somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আম্রিকার জনগন কি আসলেই বলদ? (পর্ব ০১)

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ভোর ৪:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখা পড়া করেছি বিজনেসে (ফাইনান্সে), তার আগে বিজ্ঞানে। প্রথম চাকরী আইটি কম্পানিতে প্রোজেক্টসএ (তখন কোডিং শিখেছি), এরপর মার্কেটিং এ। এখন চাকরী করছি অপারেশনসে।



চাকরীর পর বাসায় ফিরে টুকটাক লেখালেখি, সেটা দিয়ে কিছু টাকা ইনকাম, আর কিছু ভলেন্টিয়ার কাজ কাম।

মধ্যেখানে এক সময় এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখেছিলাম। সেটাকে আবার চাঙ্গা করে মাঠে নামলাম। এখানে অন্য সব স্কীল থেকে মার্কেটিং স্কীল ব্যবহার করা লাগে।

তো প্রথমেই বিক্রি শুরু করলাম বই! একটা ওয়েব সাইটে বই পাওয়া যায়। এই সাইটে প্রায় 'সকল রোগের চিকিৎসা' টাইপের বই পাওয়া যায়। যা সার্চ দিবেন তাই পাওয়া যায়। একটা বই বিক্রি হয় ২৫-১০০ ডলারে, আরও দামী বইও আছে। একটা বিক্রি করতে পারলে আমার কমিশন মাত্র ৬০-৯০%!

এগুলি বিক্রির জন্য সাধারণত কেউ গুগলে এ্যাডস দেয় না। দেয় বিং এ! কেন? পুরা দুনিয়া এখন গুগলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে, তাহলে বিং এ কেন? উত্তরে আসছি।

এই বই গুলার বড় মার্কেট কিন্তু সারা দুনিয়া না। প্রায় ৯৫% মার্কেট হচ্ছে আম্রিকা! কেন? সেই উত্তরেও পারে আসছি।

যে বই গুলি বিক্রি হয়, তার ৯৯.৯৯৯%ই ভুয়া! কোন কাজের না। বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে লেখা কপি-পেষ্ট-এডিট করে তৈরী। এগুলির ফরম্যাটিংও এত বাজে যা চিন্তার বাইরে।

তার থেকে চিন্তার বাইরে হচ্ছে যে ওয়েব পেজ গুলি ব্যবহার করে এই বই গুলি বিক্রি হয়। এগুলিকে বলে ল্যান্ডিং পেজ। ছোট একটা উদাহরণ নিচের এই ছবি।



তাই তৃতীয় প্রশ্ন, ল্যান্ডিং পেজ কেন এমন আগলি/জঘন্য হতে হবে?

তৃতীয় প্রশ্ন আমারও মাথাতে ছিলো।

আমি সাধারণত যে সব ওয়েব সাইট তৈরী করি, চরম ফ্রেস টাইপের না হলে কাজ করি না। ক্লায়েন্টকে আগে থেকে কাজের একটা স্যাম্পল দেখিয়ে নেই। বহু কাজ হাতে পেয়েও ছেড়ে দিয়েছি শুধুমাত্র ফিনিশড কাজটা সুন্দর হবে না ভয়ে।

একবার এক বড় ভাইয়ের জন্য সম্পূর্ণ একটা ওয়েব সাইট মাত্র ১৫,০০০ টাকাতে করেছিলাম, যেখানে আমার নিজের খরচ গিয়েছিলো প্রায় ২০,০০০! নিজে ফটোগ্রাফী থেকে শুরু করে সব কিছু করেছি। কিন্তু কাজটা করে সেই মাপের মজা পেয়েছি; আর বলার অবকাশ রাখে না যে সেটা থেকে এ পর্যন্ত বহু কাজ পেয়েছি। সেই ২০১৬ সালে করা কাজ থেকে এখনও কাজ পাচ্ছি।

যাই হোক, আগে যখন এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে গবেষণা করেছিলাম, তখন এলিগেন্ট থীম নামের একটা সাইটে দেখেছিলাম তারা ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন বিক্রি করে, যা আসলেই নজর কাড়ার মত। এবং তাদের ঐ প্রোডাক্টের স্লোগানও ছিলো 'why do landing page have to be so ugly' টাইপের কিছু একটা।

কিছুদিন আগে যখন নিজেই এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ নামলাম, তখন নিজের স্বভাব অনুযায়ীই সুন্দর ল্যান্ডিং পেজ নিয়ে কাজ শুরু করলাম এবং ফলাফল প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি। আমার এ্যাফিলিয়েট ম্যানেজারের সাথে কথা বললাম; সে চিৎকার করে বললো এত সময় নষ্ট করে আকাইমা ল্যান্ডিং পেজ বানাইছো ক্যারে? আমাদেরটা কপি পেষ্ট কর।

খুব কাচুমাচু করে বললাম, ওগুলি আমার রুচির সাথে যায় না। সে বললো, কাষ্টমারতো ওগুলিই খায়।

সে আমাকে বললো ২৫ ডলারের রিস্ক সে নিবে; তাদের ডিজাইন আমি কপি করে ২৫ ডলারের বিজ্ঞাপন চালাই, যদি কাজ না হয় তাইলে ২৫ ডলার ফেরৎ দিবে। আর কাজ হলে তাকে দিতে হবে আমার ইনকামের ৫০%। যেহেতু আমার লস নাই; তাই নেমে পড়লাম; এবং সাফল্য আসলো! পরে অবশ্য মনে হয়েছে ৫০% দেওয়া লস হয়েছে; কারণ তার কথা শুনে রিস্ক নিলেই পারতাম।

তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর কিছুটা পেয়ে গেলাম ওখানেই।

আবার প্রথম প্রশ্নে ফেরৎ আসি, কেন বিজ্ঞাপন বিং এ দেওয়া হয়?

কারণ গুগলে এ্যাফিলিয়েট লিংক সহ বই দেওয়াটা একটু কষ্টকর। তাছাড়া এখানে কম্পিটিশনও বেশী। স্ট্যাটিসটা ওয়েব সাইটের মতে আম্রিকাতে মাত্র ৩৩% মানুষ গুগল সার্চ ইঞ্জিনের এর পরিবর্তে বিং ব্যবহার করে। তাদের ধারে কাছে আছে ব্রিটিশ (২৬%) আর তাইওয়ান (২৪%)। বাকি সবাই ২০%এর ম্যালা নিচে।

তাই, গুগল সার্চ এ বিজ্ঞাপন না দিয়ে বিং এ দেওয়াই লাভজনক।

এবার দ্বিতীয় প্রশ্নে আশা যাক। আম্রিকাতেই কেন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়?

উত্তর সহজ; আম্রিকার প্রায় ৪০% মানুষ কম্পিউটারে এখনও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এবং মাইক্রোসফট এজ ব্যবহার করে। যেখানে দুনিয়ার অন্য প্রায় সকল দেশে গুগল ক্রোমের ব্যবহার ৮০% এর উপরে। আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ও মাইক্রোসফট এজ এ ডিফল্ট হিসাবে বিং সার্চ ইঞ্জিন থাকে। তাই বিং এ বিজ্ঞাপন দিলে সহজেই প্রচুর মানুষের কাছে অল্প খরচে পৌছানো যায়।

তাছাড়া আরও একটা জিনিষ বুঝলাম যে, অন্য দেশের মানুষের এত আজাইরা পয়সা নাই যে বসে বসে ফালতু বই কিনবে। তারা ফিলিপ কটলারের বই-ই কিনে পড়ে না, আর কোথাকার কোন মইদো ছোইদো বই ব্যাচলো আর তারা তাই কিনবে; এমন না!

----------------------------------

সব হিসাব মিলাইলে, শুধুমাত্র আম্রিকাতে, চরম বাজে ডাইনের পেজ নিয়ে, সহজেই আলতু ফালতু বই বিক্রি করা যায়! এবং এর থেকে যথেষ্ট টাকা কামানো যায়।

----------------------------------

কয়েকদিন কাজ করে পুরা বিষয়টাকে আন-এথিকাল মনে হয়েছে। দিনে প্রায় ২-৩টি বই সহজেই বিক্রি করতে পেরেছি; একদমই প্রায় কোন এফোর্ট ছাড়া বলা চলে। প্রতিটিতে ১০-৪০ ডলার পর্যন্ত কমিশন পেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আন-এথিকাল মনে হওয়ায় থাকতে পারি নি। ছেড়ে দিয়েছি।

----------------------------------

এর পরের ধাপ হচ্ছে 'ড্রপশিপিং'। এটা নিয়ে আগামীদিন লিখি, নাকি?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ভোর ৪:৩৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×