খালেদা জিয়া এক সমাবেশে বলেছিলেন, আরও লাশ দরকার । সংখ্যা টা বলেন নাই । ২০০৮ এর ভরাডুবির পর বিধ্বস্ত এই রাজনৈতিক দলের মাজা ভেঙ্গে দিয়েছে তারেক জিয়া আর কোকো । বৃদ্ধ হলে যেমন মানুষ কুঁজো হয়ে পরে, মাথা নুয়ে পরে - তেমনই হয়েছে বিএনপি এর অবস্থা । যখন যেভাবে পারে সেভাবেই অন্যজনের কাছে মাথা নুইয়ে স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত ।
কয়দিন আগে দেখলাম আমরা হেফাজতে ইসলামের জন্য তাদের প্রেম । রাস্তায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে পানি দেয়া, তরমুজ খাওয়ানো । পরে যদিও এই ইনভেস্ট পুরোটাই বৃথাগেছে । তারা আশা করেছিলো একটা গেঞ্জাম লাগিয়ে এখান থেকেই সরকার পতনের সূচনা করতে । হেফাজত খেয়েছে, কিন্তু কথা শোনে নাই । কোন লাশ পরে নাই সেই আন্দোলনে । যে খালেদা জামাতের জন্য লাশ চেয়েছিল, সে লাশ না পেয়ে দুঃখ পেয়েছে বৈকি ।
এখন সাভারের ঘটনা । আরেকবার লাশের স্তুপ দেখল বাংলাদেশ । খালেদা জিয়া ছুটে গেলেন । ভেবেছিলাম, বাহ ! আজ জাতি এক কাতারে দাড়িয়ে আছে । সবাই সাহায্যের জন্য ছুটে গিয়েছে । বাট, খালেদা তার চাল শুরু করলেন সাভার থেকে ফিরে এসেই । সেনাবাহিনীর ভয় দেখিয়েছিলেন তিনি এক বক্তৃতায় । তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, সেনাবাহিনী তার কথায় অভ্যুত্থান করবে । এগেইন বেচারি আশাজনক ফল পান নাই । সেনাবাহিনীর উপর রাগ থাকা তাই স্বাভাবিক । এই ক্ষোভ আর রাগ কে জনগনের ভেতর ছড়িয়ে দেয়ার একটা প্রচেষ্টাও তিনি করলেন বা করালেন । তার দলের বেশ কয়জন নেতা বললেন, সেনাবাহিনী কাজ করছেনা । সরকার উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে ব্যর্থ । সাধারণ জনগনকে খেপিয়ে তুলতে যে চেষ্টা করলেন, তাতে হয়তো একটু হলেও সফলতা লাভ করেছিলো । কিন্তু, শেষ ঘন্টা গুলায় একটু পরপর জীবিত মানুষের সন্ধান এবং তাকে উদ্ধার করা দেখে সেই জনগনই আবার সেনাবাহিনী সহ উদ্ধারকারী সবাইকে ধন্যবাদ দিতে শুরু করলেন ।
বিএনপি এর অনেক ব্যবসায়ী আছে । আছে টাকার কুমীর । আচ্ছা, টাকার কথা বাদই দিলাম । আছে ছাত্রদল, জুবদল । তাদের গায়ে কি রক্ত নাই ? সাহস নাই ? অনেকে হয়তো বেক্তিগত উদ্যোগে শাহাবাগে রক্ত দিয়েছেন অথবা জাহাঙ্গীর নগরের ছাত্রলীগ এর সাথে গিয়ে কাজ করেছেন । কিন্তু, দলীয় কোন নির্দেশ দেয়া হল না । কিন্তু, হেফাজতের লং মার্চ এ এদেরকেই দাড় করিয়ে রাখা হয়েছিলো ।
আওয়ামীলীগ এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মহিউদ্দিন খান আলমগির সাহেবের ঝাঁকি তত্ত্ব দেবার পর ওই প্রতিযোগিতায় যোগ দিলেন বিএনপি ও তার শরীক দলের নেতারা । তাদের কয়েকদিনের বক্তৃতা বা প্রেস ব্রিফিং কালেক্ট করে পড়ুন বা শুনুন । দেখুন, সরকার পতনের ডাক সরাসরি না দিলেও, আন্দোলন করার ডাক ঠিকই দিয়েছেন । শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে ক্ষমতায় যাবার আরেকটা চান্স নিতে চায় বিএনপি ।
প্রথমে জামাত, এরপর হেফাজত আর এখন শ্রমিক ভাইদের নিয়ে আন্দোলন । একটা আন্দোলনেও জনগনের কথা বা আশার প্রতিফলন হয় না প্রতিফলিত হয় সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর । বিএনপি কি নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছে ? আর আছে ৭ থেকে ৮ মাস । এই কয়দিন সবুর হয় না কেন তাদের ?
লাশের স্তুপ বেড়েছে সাভারে । সাথে বেড়েছে জীবন্ত মানুষের সংখ্যাও । আরেকবার বিএনপি ছেঁকা খেলো । শ্রমিকদের রাগ ক্ষোভ কে শ্রমিক অসন্তোষে পরিনত করার জন্য কম চেষ্টা করে নাই তারা । বারবার বলেছে, রানাকে সরকার দেশ থেকে বিদায় করে দিয়েছে । সরকারের সাহায্যে রানা পালিয়েছে । কিন্তু, রানা গ্রেফতার হবার পর সেই মুখেও কালিমা লেগেছে ।
শেষ বাঁশী বাজিয়েছে বিএনপি নেতা মউদুদ আহমেদ । আপনার অবগতির জন্য বলি, এই সুবিধাভোগী নেতা বাংলার রাজনীতিতে সব থেকে বেশী সুবিধা লাভ করেছে । আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আবার বিএনপি - যখন যেমন সুবিধা । শ্রমিকদের সেন্টিমেন্ট আর দারিদ্রতাকে পুঁজি করার একটা প্রচেষ্টা তিনি করছেন । প্রতি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি । তবে, সেটা এখন না । ক্ষমতায় যাবার পর ।
মনে করিয়ে দেই, ২০০৫ সালে স্পেকট্রাম আর ২০০৬ এ ফিনিক্স এ দুর্ঘটনায় ৮৫ জন এবং ২৫ জন শ্রমিক মারা যায় । তৎকালীন সরকার ( বিএনপি ) শ্রমিকদের দুটি করে ছাগল দিয়েছিলো । হয়তো, তখনো তাদের বাজেট ছিল ২০ লাখ কিন্তু, এই ২০ লাখ টাকা দিয়ে দুইটির বেশী ছাগল কিনতে পারেন নাই তারা ।
আর বিচার !! ভুলে যান । কোন ধরনের মামলাও হয় নাই সেই মালিকদের নামে । তদন্ত প্রতিবেদন গায়েব হয়ে গিয়েছে সেকালেই । মউদুদ সাহেবের বয়স হয়েছে । অনেক কিছুই ভুলে গেছেন তিনি । তবে সাহেব, মানুষের কাছে ২০ লাখ টাকার চেয়ে স্বজনের জীবন বেশী দামি । এই টাকা দিয়ে কি পারবেন শ্রমিকদের আন্দোলনে নামাতে ? শ্রমিকরা হয়তো আন্দোলন করবে, করাই উচিৎ । কিন্তু, সেই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রুপ দেয়ার চেষ্টা করবেন আপনারা ।
২ তারিখে হরতাল দিয়েছেন এরই মধ্যে । ইস্যু কি ? সরকার উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে, যা করেছে - আর যাই হোক সরকার উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ব্যর্থ না । চিকিৎসার বেবস্থা করা হয়েছে । প্রতিমাসে ১০০০০ টাকা দেয়ার ঘোষণা এসেছে । রানা সহ বাঁকি গার্মেন্টস মালিক, এমনকি রানার বাবাকেও গ্রেফতার করেছে ।
ঠিক কোন কারনে আপনারা হরতাল দিলেন টা আমার বোধগম্য হল না । আমি এতোটা বোকা না যে ইস্যু বুঝতে পারবো না । ২ তারিখের হরতালের সাথে আসলে সাভারের ঘটনার কোন লিঙ্ক ই নাই । আপনারা বেশ কয়দিন হরতাল দেন না । তাই গলা চুল্কাচ্ছিল । জনগনের জন্য আপনাদের এই হরতাল না, হলে ঠিক কোন কারনে হরতাল সেটা বলতেন ।
২০০৮ থেকে ২০১৩ । একটুও বদলান নাই আপনারা । এখনো মাথা নিচু করে আছেন । লজ্জা পাচ্ছেন একক কোন আন্দোলনে নামতে । সব সময় একটা ইস্যুর জন্য অপেক্ষা করেন । অপেক্ষা করেন লাশের জন্য । এই লাশের জাগায় নিজের পরিবারের কারো লাশ চিন্তা করে দেখবেন প্লিজ ?? অবশ্য আমার খুব কম মনে হয় যে নিজের কাছের কারো লাশ দেখলে আপনারা চেঞ্জ হবেন ।
কারন, Cola de perro no es recta ।
যাহোক, আজকে আপনাদের গলা শুনতে পাই নাই কোন টিভি তে বা কোন চাপাবাজি নিউজ পেলাম না । জাতি একটু হলেও এখন স্বস্তিতে আছে । জাতিকে বিভ্রান্ত করা থেকে দূরে থাকুন । শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করলে যখন শ্রমিক ভায়েরাই উল্টা বারি শুরু করবে, তখন পালাবার পথ পাবেন না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





