somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত ফিলিস্তিন

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি: বিবিসি অনলাইন।

গণতন্ত্রের লড়াকু বিশ্ব আচমকা এক যুবরাজের প্রেমে মগ্ন। তার নাম মোহাম্মদ বিন সালমান। পশ্চিমা দুনিয়ায় তার আদুরে নাম এমবিএস। ব্ল্যাক প্যান্থার দিয়ে হলিউড সিনেমা সৌদি আরবে উন্মুক্ত করার আগে রুপার্ড মারডুকের অতিথি হয়েছেন কয়েকদিন আগে।

৩০ বছর বয়সী যুবরাজ সৌদি আরবের ভেতরে-বাইরে অনেক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছেন, সেটি শুনে ও জেনে ভালো লাগছে। তবে সে সব পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, সমাজ এবং সংস্কৃতিতে ঠিক কী ধরণের পরিবর্তন আনবে, সেটি এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা খুবই কঠিন বলে, আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

কঠিন বলছি এ কারণে যে, এখানে স্বার্থ সব সময় সমান্তরালে হাঁটে না, নড়াচড়া করে। নড়াচড়া করলে এখানে মুসলমানদের জন্য সন্ত্রাসবাদী, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া কিংবা জঙ্গি শব্দ সহজে বিপণন ও বিক্রয়যোগ্য হওয়ায় এমবিএস বা তাদের ভাই বেরাদাররা সব সময়ই একটা ঝুঁকি বা সহজ বাংলায় চাপের মুখে থাকেন, থাকতে হবে। এ সব চাপ কমানোর জন্য নানা কিসিমের সঙ্কট লেগে থাকে, সে সব সঙ্কট যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়! যেমন ইয়ামেনে মানুষ খুন করছে সৌদি আরব। সিরিয়ায় আমেরিকার সাথে গলা মিলিয়ে, হাত লাগাচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্রে।

শিয়া ও সুন্নি বিরোধ, তুর্কি-কুর্দি বিরোধে হাল আমলে মুখরোচক আলাপ। তবে এর থেকেও সুস্বাদু রাজনৈতিক চর্চা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বিশ্বজুড়ে।

বিবিসি বাংলার অনলাইনে এপ্রিল ৩, ২০১৮ প্রকাশিত খবরের একটা অংশ এ রকম — ‘যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন আটলান্টিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বলেছেন, ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় জনগোষ্ঠীরই নিজস্ব ভূমির পূর্ণ অধিকার আছে।’

অত্যন্ত উচিৎ কথা। এর সাথে দ্বিমত করবেন এমন মানুষ নাই। তবে ইসরাইলের অধিকার যদি ফিলিস্তিনিরা বা অন্য কোন পক্ষ খর্ব করতো, তাহলে এমবিএসের কথা যুতসই। সে রকম কোনও প্রেক্ষাপট এটা না । কৌশলী এমবিএস অবশ্য একই সাথে ফিলিস্তিনের কথা উল্লেখ করে নিজেকে ‘সাধু’ প্রমাণ করতে চেয়েছেন ! কিন্তু তিনি যে নির্যাতক ও নির্যাতিতকে সমানভাবে বিবেচনায় আনলেন, সেটি অন্যায্য ।

এমবিএসের কথার প্রেক্ষাপটই দ্বিমত করার জায়গা। ইসরাইলের ভূমির পূর্ণ অধিকার আছে। কথাটা তিনি যখন বলছেন, সে সময় তিনটি বিষয় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে রেখেছে-
(১) ইসরাইলের ভূমি আগ্রাসন। ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করেই যাচ্ছে। প্রতিদিন ইসরাইলি হত্যা করছে তারা।

(২) জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছে। আমেরিকা এতে মদদ দিচ্ছে।

(৩) ইসরাইলি বর্ববরতায় বিপন্ন ফিলিস্তিনিদের সহায়তার অভিযোগে কাতারের উপর আরব দেশেগুলোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। যদি এটা প্রত্যক্ষভাবে বলা হয়নি । তবে এটাই পরোক্ষ এবং অন্যতম প্রধান কারণ ।

এ রকম প্রেক্ষাপটে এমবিএসের বক্তব্য ইসরাইলিদের বর্বরতার আগুনে ঘি ঢালবে। এতদিন ইসরাইল প্রকাশ্যভাবে আমেরিকা ও তাদের সহযোগিদের সহায়তা ও সমর্থন পেয়ে আসছিলো, সন্ত্রাসবাদের ঘৃণ্যতম চর্চার জন্য এবার এমবিএস ভাইরাসও ফিলিস্তিনিদের বিপন্ন করার বহরে যুক্ত হলো। এ সংযুক্তি ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সঙ্ঘাতকে জায়েজে সহযোগিতা করবে এমবিএস ভাইরাস। তাই এর প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরি।

তবে প্রতিবাদ হচ্ছে না। তারও কারণ আছে। সাধারণত সৌদি বাদশারা মুসলমানদের মোড়ল হিসাবে পরিচিত। এর কারণটা এ সব ভ্রষ্ট মানুষ নয়। এখানে মুসলমানদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর রওজা মুবারক এবং মহান আল্লাহ তায়ালার ঘর কাবা শরীফ অবস্থিত। এ কারণে এর গুরুত্ব, মর্যাদা এবং তাৎপর্য মুসলমান মাত্রই কবুল করে থাকেন।

আল্লাহ ও তাঁর নবী সা: এর প্রতি মুসলিমদের অনিঃশেষ ভালোবাসাকে পুঁজি করে সৌদি রাষ্ট্র পরিচালকরা মধ্যপ্রাচ্যে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় এখনই।

সৌদি ইয়ামেনে মুসলমানদের হত্যা করছে। আমেরিকার সাথে জোট বেঁধে মানুষ খুনকে জায়েজ করছে। মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ বর্ণ বিভেদ তৈরি করছে। তাই হত্যা, খুন আর সন্ত্রাসের আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমেরিকার তল্পিবাহক হিসাবে এতদিনে গোপনে কাজ করলেও এখন প্রকাশ্যে এসেছে সৌদি।

সৌদি আরবের প্রতি মুসলিমদের অকুণ্ঠ সমর্থনের সুযোগে এ মোড়লিপনা মধ্যপ্রাচ্যে মানুষ হত্যাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ হোক বা না-্ই হোক, এটা নিশ্চিত যে, নির্যাতিত মানুষের জয় হবেই হবে।

লেখাটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল-বিডিনিউজব্লগে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:২৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×