somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঈজী ও ঢাকা

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৫ শতকে বাংলায় সুলতানের দরবারে চীনা দূত মাহুয়ান আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্য ভোজসভার আয়োজন করেন বাংলার সুলতান। সেই সময় অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য নাচ-গানের ব্যবস্থা করা হয়। তার দেখা নর্তকীদের সম্পর্কে তিনি বলেন যে, হালকা লাল রংয়ের ফুল তোলা জামা এবং রেশমের ঘাগড়া, গলায় হার, নীল আর দামি পাথর দেওয়া চুড়ি পরা অবস্থায় তাদেরকে দেখতে যেন অপ্সরীর মত লাগছিল।

১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর গান ও নাচের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তখন ঐ শিল্পীরা ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, ঢাকায় এসে আশ্রয় নেয়। ঢাকায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতার মানুষের কোন অভাব ছিল না। নবাব পরিবার এবং তার বংশধরেরা, মোঘল বংশোদ্ভূত জমিদারেরা, ভাওয়াল রাজা, কাশিমপুর, পুবাইলের জমিদারদের নাম এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। শুধু স্থানীয় বাঈজী নয়, ঢাকার নবাব বাদশাদের দেদার খরচের গল্প ছড়িয়ে পড়ায়, লখনৌ, বেনারস, পাটনা, বিহার, কলকাতা থেকে প্রতিষ্ঠিত বাঈজীরাও ঢাকায় এসে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে নিজ দেশে ফেরত গিয়েছেন।

এর মধ্যে আবার অনেকে ঢাকার চাকচিক্যে মুগ্ধ হয়ে পাটুয়াটুলী ও জিন্দাবাজার লেন এলাকায় বাড়িঘর কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থেকে গিয়েছিলেন। এই বাঈজীরা যেমন নিজেদের বৈঠকখানায় মাহফিল করতো তেমনি আবার তারা বায়না নিয়ে জমিদার নবাবদের রংমহলেও বেড়াতে যেতেন।

ঢাকায় বাঈজীদের নাচ-গান শুরু হয় মুঘল আমলে। সুবাহদার ইসলাম খাঁর দরবারে (সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম পর্ব) যারা নাচ-গান করতেন তাদের ‘কাঞ্চনী’ বলা হতো। উনিশ শতকে ঢাকার নবাব নুসরাত জং, নবাব শামসুদ্দৌলা, নবাব কমরুদ্দৌলা এবং নবাব আবদুল গণি ও নবাব আহসানুল্লাহর সময় বাঈজীদের নাচ-গান তথা মেহফিল প্রবলতা পায়। তারা আহসান মঞ্জিলের রংমহল, শাহবাগের ইশরাত মঞ্জিল, দিলকুশার বাগানবাড়িতে নৃত্য-গীত পরিবেশন করতেন। ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে যেসব বাঈজী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে লক্ষ্নৌর প্রখ্যাত গায়ক ও তবলাবাদক মিঠন খানের নাতি সাপান খানের স্ত্রী সুপনজান উনিশ শতকের শেষ দিকে ঢাকায় ছিলেন।

১৮৭০-এর দশকে ঢাকার শাহবাগে নবাব গণির এক অনুষ্ঠানে মুশতারী বাই সংগীত পরিবেশন করে প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবদুল গফুর খানের নজরে পড়েছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে শাহবাগে এলাহীজান নামে আরেক বাঈজীর নৃত্য ও করুণ পরিণতির দৃশ্য দেখেছিলেন হাকিম হাবিবুর রহমান। নবাব গণির দরবারে নাচ-গান করতেন পিয়ারী বাই, হীরা বাই, ওয়ামু বাই, আবেদী বাই, আন্নু নান্নু ও নওয়াবীন বাই। শেষোক্ত তিন বোন ১৮৮০-এর দশকে ঢাকার নাটক মঞ্চায়নের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ঢাকার অন্য খ্যাতিমান বাইজিদের মধ্যে ছিলেন বাতানী, জামুরাদ, পান্না, হিমানী, আমিরজান, রাজলক্ষ্মী, কানী, আবছন প্রমুখ। এছাড়া কলকাতা থেকে মাঝেমধ্যে ঢাকায় মুজরো নিয়ে আসতেন মালকাজান বুলবুলি, মালকাজান আগরওয়ালী, জানকী বাই, গহরজান, জদ্দন বাই, হরিমতী প্রমুখ।

(বাঈজীদের নিয়ে পড়ছিলাম। কিছু অংশ শেয়ার করলাম।
এখানে দুটি লেখা থেকে শেয়ার করা।
একটি 'বাইজি: ফিরে দেখা' জনাব রিফাত আহমেদ এর। আর কিছু তথ্যের জন্য কৃতজ্ঞতা হেকিম হাবিবুর রহমান, ডঃ মুনতাসির মামুন, শামীম আমিনুর রহমান)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৩৪
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×