খবরটা চমকে দেওয়ার মতোই। দুই তারকা ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার ও রবি শাস্ত্রী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তাতে কোনো বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিতর্কটা দানা বেেঁধছে। সমস্যাটা হচ্ছে, তাঁদের বিসিসিআই চুক্তিবদ্ধ করেছে এই কারণে যেন তাঁরা ভারতের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর সময় ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অনুযায়ী কথা বলেন!
কিছুদিন আগে ট্রেন্টব্রিজ টেস্ট চলার সময় ইংলিশ ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেনের সঙ্গে ইউডিআরএস (রেফারেল পদ্ধতি) নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন রবি শাস্ত্রী। রবি শাস্ত্রীর প্রতিটি কথাতেই প্রকাশিত হয়ে পড়ছিল ইউডিআরএস নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মনোভাবটিই। এটা তো সবাই জানে, অনেক দিন ধরেই ইউডিআরএসের বিরোধিতা করে আসছে বিসিসিআই। শাস্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কের একপর্যায়ে নাসের হুসেনের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তিনি বলেই বসেন, ‘এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য দেওয়ার জন্যই টিভি চ্যানেল আমাকে টাকা দিচ্ছে।’
ভারতের মুম্বাই মিরর পত্রিকায় বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে গাভাস্কার ও শাস্ত্রীর টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি প্রথম প্রকাশিত হয়। টিভি ধারাভাষ্যের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য সুকৌশলে নিজেদের বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে রীতিমতো মোটা অঙ্কে চুক্তিবদ্ধ তাঁরা। এই চুক্তির অঙ্কটা কোটি ছুঁয়েও অনেক দূর এগিয়েছে। বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে এ বাবদ গাভাস্কার ও রবি শাস্ত্রী প্রত্যেকেই বছরে আয় করেন সাড়ে তিন কোটি রুপি। এ ব্যাপারে মুম্বাই মিররকে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্তা। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, রবি শাস্ত্রী ও সুনীল গাভাস্কার বিসিসিআইয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। চুক্তিতে রয়েছে, টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার হিসেবে তাঁরা এমন কিছু কোনো দিনই বলবেন না, যা বিসিসিআইয়ের নীতিমালা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।’
পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, বিসিসিআই ভারতের বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচে সুনীল গাভাস্কার ও রবি শাস্ত্রীকে ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিতে রীতিমতো সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে। ভারতের মাটিতে খেলা হলে তো আর কোনো কথাই নেই। চুক্তির ধারার মধ্যেই থাকে এই দুজনকে ধারাভাষ্য টিমে নেওয়ার কথাটি। এমন একটি চুক্তি নাকি আরেক জনপ্রিয় ভাষ্যকার হর্ষ ভোগলের সঙ্গেও বিসিসিআই করেছিল। তবে সেটা ছিল অপেক্ষাকৃত কম টাকার। বিশেষ কারণে অবশ্য সেই চুক্তিটি বাতিল করা হয়।
ব্যাপারটি সুনীল গাভাস্কার ও রবি শাস্ত্রী অবশ্য অস্বীকার করেননি। বরং তাঁরা এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না। রবি শাস্ত্রী সোজা-সাপটাই বলেছেন, ‘এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এই চুক্তি আমার জন্য সহায়কই হয়েছে। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে ধারাভাষ্য দেওয়ার ব্যাপারটি অবশ্য উড়িয়েই দিয়েছেন শাস্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমি কী ধরনের ধারাভাষ্য দিই, তা সবাই জানে। ১৮ বছর ধরেই জানে। ক্রিকেট নিয়ে আমার নিজের বক্তব্যই স্বাধীনভাবে আমি দিয়ে থাকি। কারও স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্নই ওঠে না।’
সুনীল গাভাস্কারও রবি শাস্ত্রীর মতোই কারও স্বার্থ রক্ষা করে টেলিভিশনে ধারাভাষ্য দেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক কাজের ব্যাপারেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব হতে পারে। তবে আমি যেটা বলতে চাই তা হলো, ধারাভাষ্যকার হিসেবে আমি কখনোই এমন কিছু বলি না, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা হয়।’
এদিকে ভারতের অন্যান্য ধারাভাষ্যকার এ ব্যাপারটি নিয়ে বেশ বিব্রত। মুম্বাই মিররকে অবশ্য তাঁরা সরাসরি নাম প্রকাশ করে কিছু বলেননি। তবে একজন জানিয়েছেন, তিনি একটি টেলিভিশন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া তাঁর জীবনবৃত্তান্তে লিখেছেন যে তিনি কোনো ব্যাপারেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন। বরং সম্প্রচার সংস্থাটি তাঁকে তাদের ধারাভাষ্য প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে তাঁর ‘সৎ’ ও ‘পক্ষপাতহীন’ মন্তব্যের জন্য।
ref : prothom alo

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



