somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যাচ্ছিলাম;
চারদিকে অন্ধকার, মোবাইলের লাইট জ্বালালাম।
লাইট জ্বালিয়ে বিস্মিত হয়ে দেখলাম সে পথে বেশ মোটাসোটা এক সাপ শুয়ে আছে।
লাইট দেখেই সে থেমে গেলো, সাথে সাথে আমিও। আমার লাইটে তার স্পষ্ট বিরক্তি। আমি দ্রুত কিছুটা পেছনে সরে এলাম।
দৈর্ঘে সাপটি কতটুকু তা বোঝা যায়নি, কারণ তার মাঝ থেকে বাকিটা ছিল ঝোপের ভেতরে।
তবে ৬ ফিট হতে পারে মনে হলো।
হুট করে সাপের মুখোমুখি হয়ে আমি কিছুটা বিস্মিত।
এবং অবাক।
ভয় লাগলো না, কারণ সাপ খুব বেশি বিরক্ত হয়নি।
ফনা তোলেনি, মাত্র এক ফিট উঁচু হয়ে আমার দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখা।

এর মধ্যেই আমি যার কাছে যাচ্ছিলাম, তিনি আমার সাথে দেখা করতে চলে আসছিলেন।
আমি এদিক ওদিক সাপ তাড়াবার জন্য লাঠি বা এই জাতীয় কিছু খুঁজছিলাম, দেখি তিনি প্রায় সাপটির কাছে চলে এসেছেন।
আমি তাকে বললাম, আস্তে আসেন, সাপ আছে।
আমার কথা শেষ হবার আগে তিনি সেই পথেই সৌভাগ্যক্রমে সাপকে টপকে চলে এলেন।
বেচারা সাপ কিছুই বোঝেনি।
সে তো লক্ষ্য করছিল আমার মোবাইল লাইটের দিকে।
যাইহোক শেষ পর্যন্ত বিপদ হয়নি কোনো।
পরে আমরা সাপটিকে পাশেই ছোট জলাশয় ঝোপঝাড়ে নেমে যেতে দিলাম।

হুট করে মনে হলো ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফি চ্যানেল থেকে যেন দৃশ্যটি চোখের সামনে চলে এলো।
এমন প্রকাণ্ড সাইজের একটি সাপ একেবারেই আমার দু ফিট দূরে চলে আসবে এটা আমার ভাবনায় ছিল না।
আমি এর আগে আমাদের বাড়িতে কখনো সাপ দেখিনি।
বিল বা নদীতে দেখেছি কিন্তু আমার হাটাপথ জুড়ে একটি সাপ দেখার অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম।
মজা পেলাম খুব।

সাপ নিয়ে আমার আরো একটি মজার ঘটনা আছে, সেটি দেশের বাইরে। জিজান নামের এক শহরের গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম। চারপাশে লু হাওয়া বইছে। যে গাছের নিচে আমরা দাড়িয়েছিলাম তার পাশেই ছিল মসজিদ।
আমাকে সিগারেট খেতে দেখে বাংলাদেশি এক ইঞ্জিনিয়ার এলেন। দুজনে গল্প করছি। এর মাঝেই হুট করে গাছ থেকে সাপ এসে পরলো সেই ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় কাঁধে। তিনিতো হৈচৈ, চীৎকার। আমি জাস্ট স্পিচলেস।
মনে হচ্ছে এ আমি কী দেখছি।
ছিটকে সরে গেলাম। তবে সেই সাপ ছোবল দেয়নি, আমার বা সেই ইঞ্জিনিয়ার কাউকেই।
কোনো বিপদ হয়নি। তবে দিনে দুপুরে এভাবে খোশগল্পের মাঝে সাপ এসে পরবে এটা আমাদের ভাবনাত্য ছিলো না।

আমি প্রাণ প্রকৃতির সকল কিছুর জন্য মমতা লালন করি। যে যেখানে থেকে অভ্যস্ত সে সেখানে তার আনন্দ নিয়ে থাকুক তাই চাই।
পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।


অফ টপিক//
পোষ্টে ব্যবহার করা ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছে বলতে পারবেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:২৮
১৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×