somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারত বাংলাদেশ কোঃ ফাইনাল এবং আওয়ামী ছাগুদের উভয় সঙ্কট

১৮ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্রিকেট বাংলাদেশে খুব একটা জনপ্রিয় খেলা নয়। ১৯৯২-২০০৩ পর্যন্ত কিছুটা জনপ্রিয়তা ছিল, কিন্তু এর পর পরেই দেশে ক্রিকেট খালার জনপ্রিয়তায় দর্শনীয় ভাটা পড়ে। এর কারণ মূলত আইসিসি এবং ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের বাড়াবাড়ি রকমের খবরদারি। তাই ক্রীড়ামোদী মানুষজন ধরেই নিয়েছে যে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি করা প্রকারান্তরেই ভারতের খবরদারিকেই প্রশ্রয় দেওয়া। ভারত নামক দেশ, এর প্রতিক্রিয়াশীল জনগণ এবং প্রতিবেশীদের উপর মাতবরী ফলানো সরকার - এই সব কিছুই বাংলাদেশের জনগনের কাছ থেকে যুগে যুগে অনেক ঘৃণা যোগাড় করে ফেলেছে।

বর্তমানে দেশে ক্রিকেট খেলা নিয়ে যতটুকু আলোচনা হয় বা এ নিয়ে মানুষ যতটুকু উৎসাহ দেখায়, তার মূল কারণ হল ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে নিজ দেশের অংশগ্রহণ এবং প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন। এই না হলে ক্রিকেট বোধ হয় অনেক আগেই দেশ থেকে বিদায় নিত।

যাই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব আসরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে। আর এই পর্যায়ে তারা সামনে পেয়েছে এদেশের জনগনের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারতকে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী কেন বলছি জানেন? বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশকে পাবার আগে ব্যাপক সংখ্যায় পাকিস্তানকে সমর্থন দিত কেন জানেন? আফ্রিদির রূপ সৌন্দর্য বা শোয়েব আখতারের শক্তিমত্তার জন্য নয় - তার একমাত্র কারণ ছিল ভারত বিদ্বেষ, ভারতের প্রতি ঘৃণা। ওয়ানডের এক একটি ম্যাচে ভারত যখন পাকিস্তানের কাছে নাস্তানাবুদ হত - টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার বয়ে যেত। কেন জানেন? কারণ হল ভারত।
সেই ভারতকে অপদস্ত করার যোগ্যতা এখন বাংলাদেশ নিজেই অর্জন করেছে বলে পাকিস্তানকে কেউ এখন আর লেজ দিয়েও পোছেনা।

তো যা বলছিলাম। ভারতের মুখোমুখি পড়ার কারণে দেশের মানুষের আরেকবার একত্রিত হবার একটা গ্রেট মওকা থুক্কু সুযোগ পাওয়া গেছে। এই খেলায় জিতলে যে সমস্ত বাংলাদেশ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করবে - এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরেও একদল থাকবেই থাকবে - যারা চেহারায় আনন্দ প্রকাশ করলেও তাদের অন্তর কিন্তু পোড়া শুরু হয়ে যাবে। মনে মনে তারা আক্ষেপ করবে, কি হত যদি এই পুঁচকে বাংলাদেশের সাথে গ্রেট ইন্ডিয়া না হারত!

গ্রেট ইন্ডিয়া - এদেশে আওয়ামী দালালদের সমস্ত আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। এই ইন্ডীয়ার জন্যই আওয়ামী দালাল্লেরা এখনো বুক উঁচু করে রাস্তায় হাঁটার সুযোগ পায় - টেন্ডার নিয়ে কুকুরের মত একজন আরেকজনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ইন্ডীয়ার কারণে তাদের নেতারা এখন আমেরিকা-ইউরোপের ক্ষমতা - তাদের বাজারকে অবজ্ঞা করার দুঃসাহস দেখায়। বলতে গেলে ভাতে-কাপড়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের দালালদেরকে এখন বাঁচিয়ে রেখেছে এই ইন্ডীয়া। তাই ইন্ডীয়া এখন বাংলাদেশের কাছে খেলায় হেরে বিদায় নিলে আর যাই হোক, তাদের অন্তরের জ্বালা তো আর জুড়াবেনা। তাই মুখে মুখে তারা যতই বাংলাদেশের জয় কামনা করুক, অন্তরে অন্তরে তারা নিশ্চয়ই চাইছে যাতে কোন পঁচা শামুকে তাদের পা যেন না কাটে!

তাদের ভরসা একটাই - ক্রিকেট শক্তিতে বাংলাদেশ এখনো ভারতের চেয়ে বহু যোজন দূরে - আর অঘটন ঘটার সম্ভাবনা সব সময়েই কম থাকে। তারপরেও কথা থাকে একটাই - বাংলা বাঁশ রেডি - সাহস থাকলে কাছে আয়!

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য কোনও পরাশক্তি নয় /।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর ইতিহাসের পাতাই যথেষ্ট॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৫ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৩৬



মাহফুজ, তুমি বাংলাদেশের তরুণদের কাছে একজন বেঈমান। যে যে কারণে আওয়ামী লীগ ব‍্যাক করেছে বলছো প্রায় সবগুলান কারনই সত‍্য। তবে সবচাইতে বড় কারণটা মিস করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলার সংগ্রামের ২০০ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তুলনা।

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রথম ১০০ বছর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রাম মূলত বাংলাতেই হয়েছে। ১৮৩১ সালে তিতুমীরের 'বাঁশের কেল্লা' কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সকল মানুষই খোদার প্রতিনিধি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০

আল্লাহ মানুষকে প্রতিনিধি বানিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। প্রতিটি মানুষই যদি আল্লাহর 'প্রতিনিধি' হয়ে থাকে, তাহলে কাদের কাছে এই প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে? এই পৃথিবীতে প্রথম দুইজন প্রতিনিধি ছিলেন - হযরত আদম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব মাছে গু খায় দোষ হয় ঘাউড়্যা মাছের

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯


হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন। জেনারেশন জেড আর আলফার চোখে তিনি একজন সুপারহিরো। মার্ভেলের ছবিতে যেমন একজন সাধারণ মানুষ হঠাৎ পোশাক পরে আকাশে উড়তে থাকে, হাসনাতও যেন সেরকমই—ধুলোমাখা বাস্তবতার মাঝে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৬

ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার-
আজকে বাংলা ২০শে 'জ্যৈষ্ঠ' ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। আজকের দিনটি হলো বুধবার। 'জ্যৈষ্ঠ' মাসের আরেক নাম হলো মধুমাস। এই মাসে আম, জাম লিচু, কাঠাল পাওয়া যায়। ফাজ্জা আম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×