somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবি উপাখ্যান - প্রারম্ভিকা , প্রথম পর্ব

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সূর্য এবং রবির মধ্যে বেশ অনেক সময় ধরে চলছে competition . এই competition এর একটা নিয়ম আছে । আর তা হল যে আগে ঘুম থেকে উঠবে সে হারবে । রবি কখনো এতে হারে না । বরাবরের মত আজও রবিই জিতে গেল । সূর্যকেই আগে উঠতে হল ঘুম থেকে । কেননা তার অনেক কাজ আছে । সে তার দায়িত্ব ঠিকমত পালন না করলে অনেক মানুষের গালাগালি খেতে হবে । দরকার কি ? তার থেকে হারলেও ভাল ।



আরো অনেক অনেক সময় পর আরেক সূর্য রবির ঘুম ভাঙলো । চোখ মেলে তাকাল সে । প্রথমেই বড় একটা হাই তুলল । তারপর চোখ ডলল । এরপর উঠে বসল । পাশেই জানালা । জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল রবি । একটা বাড়ি চোখে পড়ল । এবার নিচে তাকাল রবি । একটা রাস্তা দেখতে পেল । মোটামুটি বড়ই চলে ।আর অনেক আগে থেকেই রাস্তায় মানুষ চলাচল শুরু করে দিয়েছে । রবি মানুষ দেখতে থাকল । তার সাথে আরো দেখল রিক্সা , ভ্যান , গাড়ি , সাইকেল , মটর-সাইকেল , কুকুর , বিড়াল etc . কোন পাখি দেখতে পেলনা , কারন পাখি দেখতে হলে উপরে তাকাতে হবে যাতে রবির বড়ই অনীহা । রবি মানুষই দেখতে থাকল মন দিয়ে । মাঝে মাঝে কিছু সুন্দরি ললনাও চোখে পড়ছিল ।রবির এই সুখ বোধহয় সৃষ্টিকর্তার সহ্য হলোনা । তিনি এমন একটা ঘটনা ঘটালেন যাতে রবির মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ।



রবির মেজাজ খারাপ করা ইহজগতের কঠিনতম কাজগুলির একটি । এই অসাধ্য সাধন করতে পারে অল্প কিছু বস্তু । তারই একটা এখন রবির চোখে পড়েছে । সংক্ষেপে যার নাম corolla , যা একটি গাড়ির নাম । জনপ্রিয় company Toyota এর বানানো Toyota corolla . ঢাকা শহরে corolla দেখতে পাওয়াটা খুব একটা কঠিন কিছুনা । এই গাড়ির নামকরণের কাহিনীও রবি জানে । অন্তত তার তাই ধারণা । ধারণাটা এরকম , যে সকল automobile engineer গণ এই গাড়ির design করেছেন তারা কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় (!) তরকারি করল্লার স্বাদ পেয়েছেন । আর সেই স্বাদে মুগ্ধ হয়ে এই নামকরণ ।



এখন একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন । এই গাড়িতে এমন কি আসে যে এটা দেখলে রবির মেজাজা খারাপ হবে ? কারণ তো নিশ্চয় আছে । ব্যাপারটা অনেকটা এরকম , দেশ এবং বিদেশের নামকরা জ্যোতিষবৃন্দ বলেন যে মানুষের ভাগ্যে খারাপ যা যা ঘটে তার জন্য দায়ী হচ্ছে শনি গ্রহ । শনি গ্রহের প্রভাবেই নাকি সবরকম অমঙ্গল হয় । আর রবির বেলায় এই শনি গ্রহ হল toyota corolla . এই বস্তু যখনই তার সামনে আসে তখন বা ওইদিন কোন কোন একটা অঘটন ঘটবেই ঘটবে । এটা একটা পরিক্ষীত সত্য । এখন , আজ যে রবির পুরো দিনটিই মাটি এ বিষয়ে কারো কোন রকম সন্দেহ থাকা উচিত নয় ।



ক্ষুণ্ণ মনে রবি জানালা থেকে চোখ সরালো । জোরে হাঁক ছাড়ল রবি , “ আবু চাচা ! এক কাপ চা দাও তো । “ না চাইলে যে চা পাওয়া যাবেনা সেটা রবি খুব ভাল করেই জানে ।



চা চাইবার পরপরই রবির মনে পড়ল যে আবু চাচা নেই । মা না বাবা কার অসুখের কথা বলে যেন ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে । যাবার সময় রবির কাছ থেকে কিছু টাকা নিতে মোটেও ভুল করেনি । এখানে বলে রাখা ভালো , আবু চাচা হচ্ছে রবির ফাই-ফরমাশ খাটার একমাত্র লোক । তার সারদিনের কাজ হল সকালে চা বানানানো , দুই বেলার রান্না আর বাকি সময়টা T.V দেখা । কিছুদিন পরপর ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়া তার routine . আর যাবার সময় সবসমইয়ই রবির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে যায় ।



আবারো বিশাল একটা হাই তুলল রবি । বিছানা থেকে নামলো । উদ্দেশ্য , দাঁত মাজা । আয়নার সামনে দাঁড়াল রবি । অনেক সময় নিয়ে নিজের চেহারা দেখল । এরপর brush এ paste লাগালো । তারপর সেটা মুখে পুরলো । অতীত চিন্তায় ডুবে গেল ।



বেশিদিন না । মাত্র ৪ মাস , ১১ দিন আগের কথা । রবি সেদিন রাজপথে বেরিয়েছিল । উদ্দেশ্য আর কিছুই না , একটা চাকরির interview দেয়া । সে ১০০% নিশ্চিত ছিল যে interview board এ হাজির হলেই তার চাক্রি হয়ে যাবে । এত আত্ববিশ্বাসের কারণ আর কিছুই না, board এর যিনি প্রধান , তিনি হচ্ছেন রবির খুব close friend এর এক দুঃসম্পর্কের ভাইয়ের আপন মামার বন্ধু । রবি তার বন্ধুটিকে manage করতে বেশ কিছু টাকা খরচ করে গুলশানের K.F.C তে নিয়ে খাইয়েছে । বন্ধুটি তাকে কথা দিয়েছে যে তার চাকরি হয়ে যাবে ।



রবি বেশ খুশি মনে হাঁটছিল । তার জানা সবচেয়ে নিরাপদ বাহন দুই পা ব্যবহার করে চলছিল সে । আত্ববিশ্বাসের সাথে , দৃঢ় পায়ে । হাঁটতে হাঁটতেই তার চোখে পড়ল সামনে একটা গাড়ি আসছে । গাড়িটা আর কিছুই না । একটা corolla . রবি কিন্তু আজ মোটেও ভয় পায়না । সে থেমে দাঁড়ায় । গাড়িটাকে আসতে দেয় । একসময় গাড়িটা আসে এবং চলেও যায় । রবি সেটাকে দেখল যতদুর দেখা যায় । একসময় গাড়িটা হাওয়া হয়ে গেল । রবি একটা বাঁকা হাসি হেসে আবার তার যাত্রা শুরু করল । সামনের দিকে এগোল । আরে ? ব্যাপারটা কি ? সামনের ওই পিচ্চি ওর দিকে আঙ্গুল তুলে হাসছে কেন ? “ বড়ই বেয়াদপ তো ! ” ভাবল রবি । কিন্তু কিছু বলল না । আবার হাঁটতে শুরু করল । আবার থামতে হল । সামনে একটা ছোঁড়া রবির দিকে তাকিইয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে ! “ সাহস কত ! “ ভাবল রবি । কিন্তু একেও ক্ষমা করে দিল সে । হাজার হোক দয়ার মহাসাগর তো ! আবারো এগোল রবি এবং আবারো বাধা পেল । এবার এক ভদ্রলোককে দেখতে পেল অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখেছেন যিনি । এবার রবি চারপাশে তাকাল । দেখল আশপাশের সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে । সন্দেহ হল ওর । রবি এবার স্বয়ং সবার সাথে যোগ দিল । মানে নিজের দিকে তাকাল আরকি ! “ হায় খোদা ! এটা কি ? “ রবি কে যে চেনাই যাচ্ছেনা ! আসলে বলা ভাল অর dress চেনা যাচ্ছেনা । ওর surf excell দিয়ে পরিষ্কার করা পোষাকের পুরো design পাল্টে গেছে । পোষাকের একপাশে কাদামইশ্রিত বিচিত্র রঙের পানি এসে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে । ফলে পোষাকের দু পাশ দুরকম হয়ে গেছে । রবি বিভ্রান্তের মত চারপাশে তাকায় । রাস্তার দিকে চোখ পড়ে । মুহুর্তেই সব রহস্যের সমাধান হয়ে যায় । আসলে তখন সময়টা ছিল শ্রাবন মাস । সারা মাস কন ব্রিষ্টি না হলেও ওইদিনেই প্রচন্ড রকম ব্রিষ্টি হয়েছিল । ফলে রাস্তায় স্বাভাবিক ভাবেই পানি জমে ছিল । সেই toyota corolla যখন রবিকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় তখন ওই পানির একটা অংশ ওকে উপহার (!) স্বরূপ দিয়ে যায় । আর তাতেই এই অবস্থা । রবি রাগে , ক্ষোভে গাড়ীটাকে গালাগালি করতে থাকে । কিন্তু তাতে আর এখন লাভ কি ? যা হবার তাতো হয়েই গেছে । সব পন্ড । রবি অবশ্য হার মানবার পাত্র নয় । সে ওইদিন ওই পোষাকেই interview দিতে যায় । অবশ্য বলা বাহুল্য মাত্র , সেদিন সেই office এর gate ও পার হতে পারে নি । কোনরকমে মান-সম্মান নিয়ে ফিরে আস্তে পেরেছিল । থাক , সে আরেক গল্প ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×