somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যময় Mir Mine

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছবিটা দেখে কি কারো এক্স-ফাইলস টিভি সিরিজটার কথা মনে পড়ছে? যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে এসে গোপনে গোপনে নানান গবেষণা চালিয়ে আবার কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের উপস্থিতির একটা প্রমাণ ধরে রাখতে এফবিআই এর স্পেশাল এজেন্ট ফক্স মোল্ডার তাদের পেছনে নিশিগ্রস্থের মত দিনরাত এক করে ছুটে চলেছে।
হা হা হা। আরে না, সেসব কিছু না। এটা আসলে একটা হিরের খনি। নাম Mir mine।
আসেন Mr. Mir Mine সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।
অবস্থানঃ
এই খনিটি রাশিয়ার সাখা প্রদেশের রাজধানী ইয়াকুতস্ক থেকে ৮২০ কি.মি দূরে Mirny শহরে অবস্থিত। জায়গার নামানুসারে একে Mirny Mine নামেও ডাকা হয়।
খনির বর্ননাঃ
২০১১ সাল থেকে পরিত্যাক্ত এই খনিটি ৫২৫ মিটার অর্থাৎ ১৭২২ ফুট গভীর আর ১২০০ মিটার (৩৯০০ ফুট) চওড়া। উইকিপিডিয়া থেকে জানতে পারলাম এটি গভীরতার দিক থেকে চতুর্থ। আমি তো এটা দেখেই পড়ে যাচ্ছিলাম, বাকি গুলোর যে কি অবস্থা আল্লাহই জানে।
খনির আকার বোঝার জন্য একটা ছবি দিলামঃছবিটা দেখে কি কারো এক্স-ফাইলস টিভি সিরিজটার কথা মনে পড়ছে? যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে এসে গোপনে গোপনে নানান গবেষণা চালিয়ে আবার কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের উপস্থিতির একটা প্রমাণ ধরে রাখতে এফবিআই এর স্পেশাল এজেন্ট ফক্স মোল্ডার তাদের পেছনে নিশিগ্রস্থের মত দিনরাত এক করে ছুটে চলেছে।
হা হা হা। আরে না, সেসব কিছু না। এটা আসলে একটা হিরের খনি। নাম Mir mine।
আসেন Mr. Mir Mine সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।
অবস্থানঃ
এই খনিটি রাশিয়ার সাখা প্রদেশের রাজধানী ইয়াকুতস্ক থেকে ৮২০ কি.মি দূরে Mirny শহরে অবস্থিত। জায়গার নামানুসারে একে Mirny Mine নামেও ডাকা হয়।
খনির বর্ননাঃ
২০১১ সাল থেকে পরিত্যাক্ত এই খনিটি ৫২৫ মিটার অর্থাৎ ১৭২২ ফুট গভীর আর ১২০০ মিটার (৩৯০০ ফুট) চওড়া। উইকিপিডিয়া থেকে জানতে পারলাম এটি গভীরতার দিক থেকে চতুর্থ। আমি তো এটা দেখেই পড়ে যাচ্ছিলাম, বাকি গুলোর যে কি অবস্থা আল্লাহই জানে।
খনির আকার বোঝার জন্য একটা ছবি দিলামঃ




আর একটি ইন্টারেস্টিং তথ্য হল এই খনির উপর দিয়ে এমনকি প্লেনে করে বা হ্যালিকপ্টারে করে উড়ে যাওয়াও নিষিদ্ধ। গভীরতার কারনে এখানে বাতাসে এক ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়। এই আলোড়ন একবার এর একটা পাস দিয়ে উড়ে যাওয়া একটা হ্যালিকপ্টারকে ঝুটি ধরে মাটিতে নামিয়ে নিয়ে এসেছিল। বোঝেন অবস্থা!
খনির আর কিছু ছবিঃ
স্যাটেলাইটের তোলা ছবি










আবিষ্কারঃ
১৯৫৫ সালের ১৩ জুন সৌভিয়েত ভূবিজ্ঞানী ইউরি খাবারদিন, ইকাতেরিনা ইলাজিনা আর ভিক্টর অ্যাভদিঙ্কো Yakut ASSR এ ভূতাত্ত্বিক অভিযান (Amakinsky Expedition) চালাবার সময় এটি আবিষ্কার করেন যার জন্য Yuri Khabardin ১৯৫৭ সালে রাশিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার লেলিন পদক পান।
প্রকৃতি এবং বিজ্ঞানঃ
বছরের সাত মাস যে জায়গা শীতে জমে থাকে সেখানে খনন কার্য চালানো খুব একটা সহজ কাজছিল না। প্রচণ্ড শীতে গাড়ির চাকা ফেটে যেত, এমনকি তেল পর্যন্ত জমে যেতো। আবার গরমে এখানকার মাটি পিচ্ছিল কাদায় পরিণত হতো। কিন্তু মানুষ থামতে জানে না। বৈরি আবহাওয়ার কারনে মুল প্লান্ট প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হয়।
নিম্ন তাপমাত্রার কারনে মাটির কিছু অংশ সারা বছরই জমে থাকতো। এই অবস্থায় খনন করার জন্য জেট ইঞ্জিনের উত্তাপে মাটির এই জমে থাকা অংশ গলিয়ে ফেলে তারপর ডিনামাইট ব্যাবহার করা হয়েছিল।
রাতে পুরো এলাকা ঢেকে রাখা হতো যেন যন্ত্রপাতি ঠাণ্ডায় জমে না যায়।
১৯৮০ সালের ২৩শে ডিসেম্বর এখান থেকে সবচেয়ে বড় হীরক খণ্ডটি পাওয়া যায় যার ওজন ছিল ৩৪২.৫ ক্যারেট (৬৮ গ্রাম)। এর নাম রাখা হয় "26th Congress of the CPSU"
খনির নিচে বিজ্ঞানীরা একসময় মাইক্রোফোন লাগিয়েছিল। উদ্দেশ্য, ভুগর্ভস্থ টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার শব্দ শোনা। শব্দশুনে যদি ভূমিকম্প সম্পর্কে কিছু জানা যায়।
কিন্তু মাইক্রোফোনে যে শব্দ তারা ধরতে পারলো সেটা শুনে তাদের গলা শুকিয়ে গিয়েছিলো। টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার শব্দের বদলে রেকর্ডে করা টেপে তারা শুনতে পায় অজস্র মানুষের হিম শীতল করা আর্ত চিৎকার। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলে, অসংখ্য মানুষের যন্ত্রণায় গোঙানির মাঝে একটি কণ্ঠ আলাদা ভাবে চিনতে পারা যায়। সেই কণ্ঠের বীভৎস আর্তনাদে বিজ্ঞানীদের অনেকেই তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
হাজার হাজার মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট আর্তনাদের শব্দে অতিস্ট হয়ে বেশীরভাগ বিজ্ঞানী একসময় খনিতে গবেষণা বন্ধ করে চলে যান। পেছনে ফেলে যান এক রহস্যময় মনুষ্য নির্মিত গহব্বর।
আজ থেকে অনেক দিন পর, মানুষ হয়ত ডায়নোসরের মত এক সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তখন সেই নতুন পৃথিবীতে হয়ত নতুন কোন বুদ্ধিমান প্রজাতির উদ্ভব হবে। একসময় তারা এই পরিত্যাক্ত শুন্য খনি আবিষ্কার করবে।
তারা কি পূর্বপুরুষদের কর্মকাণ্ডে আমার মতই বিস্মিত হবে?
তারা কি বুঝবে তাদের অতি ক্ষমতাধর এই পূর্বপুরুষেরা রহস্য তৈরি করতে কত ভালোবাসতো

==============================================

আমার আরও কিছু ফটোব্লগ

১) দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
২) অন্য সুর
৩)Flight 772
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৩১
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×