somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরিয়ান চলচ্চিত্র - A Man Who Was Superman

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন চমৎকার মানুষ পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে ,সমাজকে চমৎকারভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে । তার জন্যে পরিবেশটা চমৎকার হতে হয়না , চমৎকার জায়গাও হয়ত লাগেনা । সমস্যায় জর্জরিত মুহূর্তগুলোকে সুন্দরভাবে সমাধান করে দেয়ার চেষ্টায় থাকে এ ধরণের মানুষ । এ ধরণের মানুষকে সমাজে কেউ “ সুপারম্যান” বলেনা , কিন্তু তারা সুপারম্যান এর মতন মানুষের উপকার করতে যেন খুব ভালোবাসে । দেশ - সমাজভেদে প্রতিটা স্থান , প্রতিটা জায়গায় এরকম কিছু মানুষের উপস্থিতি সমাজকে সুন্দর রাখে । সমাজের অন্য আট-দশজন মানুষ বাঁচার স্বাদ পায় সুপারম্যানের মতন কাজ করা এ মানুষগুলোর জন্যে , তখন ভেতর হতেই নিজের মনে সেই মানুষগুলোরও ভালো কাজ করতে ইচ্ছে হয় ।

ছোটবেলার গল্প কিংবা রুপালি পর্দার সুপারম্যান’কে কখনও বাস্তবে দেখা পাওয়া যায়না । কিন্তু যে সমাজে অনেক সমস্যা, মানুষগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্যে কোন দায়িত্বসম্পূর্ণ মানুষের অভাব সেখানে মনের অজান্তে সবাই একজন সুপারম্যান এর আবির্ভাবের আশায় থাকে । কিন্তু গল্প কিংবা রুপালি পর্দার সুপারম্যানকে কি আর দেখা সম্ভব বাস্তবে । এরকম সুপারম্যান পাওয়া সম্ভব না , কিন্তু মানুষগুলোতো নিজেকে সুপারম্যান এর মতন করে ফেলতে পারে । নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে । গল্পের নায়ক নিজেকে একজন সুপারম্যান ভাবতে ভালোবাসে ।মানুষের কষ্টগুলো তাকে অনেক ভাবায় । সে বুঝতে চায়না সে মানুষ, একরকম ফ্যান্টাসি ভর করা এ মানুষ নিজের অজান্তেই অনেক অসম্ভব কিছু কাজ করে ফেলে। নিজেকে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই খুব ভালোবাসে , কিন্তু তার থেকেও খুব বেশি করে ভালোবাসে এ মানুষটি তার চারপাশের মানুষদের ।

নিজেকে সুপারম্যান ভাবা এরকম একজন মানুষের দেখা পায় একদিন ডকুমেন্টারি ফিল্মমেকার সং সো জং । সমাজের অসংগতিগুলো যখন কোন মানুষের চোখে পরছেনা , যখন কোন মানুষ এসব বিষয় দেখেও এড়িয়ে যাচ্ছে ঠিক এমন মুহূর্তগুলোতে সমাজে একজন মানুষের চেষ্টাগুলো তার কাছে ব্যতিক্রম মনে হতে থাকে । তার কর্মকাণ্ডগুলোর প্রতি আগ্রহ জেগে উঠে তরুণ এ নির্মাতার । তাকে ঘিরেই একটা ডকুমেন্টারি করার সিদ্ধান্ত নেয় । প্রতিটা মুহূর্তে সেই সুপারম্যান এর কাজ দেখে প্রতিনিয়ত বিস্ময় জাগতে থাকে সং সো জং এর । এমন কিছু মুহূর্ত যেখানে ভাবাই যায়না কেউ যাবে ঠিক এরকম অবস্থায় এ সাধারণ মানুষটি কিভাবে যেন সব অসাধারণ রকমের কাজ করতে থাকে ।

“A Man Who Was Superman” চলচ্চিত্রটি হতে পারে কোরিয়ান পরিচালক Yoon-Chul Chung এর কোরিয়ার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সৃষ্টিশীল সৃষ্টিকর্ম , কিন্তু কাল পাত্রভেদে পৃথিবীর প্রতিটা প্রান্ত এরকম সুপারম্যান এর অপেক্ষায় থাকে । কেউ হয়ত বলে মুখ ফুটে কেউ হয়ত বলেনা কিন্তু মানুষের ভেতরের আমি একজন সুপারম্যান এর খোঁজ করে । মাঝে মাঝে চিন্তা করা সেই মানুষ নিজেও একজন সুপারম্যান হিসেবে ভাবতে ভালোবাসে । ছবিটির নাম ভূমিকায় ছিলেন ওয়াং জুন মিন এবং জুন জি হু ।

নির্মাতা লেখক Yoon-Chul Chung সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিশীলতার মাঝে আমাদের আত্নকেন্দ্রিক ভাবনার যুগে নিজেদের ব্যস্ততার কারণে যে আমরা পাশের মানুষটির বিপদে আসিনা কিংবা পাশের বাসার মানুষটির খোঁজ নেই না সেই মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ছবিটির ফ্রেমে বন্দী করেছেন । ২০০৮ সালে তার নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন আমরা কতটা সামাজিকভাবে প্রতিযোগিতায় নেমে গেছি যে আমরা পাশের মানুষটাকে দেখি না কিন্তু একজন সুপারম্যান চাই এরকম কথা কিংবা চিন্তা নিজেদের মনে পোষণ করি এবং বলে বেড়াতে ভালোবাসি যে কেউ একজন এসে এ বিষয়টা ঠিক করলোনা কিংবা এরকম হওয়া উচিত ছিলোনা , কিন্তু নিজেরা কেউ সুপারম্যান হতে চাইনা । প্রতিটা মানুষের মাঝে সুপারম্যান এর মতন কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে এবং একেকজন মানুষ একেকভাবে সমাজটাকে সামনের পথে এগিয়ে নিতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:০৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×