার আগেই বাবা/মাই বিয়ের মধ্যে ঠেলে দায়। যাকে বলা হয় যোরপুর্বক বিয়ে দেয়া (forse marriage) । এটা আইন করে বন্ধ করা উচিত।
বাবামা  এবং সমাজ কে বোঝানো  উচিত বা Raise Awareness করা উচিত তারা বাবা/মার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে কি না। অনেক বাবামা পাত্রর কোন কিছু না দেখেই বিয়ে দিয়ে দায় যা নেগ্লেজেন্সির আওতায় পড়ে এবং যাকে আইন বিরুদ্ধ করা উচিত।
পাঠ্য পুস্তকে দেয়া উচিত কি ভাবে ভালো মা বাবা হওয়া যায় ।
আমিনা প্রস্তুত হতে থাকে সমাজকে বদলানর জন্য । একটা কিছু করতে হবে । ' আমরা যদি না জাগি মা ক্যামনে সকাল হবে।"
 
 
 
 
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৩:৪৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×