somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক বনায়ন

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরিবেশের ভারসাম্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
অজিত কুমার রুদ্র, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহী

রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগ গঠিত। রাজশাহী, নাটোর মিলে একটিসহ মোট তিনটি সামাজিক বনায়ন জোন অফিসের অধীনে আটটি এসএফএনটিসি, দুটি রেঞ্জ ও ৩১টি এসএফপিসির মাধ্যমে এর বনায়ন কার্যক্রম বিস্তৃত। আশির দশকে জনসাধারণের মধ্যে বিনামূল্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে এখানে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের গোড়াপত্তন হয়। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় জনসাধারণের অভূতপূর্ব সহযোগিতায় বনায়ন কার্যক্রম আজ ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। সংযোগ সড়ক, সওজ, রেলপথ, খাঁড়ির ধার, চরভূমি সর্বত্র প্রান্তিক ভূমিতে সবুজে সবুজে ঢাকা পড়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কটি যেন গহিন অরণ্যে প্রবেশের সুড়ঙ্গ পথ। শুধু তাই নয়, এসব বৃক্ষের আর্থিক মূল্যও অনেক। রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতায় এ পর্যন্ত স্ট্রিপ (সংযোগ, সওজ, বাঁধ) বাগান সৃজন ১২১৩.০ কিলোমিটার, উডলট বাগান সৃজন ৩০০.৫৭ হেক্টর, গালিজ বাগান সৃজন ২০০.০ কিলোমিটার, বাঁশবাগান সৃজন ১২৫.০ হেক্টর, বেতবাগান সৃজন ৬৪.০ হেক্টর, চর বনায়ন ২৭১.৩৩ হেক্টর, আমবাগান সৃজন ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৬টি, খয়েরবাগান সৃজন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২২টি, লাক্ষা (কুল)) বাগান সৃজন ১ লাখ ১০ হাজার ৮৮৯টি, প্রান্তিক ভূমি বনায়ন ৯১.০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় আবর্ত (উডলট) বাগান সৃজন ২৩৭.০৪.০ হেক্টর, দ্বিতীয় আবর্ত (স্ট্রিপ) বাগান ২৩৩.২০ কিলোমিটার সৃজন করা হয়েছে। ওই বনায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ২২ হাজার ১৮৭ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ৫০৩ জন মহিলা উপকারভোগী সদস্য। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় ২১৭টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ হাজারটি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। 'জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সারাদেশে ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে চারা উত্তোলন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান/জনসাধারণের মাঝে এ পর্যন্ত ২৮ লাখ ৪ হাজার ৩১০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নের আওতায় সৃজিত বাগানগুলো মেয়াদ শেষে কর্তনপূর্বক বিক্রয়লব্ধ অর্থের সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুসারে লভ্যাংশ বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী (স্ট্রিপ বনায়নের ক্ষেত্রে ৫৫% ও উডলট বনায়নের ক্ষেত্রে ৪৫%) ২ হাজার ৭৯৯ জন (পুরুষ ১ হাজার ৯৮৪ ও মহিলা ৮১৫ জন) উপকারভোগীর মধ্যে মোট ১৬,৩১,৬২,৭৩৬.৬৪ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০১৩-১৪ আর্থিক সালেই নওগাঁর পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় মোট ২৮২ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,৩৪,৪৫,২৪৮ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়। ধামইরহাট বিট অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত লভ্যাংশ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চেক বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ শহীদুজ্জামান সরকার। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিতকুমার রুদ্র। পত্নীতলা উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৮৪ টাকার চেক পান। মো. মোহরাব আলী পান ৮ লাখ ১২ হাজার ১২ ও মো. কামরুজ্জামান ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪১ টাকা।
শুধু তাই নয়, এ বন বিভাগ এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৬৮ লাখা ৮৬ হাজার ৪১০ টাকা রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। আশার বিষয়, রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে চলতি আর্থিক সালে এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র শিল্প লাক্ষার পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। রাজশাহী শহরে বাংলাদেশ বেতার রিলে স্টেশন এলাকায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সৃজিত ৪ হাজার লাক্ষা পোষক কুল গাছ থেকে লাক্ষা আহরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।পরিবেশের ভারসাম্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
অজিত কুমার রুদ্র, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহী

রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগ গঠিত। রাজশাহী, নাটোর মিলে একটিসহ মোট তিনটি সামাজিক বনায়ন জোন অফিসের অধীনে আটটি এসএফএনটিসি, দুটি রেঞ্জ ও ৩১টি এসএফপিসির মাধ্যমে এর বনায়ন কার্যক্রম বিস্তৃত। আশির দশকে জনসাধারণের মধ্যে বিনামূল্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে এখানে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের গোড়াপত্তন হয়। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় জনসাধারণের অভূতপূর্ব সহযোগিতায় বনায়ন কার্যক্রম আজ ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। সংযোগ সড়ক, সওজ, রেলপথ, খাঁড়ির ধার, চরভূমি সর্বত্র প্রান্তিক ভূমিতে সবুজে সবুজে ঢাকা পড়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কটি যেন গহিন অরণ্যে প্রবেশের সুড়ঙ্গ পথ। শুধু তাই নয়, এসব বৃক্ষের আর্থিক মূল্যও অনেক। রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতায় এ পর্যন্ত স্ট্রিপ (সংযোগ, সওজ, বাঁধ) বাগান সৃজন ১২১৩.০ কিলোমিটার, উডলট বাগান সৃজন ৩০০.৫৭ হেক্টর, গালিজ বাগান সৃজন ২০০.০ কিলোমিটার, বাঁশবাগান সৃজন ১২৫.০ হেক্টর, বেতবাগান সৃজন ৬৪.০ হেক্টর, চর বনায়ন ২৭১.৩৩ হেক্টর, আমবাগান সৃজন ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৬টি, খয়েরবাগান সৃজন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২২টি, লাক্ষা (কুল)) বাগান সৃজন ১ লাখ ১০ হাজার ৮৮৯টি, প্রান্তিক ভূমি বনায়ন ৯১.০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় আবর্ত (উডলট) বাগান সৃজন ২৩৭.০৪.০ হেক্টর, দ্বিতীয় আবর্ত (স্ট্রিপ) বাগান ২৩৩.২০ কিলোমিটার সৃজন করা হয়েছে। ওই বনায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ২২ হাজার ১৮৭ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ৫০৩ জন মহিলা উপকারভোগী সদস্য। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় ২১৭টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ হাজারটি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। 'জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সারাদেশে ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে চারা উত্তোলন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান/জনসাধারণের মাঝে এ পর্যন্ত ২৮ লাখ ৪ হাজার ৩১০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নের আওতায় সৃজিত বাগানগুলো মেয়াদ শেষে কর্তনপূর্বক বিক্রয়লব্ধ অর্থের সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুসারে লভ্যাংশ বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী (স্ট্রিপ বনায়নের ক্ষেত্রে ৫৫% ও উডলট বনায়নের ক্ষেত্রে ৪৫%) ২ হাজার ৭৯৯ জন (পুরুষ ১ হাজার ৯৮৪ ও মহিলা ৮১৫ জন) উপকারভোগীর মধ্যে মোট ১৬,৩১,৬২,৭৩৬.৬৪ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০১৩-১৪ আর্থিক সালেই নওগাঁর পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় মোট ২৮২ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,৩৪,৪৫,২৪৮ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়। ধামইরহাট বিট অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত লভ্যাংশ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চেক বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ শহীদুজ্জামান সরকার। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিতকুমার রুদ্র। পত্নীতলা উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৬৫ হাজার ২৮৪ টাকার চেক পান। মো. মোহরাব আলী পান ৮ লাখ ১২ হাজার ১২ ও মো. কামরুজ্জামান ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪১ টাকা।
শুধু তাই নয়, এ বন বিভাগ এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৬৮ লাখা ৮৬ হাজার ৪১০ টাকা রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। আশার বিষয়, রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে চলতি আর্থিক সালে এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র শিল্প লাক্ষার পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। রাজশাহী শহরে বাংলাদেশ বেতার রিলে স্টেশন এলাকায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সৃজিত ৪ হাজার লাক্ষা পোষক কুল গাছ থেকে লাক্ষা আহরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×