somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাজমুল৪৮৫৭
আমি সত্য অন্বেসী। সত্য বলতে দ্বিধা করি না। সত্যের জন্য লড়াই করি।এতে কারো এলার্জি হইলে আমার কিছু করার নাই।

বাদামী গাছ ফড়িং একটি ক্ষতিকর পোকার নাম!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঠে মাঠে এখন আমন ধান লাগানো হচ্ছে । কিছু দিন পর গজে উঠবে নতুন সবুজ ধান । সবুজ এ ধানের অন্যতম শত্রু বাদামী গাছ ফড়িং। এরা পাতার খোল, পাতা ও পাতার মধ্যশিরার ভেতরে ডিম পাড়ে। চার থেকে নয় দিনের মধ্যে ডিম থেকে নিম্ফ বের হয়। প্রথম পর্যায়ে নিম্ফগুলোর রঙ সাদা থাকে এবং পরে বাদামী রঙের হয়। নিম্ফ থেকে পূর্ণবয়ষ্ক ফড়িং এ পরিণত হতে ১৪ থেকে ২৬ দিন সময় লাগে। বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে ধানগাছে কাইচথোড় আসলে এর আক্রমণ বেড়ে যায়। এক জোড়া বাদামী গাছ ফড়িং ৩ থেকে ৪ প্রজন্মে ৩৫ লক্ষ পোকার জন্ম দিতে পারে এবং ৫০০০ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে। এরা শরীরের ওজনের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি খাবার খায়। দ্রুত বংশ বৃদ্ধির কারণে মাঠের পর মাঠ ফসলের ২০ থেকে ১০০% পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে


আক্রমণের লক্ষণ: বাদামী গাছ ফড়িং-এর বাচ্চা ও পূর্ণবয়ষ্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খায়। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যায়। বাদামী গাছ ফড়িং -এর তীব্র আক্রমণে গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে যায়, ফলে দূর থেকে পুড়ে যাওয়ার মত বা বাজ পড়ার মত দেখায়। এ ধরনের ক্ষতিকে ‘হপার বার্ণ’ বলে।

অনুকূল পরিবেশ:১. অধিক সংখ্যক কুশি উত্পাদনশীল উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করলে; ২. জমি অসমতল হলে নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। প্রখর সূর্যের তাপে উক্ত পানি বাষ্পিভূত হয়ে উষ্ণ ও আর্দ্র অবস্থা তৈরি হয় যা বাদামী গাছ ফড়িং -এর বংশবৃদ্ধি ও আক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ; ৩. চারা ঘন করে রোপণ করলে, জমি স্যাঁতস্যাঁতে হলে এবং জমিতে দাঁড়ানো পানি থাকলে; ৪. জমিতে বিকল্প পোষক আগাছা থাকলে; ৫. অসম হারে নাইট্রোজেন সার (ইউরিয়া সার) ব্যবহার করলে; ৬. বাতাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে।

দমনে করণীয়: ১. এলাকার সকল চাষিকে দলবদ্ধভাবে পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে; ২. এ কাজে আইপিএম/আইসিএম ক্লাবসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ৩. প্রতি ব্লকে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে সচেতনা সৃষ্টি এবং বাদামী গাছ ফড়িং দমনের কলাকৌশল কৃষকদের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে; ৪. বীজতলায় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে, সে জন্য নিয়মিত বীজতলা পরিদর্শন, আলোর ফাঁদ পেতে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে হবে; ৫. জমির আইল পরিস্কার রাখতে হবে; ৬. পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। আক্রান্ত জমির পানি সরিয়ে দিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন জমি শুকনো রাখতে হবে; ৭. আক্রান্ত জমিতে ২ থেকে ৩ হাত দূরে দূরে ‘বিলিকেটে’ জমিতে সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. শুধুমাত্র ইউরিয়া ব্যবহার না করে সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ব্যবহার করতে হবে। ইউরিয়া কম ব্যবহার করতে হবে (ধাপে ধাপে ব্যবহার করতে হবে); ৯. বালাই সহনশীল জাতের (ব্রিধান ৩১, ব্রিধান ৩৫, বিনা ধান ৬) চাষ করতে হবে; ১০. জমিতে হাঁস ছেড়ে পোকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ১১. স্বল্প জীবনকালীন ফসলের চাষ করতে হবে এবং আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে; ১২. চারা ঘন করে না লাগিয়ে সারি থেকে সারি ২৫ থেকে ৩০ এবং চারা থেকে চারা ২৩ থেকে ২৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করতে হবে; ১৩. সন্ধ্যাবেলা আক্রান্ত জমি থেকে একটু দূরে আলোর ফাঁদ জ্বালিয়ে পোকা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে; ১৪. প্রতি গোছায় ২ থেকে ৪টি গর্ভবতী বাদামী গাছ ফড়িং বা ৮ থেকে ১০টি নিম্ফ দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ধান গাছের গোড়ার দিকে ভালভাবে সেপ্র করতে হবে; কিন্তু গাছে যদি একটি করে মাকড়সা থাকে তবে কীটনাশক ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×