তোলপাড় এক ছবির কাহিনী
শংকর কুমার দে ॥ হরতালের সময়ে এক শিবিরকর্মী মাটিতে শুইয়ে তার বুকে পুলিশ কর্মকর্তার পা দিয়ে আটকে রাখার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কি কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শিবিরকর্মীর বুকে পা তুলে চেপে ধরে তদন্তে সে কাহিনীও বের হয়ে এসেছে।
জানা গেছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আবু হাজজাজ। মতিঝিল পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর গত মাসে হিযবুত তাহ্রীরের তিন সদস্য আটক করার সময়ে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছিল। তখন তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সোমবার শিবিরের জঙ্গী মিছিল থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুই শিবিরকর্মীকে আটক করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া শিবিরকর্মীকে পা দিয়ে আটকে রখে। এই আটক রাখার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে।
তদনত্মে বের হয়ে এসেছে, হরতালের দিন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা থেকে একটায় ঘটেছে এই ঘটনাটি। মতিঝিলের ইউনুস সেন্টারের পশ্চিম পাশের একটি গলির ভেতর থেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি লাঠিসোটাধারী জঙ্গী মিছিল বের হয়। মারমুখী মিছিলটি কর্তব্যরত পুলিশের দিকে এগিয়ে আসছিল। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ছিলেন মতিঝিল পুলিশের প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর আবু হাজজাজ। শিবিরের জঙ্গী মিছিলকে ধাওয়া দেয়ার সময়ে আবু হাজজাজ দুই শিবিরকর্মীকে ধরে ফেলেন। দুই হাতে যে দুই শিবিরকর্মীকে ধরে ফেলেন তাদের নাম হচ্ছে ইয়াসিন ও ইউসুফ।পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াছিনকে ধরেন বাঁ হাতে এবং ইউসুফকে ধরেন ডান হাতে। বাঁ হাতে ইয়াছিনকে ধরার পর ডান হাতে ধরা পড়া ইউসুফ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময়ে পুলিশ কর্মকর্তার হাত থেকে ফসকে যায় ইউসুফ। পুলিশ কর্মকর্তা তাকে পা দিয়ে ল্যাং মারার সময়ে সে মাটিতে পড়ে যায়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তার বুকে পা তুলে তাকে আটকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা। আরেক হাতে আটকে রাখা ইয়াছিনকে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশ দল আটক করে নিয়ে যায়। ইয়াছিনকে আটক করে মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
ইয়াছিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী সাহিত্য বিভাগের ছাত্র। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব বিভাগের সভাপতি। হরতালের আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গলির ভেতর থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের যে মিছিলটি পুলিশের ওপর আক্রমণ, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর, অগি্নসংযোগসহ রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনে ভাংচুর, অগি্নসংযোগ করা হয় তার নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ইয়াছিন। ইয়াছিনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে সে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ইউসুফের বুকের ওপর পা দিয়ে চাপা দিয়ে আটকানোর ওই দৃশ্যটি ফটোসাংবাদিকরা ক্যামেরাবন্দী করেন। এ ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় শুরম্ন হয়। শুরম্ন হয় তদনত্ম।
যে ইউসুফ আলীর বুকের ওপর পা তুলে তাকে চাপা দিয়ে আটক করা হয় সে শিবিরকর্মী। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদরের ব্যাঙ্গামারী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে তার বর্তমান ঠিকানা। ইউসুফ আলী সক্রিয় শিবিরকর্মী।
পুলিশ কর্মকর্তা যখন ইউসুফ আলীকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় বুকে পা দিয়ে আটকায় তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের ফটোগ্রাফার। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে শুধু শিবিরকমর্ীর বুকে পুলিশ কর্তার পা দিয়ে রাখার অংশটুকু কৌশলে ক্যামেরাবন্দী করেন এবং তা বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সরবরাহ করেন। সরবরাহ করা ছবিটিই পরবর্তীতে বিভিন্ন দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে ছাপা হয়। তারপর জিকির ওঠে পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টি।
পুলিশ কর্মকর্তা আবু হাজজাজ গত ১৩ আগস্ট নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের জঙ্গী মিছিল থেকে তিন হিযবুত সদস্যকে গ্রেফতার করেন। তখন তাকে লাঠিসোটাধারী হিযবুত তাহ্রীর ক্যাডাররা মাথায় আঘাত করে ওই হিযবুত সদস্যদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন তিন হিযবুত তাহ্রীর সদস্যকে আটক করতে গিয়ে মাথা ফেটে গিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল ওই পুলিশ কর্মকর্তার। গুরম্নতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে স্থানানত্মর করা হয় পুলিশ হাসপাতালে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, পুলিশ সদর দফতরের ডিসি হাবিবুর রহমান আহত হাজজাজকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। গত ১৩ আগস্টে হিযবুত সদস্যদের হাতে আহত হওয়ার ঘটনার কথা মনে করে এই পুলিশ কর্মকর্তা হরতালের দিন যাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরকর্মীরা তার হাত থেকে ছুটে যেতে না পারে সেই জন্য মাটিতে পড়ে যাওয়া শিবিরকর্মীকে আটকাতে তার পা ব্যবহার করেন। কিন্তু বাদসাধে ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দী ছবি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা শনিবার দৈনিক জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, মানবাধিকার সংগঠনের ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশ যাঁরা বিএনপি-জামায়াত ঘরানার তাঁরা প্রকৃত ঘটনাটিকে আড়াল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জিকির তুলছেন। কিন্তু এই পুলিশ কর্মকর্তাকে সেদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুতের জঙ্গীরা মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেদিন কোন মানবাধিকার কমর্ীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত_শিবিরকর্মী-ক্যাডারদের আটকের ঘটনায় সেখানে পুরস্কৃত হওয়ার কথা সেখানে তাকে তিরস্কৃত করার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন অনেক জামায়াতী বুদ্ধিজীবী। এভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কারের বদলে তিরস্কৃৃত করা হলে রাজপথে রাজনৈতিক মিছিলের নামে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তায়নের ঘটনা উৎসাহিত হবে বলে জানান ওই ডিএমপি কর্মকর্তা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি (সাউথ) মোঃ মনিরম্নল ইসলাম শনিবার দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, কোন পরিস্থিতিতে কি কারণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হরতালের সময়ে একজন পিকেটার মাটিতে পড়ে থাকার সময়ে তার বুকে পা দিয়ে রেখেছেন সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Bapok moja pailam ............................ deklam telapoka r bollo hati >>>>>>>>>>>>>>>>>>
Click This Link
yellow jouralism
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



