সিলেট শহীদ মিনার থেকে: ফাঁসির একদফা এক দাবিতে বুধবারের মতো শেষ হলো সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি। রাত সাড়ে ৭ টায় বক্তব্যে জনপ্রিয় লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন ‘রাজাকারের ন্যায় বিচার হলো ফাঁসি। এই ফাঁসি ছাড়া রাজপথ থেকে তরুণ প্রজন্ম ফিরে যাবে না।’
বুধবার বিকেল ৪টা থেকে চৌহাট্টাস্থ শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কাদের মোল্লাসহ মানবতাবিরোধী সব অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে কয়েক শ’ সংস্কৃতিকর্মীসহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছে ছাত্র জনতা।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়দিনের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে বিকেল ৪ টায়। এসময় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অনেকেই সংহতি প্রকাশ করবেন বলে বক্তব্যে জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘‘তরুণ সমাজ নিজেই জেগে ওঠেছে। তরুণরা নিজেরাই ঠিক করেছে কি করতে হবে? একাত্তরেও এমনটি হয়েছিলো। কাউকে বলে দিতে হয়নি।”
তিনি বলেন, “রায় ঘোষণার পর আমার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। মনে হতাশা জমেছিলো, ক্ষোভ জেগেছিলো। এখন মনে দুঃখ নেই হতাশা নেই তবে ক্ষোভ আছে।”
তিনি বলেন, দু:খ নাই এজন্য যে রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে আমার দেশের তরুণ প্রজন্ম। একাত্তরের এই তরুণরাই দেশ স্বাধীন করেছিলো। ৫২ সালেও বলে দিতো হয়নি তাদের কি করতে হবে? তখন তারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলো।
৭৯-ও তারা জেগে ওঠেছিলো।
তিনি আন্দোলনরত সারা দেশের তরুণদের উদ্দেশ্য চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘‘এখন তোমারা যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তোমাদের পিছনে পিছনে যাবো। তোমরা আমাদের রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ উপহার দাও, কলংকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দাও’’।
‘‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলো ন্যায় বিচার। আর ফাঁসি ছাড়া সকল তরুণ যেন রাজপথ ছেড়ে না যা,” আহাবান জানান তিনি।
এছাড়া সন্ধ্যায় সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা সিকান্দর আলী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন লস্কর ময়না, বিএমএর কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।
এর আগে বিকেল থেকে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে রাস্তায় বসে বসে ফাঁসির দাবিতে সেøাগান, গণসংগীতে নেতৃত্ব দেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিনী প্রফেসর ইয়ামসিন হক। রাত ৮ টায় অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় আবার সমবেত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


