somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসভ্যতামীর অপর নাম ফুট ওভার ব্রিজ!

২১ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টাইটেল পড়ে চমকাবার কিচ্ছু নাই! অসলেই অসভ্যতামীর অপর নাম ফুট ওভার ব্রিজ। কেন? সে উত্তরে পরে আসছি। তার আগে ভাবতে থাকুন; গুলশান সার্কেল ১ থেকে সার্কেল ২ এর মাঝে যেন কয়টা ফুট ওভার ব্রিজ?

দেশের বাইরে আছি প্রায় ১ বছর ১০ মাস। ধরলে ২ বছরই বলতে পারেন। যেখানে থাকি, সেখানের মানুষ হাঁটা হাঁটির বিষয়ে বিশেষ 'অ-পারদর্শি'! এরা হাঁটে না। যেখানে যায়, গাড়ি নিয়ে যায়। এমনকি বাসা থেকে ঠিক ৩-৫ মিনিটের দুরত্বে মসজিদ হলেও সেখানে হেঁটে যাবে। স্টেডিয়াম তৈরী হয় যতটুকু জায়গা নিয়ে, তার থেকে ৫-৬ গুন বড় জায়গা নিয়ে তৈরী হয় পার্কিং। কিন্তু এখানে রাস্তার পাশে হাঁটবার জায়গা আছে।

প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে যখন গাড়িটা নিয়ে বের হই, প্রথম ৫০০ মিটারের মধ্যে ২/৩জন মহিলা এবং ৩/৪ জন পুরুষকে প্রায় প্রতিদিন হাঁটতে দেখি এই ফুটপাথ এ; উনারা সবাই পাকিস্তানী। এরপরের বাকি প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তায় তেমন করে কাউকে হাঁটতে দেখি নাই। তবে এই পুরা পথেই ঠিক রাস্তার সাইজের একটা ফুটপাথ আছে। কিছু দূর পর পর স্পিড ব্রেকারের মত করে একটু উঁচু করা, এবং সাইন লাগানো থাকে 'পথচারী পারাপার' এর।

সারা বিশ্ব খুব ভালো করে জেব্রাক্রসিং নামে কিছু একটা চিনে। চিনি না আমরা। আমাদের দেশে যে পরিমান মানুষ, আর যে পরিমান মানুষ রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে চলে, তাতে রাস্তা এক লেনের হলে ফুটপাথ হবার কথা অন্তত ৩ লেনের। কিন্তু উল্টা! রাস্তা তিন লেন তো ফুটপাথ আধা লেন। তার মধ্যে আবার ৮০% জায়গা দখল করে বসে আছে বিভিন্ন বাজার সদাই বিক্রির লোকেরা। ফলাফল, মানুষ ফুটপাথ ছেড়ে নামছে রাস্তায় খাচ্ছে ধাক্কা গাড়ির সাথে।

ফুটওভার ব্রিজ একটা অসভ্য জিনিষ। যার করণে আপনি গুলশানের মত 'পশ' এরিয়াতে মূল রাস্তার উপরে এই আজিব জিনিষের দেখা পাবেন না (অন্তত ২ বছর আগে দেশ ছাড়বার সময়ও দেখি নাই)। আপনার গাড়ি আছে, রাস্তা আপনার অধিকার; তেমন আমার পা আছে ফুটপাথ এবং জেব্রাক্রসিং আমার অধিকার। আমার কোন ঠ্যাকা পড়ে নাই যে আমি প্রায় আড়াই তলা উুঁচু সিড়ি ভেঙ্গে উঠবো এক ফুট-ওভার-ব্রিজ নামক আজব জিনিষে, আবার নামবো সেটা দিয়ে। যারা বয়স্ক, হাঁটুতে-মাজাতে সমস্যা, তাদের জন্য এই জিনিষ যে কত বিড়ম্বনার তা বলে শেষ করবার মত নয়। আবার ফুটপাথ গুলাতেও কিন্তু পসরা সাজিয়ে লোক বসছে, শুয়ে থাকছে ভিক্ষুকেরা! পাড়া একটা দিবেন, তাও বহুত দেখে শুনে দিতে হবে। না জানি কাকে পাড়িয়ে চলে যান।

আপনি হয়ত বলবেন যে মানুষ তো সিগ্যানলের জন্য অপেক্ষা করে না; এমনেই দৌড় দেয়। হ্যাঁ, এই সমস্যা আছে; তার সমাধানও সহজ। সেটা হচ্ছে আইনের প্রয়োগ করা। সিগ্যানালের জন্য অপেক্ষা করেই পার হতে হবে এমনটা নিশ্চিত করাও কিন্তু সরকারের একটা দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তবে কি একেবারেই দরকার নাই এই অসভ্য জিনিষে? আছে, অনেক জায়গাতে আছে; যেমন রেলওয়ের উপরে আছে, আবার দরকার আছে মানিক মিয়া এভিনিউতে (কিন্তু ঐখানে এই জিনিষ নাই; কি আজব)। এত্তো বড় রাস্তা পার হবার জন্য হয় ফুটওভার ব্রিজ, বা আন্ডার পাস দরকার। কিন্তু কাজীপাড়া শ্যাওড়া পাড়াতে কোনই দরকার নাই।

আচ্ছা, শেষ একটা প্রশ্ন রেখে যাই। ঢাকার রাস্তার প্রায় ৯৫% ট্রাফিকইতো ট্রাফিক পুলিশকে দিয়ে কন্ট্রোল করাতে হয়, তাহলে খামখা সিগন্যাল লাইট গুলা সারা দিন-রাত কেন জ্বলে?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৪:১৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×