somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

ইয়েস নো কনফিউশন

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু কাজে আমরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারি। অর্থাৎ হা বা না বলতে পারি। কিছু কাজে হা বা না বলতে পারি না। তখন তৈরী হয় কনফিউশন।

খুব কম মানুষই হা বা না এর মধ্যে থাকতে পারে। বাকী বেশির ভাগ মানুষ থাকে কনফিউশনে। অর্থাৎ তারা কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে না। মানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
কনফিশন থেকে মানুষের মিসগাইড হওয়ার সম্ভাবনা খুব প্রকট।

এখন প্রশ্ন হল, কনফিউশন কেন তৈরী হয়। কিছু কারনতো অবশ্যই বিদ্যমান। যেমন:

 নিজকে চিনতে না পারা :
মানুষ নিজকেই সবথেকে কম চিনে। আপনার কোন কাজটা করতে সবথেকে ভাল লাগে? আলোচনার প্রিয় বিষয় কি? অবসর সময় কি করতে ভাল লাগে? আপনি কতটুকু মানবিক? কি ধরনের বন্ধু আপনার দরকার? কোন ধরনের মানুষের সাথে সময় কাটাতে আপনি পছন্দ করেন, কেন? আপনার স্বপ্ন কি? আপনার ভিতরের বিশ্বাস উপলব্দি করেন কিনা? ইত্যাকার প্রশ্নগুলোর উত্তর কি আপনি জানেন? তাই সক্রেটিসের মত করে বলুন, Know Thyself- নিজেকে জানুন।

 আপনি কি চান তা জানেন না :
আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি, যা চাই তা পাই না। এটা একটা কমন অভিযোগ। আমি বলব, আপনার চাওয়াটাকে কখনো সংজ্ঞায়িত করেছেন? কখনো কাগজে লিখেছেন? ওটা নিয়ে কত সময় ব্যয় করেছেন? কয়টা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি না হয় তাহলে একথাই ঠিক! আপনি কি চান তা আপনি জানেন না।

 লোভ :
লোভ একটা ভয়ানক ব্যাধি। লোভের কারনে পূর্বপর সমস্যা সম্ভাবনা বিচারবোধ হারিয়ে যায়। নিজের ভেতরে একটা তাড়াহুড়ো কাজ করে। যার কারনে সত্য-মিথ্যা চোখে পড়ে না। এ পর্যায়ে নিজকে খুব চালাক মনে হয় কিন্তু দিনের শেষে সে নিজের সাথে নিজেই প্রতারনা করে।

 নতুন কিছু শিখতে না চাওয়া :
শেখাটা খুব সহজ। ভুলাটা কঠিন। আপনি শত চেষ্টা করেও আপনার নিজের নাম ভুলতে পারবেন না। কিন্তু আমরা শেখার মত সহজ একটা বিষয়কে কত জটিল করে রেখেছি। সবজান্তা ভাব ধরে বসে আছি। সহজেই আমরা আমাদের খোলস বদলাতে চাই না। নতুন কিছু শিখতে গেলেইতো মানুষ জেনে যাবে আমি কিছু জানি না। গোমর ফাঁস হয়ে যাবে। আমি ছোট হয়ে যাব। কি অদ্ভুত চিন্তাধারা। আর এতে তৈরী হয় এক বিরাট শুন্যতা।

 কোন মতে হলেই বাঁচি :
দৈনন্দিন জীবনে এই অভ্যেসটা আমাদের কমন একটা বিষয়। কোন মতে হলেই হল। কাঁচাবাজার করতে গেলেন, কোন মতে মাছ-তরকারী নিয়ে এলেন। বাসায় এনে কোন মতেই আর রান্না করে খেতে পারলেন না। কোন মতে টেনেটুনে পড়ালেখা শেষ করলেন। কিন্তু কোন মতেই চাকরী পেলেন না। কোনমতে মটরসাইকেল চালানো শিখলেন কিন্তু ব্রেক কষা শিখলেন না। এরকম হলে কিছু অবশিষ্ট থাকবে আর? তাই এই কোনমতে বেঁচে থাকার নাটক বন্ধ করতে হবে।

 অন্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া :
আমাদের নিজেদের কাজ অন্য কেউ এসে করে দিবে, এটা প্রত্যেকের একটা স্বপ্নে পরিনত হয়েছে। সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব বাব-মার। কিন্তু মানুষ হচ্ছে বুয়ার কাছে। সন্তান কার মত হবে? বন্ধুকে বই কিনে দিলাম। সে পড়ুক। পরীক্ষার হলে একটেবিলে বসে কপি-পেস্ট করে দিব। হবে?
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। পলাশীর যুদ্ধে হেরে নবাব পালানোর প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু এখনো চাকর এসে জুতা পরিয়ে যায়নি। তাই তিনি পালাতে পারছেন না। ওদিকে মীর জাফর এসে পৌঁছে গেছে। বাকীটা ইতিহাস। তাই পরনির্ভরশীলতা একটি জঘন্য ব্যাপার।

 ফ্রি পাওয়ার মানসিকতা :
কথায় বলে ফ্রি পেলে বাঙালী আলকাতরাও পকেটে রাখে। কি জঘন্য প্রবচন। বানিজ্যে ফ্রি’র ধারনা সম্পূর্ণ আই ওয়াশ, একটা পলিসি মাত্র। ভাল মন্দ বিচার না করে ফ্রি নিয়ে মত্ত থাকলে বিচারবোধ সংকীর্ণ হয়ে যায়।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:২০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×