somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা সিনামার নাবালক সমালোচকরা জিরো ডিগ্রি দ্যাখো

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'বাংলাদেশে ভালো সিনামা হয় না'- বলে যে সব সমালোচক এখনো নাবালক হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন- তাদের কাছে সবিনয়ে অনুরোধ সময় করে একবার 'জিরো ডিগ্রি' দেখবেন।

আপনাদের নাবালকত্ব যাবে না; নিশ্চিত! তবে সাবালক চিন্তার ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবেন। অনিমেষ আইচ মূলত হুমায়ূন আহমেদ স্যারের কিছু কাজ করতে বলে জানতাম। কিন্তু সে যে এত ভালো সিনামা বানাবে সেটা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন নি।

হিচককের সিনামা তার প্রেরণা। কোনো একটা অনুষ্ঠানে শুনেছি বলে মনে পড়ে।

বাংলা সিনামাকে যারা গাজাখুরি গল্প আর আটাকন্যাদের দাপাদাপির ভেতর মাখামাখি করে আলোচনা করে বিদেশি সিনামা আনার স্বপ্ন দেখছেন- তারা নিশ্চিত মন খারাপ করবেন- সিনামাটি দেখার পর।

সাম্প্রতিক সময়ে দুইডা সিনামা আমারে পুরাই মন ভালো কইরা দিছে। একটা জিরো ডিগ্রি। আরেকটা পিপঁড়া বিদ্যা।

সমসায়কি কাহিনী চিত্র আর মেজাজেও ভিন্ন।

মানুষের অসততার অনেক রকম পথ থাকে; কেবল ঘুষ না খেলে কিম্বা অন্যেকে ঠেক না দিলেই যে সৎ- সেটিও চূড়ান্ত বিচারে টিকে না।

মানসিকতা; চিন্তা; চৈতন্য- এ সব সততা অনেক বেশি জরুরী।

সামাজিক যোগাযোগের সাইটের কল্যাণে, স্মার্ট ফোনের সুবিধা নিয়ে আমাদের ভেতরকার বিকৃত বাসনার যে অভিব্যাক্তি সেই সাথে বহু সময় ধরে; যুগ ধরে যে ধরণের সামাজিক অনাচার চলে আসছে- তারই একটা টুকরো চিত্রায়ন জিরো ডিগ্রি সিনামাটি।

কাহিনী বর্ণনা আমি করতে চাইনা; অনেকেই সিনামাটি দেখেছেন; এটি তাদের কাছে বাহুল্য মনে হবে।
মানুষের ভণ্ডামি, নিচু আর নিজের সাথে নিজের প্রতারণায় ঠকে যাওয়া এক প্রেম পরকীয়া ও খুনের গল্প এটি। যেটাকে অনিমেষ বলছেন, 'এক অবিশ্বাস্য কাহিনী।' কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে এটি বিশ্বাস্য! আমাদের আশপাশের কাহিনীই মনে হয়েছে।

যে প্রেম পরকীয়, অন্যায়ভাবে যৌন সংসর্গ উপভোগের চেষ্টা থেকে মানবিক বৈকল্য এবং প্রতিশোধের নেশা খুন কীভাবে বদলে দিতে পারে মানুষকে; সেটি জিরো ডিগ্রি বলতে পেরেছে। খুব ভালো করেই বলতে পেরেছে।

যেখানে প্রতিদিনকার ব্যস্ততায় মগ্ন পরিবারের দুজনের গল্প আছে; আবার অলস সময় পার করা মানুষের গল্পও। জুয়াড়ি; তাসের সংসার - কাব্য কবিতার ফাঁদ পেতে নারীকে পর পুরুষের ভোগের জন্য তুলে দেবার অনাচারী চিত্রায়নে সমাজের চলমান ঘটনা চিত্রায়িত হয়েছে। নিপাট নিটোল ভাঁজে লুকিয়ে থাকা চিত্রায়ন কখনোই বাহুল্য; ঘটনার অতিরক্ত বর্ণনা, দীর্ঘায়ন সিনামাটির কোথাও দেখিনি।

রঙের ব্যবহার, আবহের অসাধারণত্ব, লোকেশন আর ক্যামেরার কাজও প্রশংসার যোগ্য। এমন সিনামা সম সাময়িককালে হয়েছে বলে মনে পড়ে না। মুগ্ধতা নিয়ে আমার দেখা সর্বশেষ বাংলা সিনামা ঘেটুপত্র কমলা। এরপরেও অনেক সিনামা দেখেছি। কিন্তু এ রকম টানা আনন্দ নিয়ে খুব কম সিনামায়ই দেখা হয়।

অনিমেষ আইচ জিরো ডিগ্রি সিনামাটি বানিয়েছেন দারুণভাবে। একটা উপভোগ্য কাজ এটি। আমার মনে হয়েছে বাংলা সিনামা যে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে- সেই চেষ্টায় অনিশেষরা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।

তখন আর মধুমিতার মালিকদের বাইরের সিনামা আমদারি কথা মনে আসবে না। ব্লকবাস্টার সিনামা সিনেপ্লেক্সে দেখানোর দরকার হবে না। সেটার স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি!


মাহফুজ ও রুহির সংসার আলো করা সন্তান আর দুজনের দুরকম চাকুরীর কারেণ যে টানাপড়েনের গল্প দিয়ে শুরু, সেখানে রাতজেগে ফেসবুকে আড্ডা, পর পুরুষের টানে সন্তান রেখে রুহির বিদেশ চলে যাওয়া এবং তাদের একমাত্র সন্তানের রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা যাওয়ার পর মাহফুজের বদলে যাওয়ার চিত্রগুলো- এ সমাজ থেকেই নেয়া।

একই ভাবে জয়া আহসানের বাবা তারিক আনামের কু-চরিত্র - বিনোদনহীন গ্রামের জমিদারি ঘরাণার আরেক অন্ধকার দিক- গলা টিপে নারী হত্যা চিত্রায়ন এবং যুবতী নারীর শরীর পশুদের কীভাবে টেনে নিয়েছে; যেখানে নাচের বয়োজ্যাষ্ঠ ওস্তাদ থেকে শুরু করে গার্মেন্টসের মালিক, কিম্বা চতুর কবি থেকে শুরু করে পয়সা খরচে করে যৌনতা ভোগ করা মানুষ- সবাই একই ফ্রেমে ধরা পড়েছে।


আমাদের নাবালক সমালোচকরা 'জিরো ডিগ্রি' নিয়ে খুব একটা বাৎচিত করেননি। কেনো করেন নি তা বলা মুশকিল। সম্ভবত তারা 'জাতে' থাকতে চান। বাঙালির কাতারে আসতে চান না বলে!

সম সাময়িক সিনামাগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মত কবিতার ব্যবহারও মোহনীয়। গানে গানে কথায়, উষ্ণতায় সমাজের যে চিত্র জিরো ডিগ্রি এঁকেছে- এ রকম আরো সিনামা হোক সেটাই আমরা চাই।

একই কথা পিপড়াবিদ্যার জন্যও। তবে পিপড়া বিদ্যায় এবার আলোর প্রক্ষেপনে মুন্সয়ানা ছিল না। ক্যামেরার কাজও ফারুকী'র ছবির মানে হয়নি; যদিও আমি আলোক বিশেষজ্ঞ নই -তবুও দর্শক হিসাবে এটা আমার ব্যাক্তিগত মত। তবে গল্প বলার ধরণ; একটা সাইকো হিস্ট্রি কীভাবে একটা মানুষের প্রতিটা মুহুর্তকে বিপন্ন করে এবং নারীর সংসর্গ ও টাকার লোভ কীভাবে মানুষকে অমানুষ বানায়- সেখান থেকে পতনে ক্যামন সঙ্কট তৈরি হয়- সেটি এ সিনামায় দারুণভাবে তুলে এনছেন ফারুকী।

নিশ্চিত করে বলছি- ওহে বাংলা সিনামার নাবালক সমালোচকরা- এবার একটু বোঝো; বাংলা সিনামায় এখন আর তোমাদের ঘেন্নার বস্তুর মত নেই। মাথা তুলে দাঁড়াও, সম্মান করো ; সম্মান পাবে। পরধনে মত্ত হয়ে তোমারা আর যা-ই পাও - সম্মান পাবে না। নিশ্চিত করে বলছি- পাবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×