somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এগিয়ে চলেছে বেয়াদবির কালচার!

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় ছিলো, যখন প্রচুর মুভি দেখতাম। মুভি দেখা প্রথম শুরু হয়েছিলো মূলত ইংরেজী শেখার নাম করে। ২০১৪ এর দিকে এসে পরিচয় ঘটে একটা টিভি সিরিজ The Big Bang Theory এর সাথে।



বিজ্ঞান ভিত্তিক কথাবার্তা সহ একটা টিভি সিরিজ হবার কারণে বেশ পছন্দ হলো। দেখা শুরু করলাম। সেই মাপের মজার ছিলো টিভি সিরিজটি। একই সময়ে Friends এবং How I Met Your Mother নামের দুইটা টিভি সিরিজের সাথে পরিচয় হলো।

একটা সময় নিজের ভিতর অস্বস্তি ফিল করা শুরু করলাম। মনে হতে থাকলো এই টিভি সিরিজ গুলি আমার মধ্যে একটা পরিবর্তন আনছে। একটু দেরীই হয়েছিলো পরিবর্তনটা বুঝতে। পরিবর্তনটা হচ্ছে, এগুলি আমাকে শিখিয়েছে মানুষকে অপমান করতে!

জ্বী, সব গুলি টিভি সিরিজেই কাহিনীর সাথে সাথে একটা বিষয় খুব সুন্দর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে অপরকে অপমান করা। বিশেষ করে The Big Bang Theory এর প্রায় প্রতিটি ডায়লগই অন্য কাউকে অপমান করা টাইপের। দেখে আপনার কাছে প্রচন্ড হাস্যরসের মনে হবে। তবে যদি নিজেকে ঐ লোকের জায়গায় দাড় করাতে পারেন, তখন বুঝবেন যে কতটা খারাপ লাগার মত কথা বলা হয় প্রতি লাইনেই!

আমরা মানুষ হিসাবে বেশীরভাগই অন্যকে সামান্য খোঁচা দিয়ে বা খোঁটা দিয়ে মজা পাই। একটু অপমান করতে পারলে মজা আরও বাড়ে।সেই জিনিষ গুলি আমাদের ছোটখাট গন্ডির মধ্যে এক সময় আবধ্য ছিলো। কিন্তু ইন্টারনেটের কারণে এখন সেই গন্ডি ছড়িয়ে গেছে। আমরা এখন পাড়া-মহল্লা বা জেলায় সীমাবদ্ধ নই, পুরা পৃথীবিতে ছড়িয়ে পড়েছি।

কোথায় কোন হিরো আলম, আর কোথায় কোন পরীমনি; কোথায় মার্ক জুকারবার্গ আর কোথায় ইলন মাস্ক; আমরা কাউকে ছাড়িনি। আস্তাকুড় থেকে কাউকে তুলে এনে তাকে ব্যাঙ্গ করতে করতে এখন তারাই আমাদের সমাজে হিরো হিসাবে বসে গেছে! আমরা মজা করেই যাচ্ছি। কোন থামাথামি নাই।

এর মধ্যে গজিয়েছে কিছু লেখক নামের লোক; যারা খুবই নাম করা। এনাদের কাজ হচ্ছে প্রচন্ড সিরিয়াস কোন বিষয়কে মজার খোরাক হিসাবে উপস্থাপন করা। এরা এই কাজটি সমাজের জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকর। কেন?

জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ সেকশনে গেলে দেখবেন দেয়ালে বড় করে পত্রিকার কাটিং দেওয়া আছে। দেশে যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থায়ও মানুষ বেবি ট্যাক্সির ভাড়া বাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এমন নিউজ পাবেন সেখানে। আর আমরা এখন কি করছি? পেয়াজের দাম বেড়ে গেছে, পেয়াজ নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাচ্ছি; না হয় ফেসবুকে মজার ছবি বা স্ট্যাটাস পোষ্ট করছি।

সৈরাচার শাসককে কান ধরে টেনে নামানো ছাত্র সমাজ এখন 'পুলিশ কোন চ্যাটের বাল' লেখা প্লাকার্ড নিয়ে ঘুরে! ঐ পর্যন্তই তাদের দৌড়।

আপনার কি ধারণা এমনে এমনে ছাত্র সমাজ হিরো থেকে হিজড়াতে পরিণত হয়েছে? না, আমরা যারা সিরিয়াস বিষয়কে ফান হিসাবে উপস্থাপন করি, আমরা এর পিছনে দ্বায়ী।

একটা সময় ছিলো যখন পাড়ায় বড় ভাইয়েরা ঢুকলে ছোট কেউ ধূমপান করতে থাকলে তা লুকাতো। কখনও কখনও দৌড় দিতো। এখন সেটা উল্টে গেছে; বড় ভাই গিয়ে ছোটদের কাছে সিগারেট চায়; ছোটরা মুখের উপর বলে দেয় যে সিগারেট নাই। বড় ভাই চলে যাবার সময় পিছ থেকে ছ্যাচ্চড় গালিও শুনতে পাওয়া যায় কখনও কখনও।

এভাবে একে অন্যের সাথে মজা করে বেয়াদবি করতে করতে আমরা একটা বেয়াদবির কালচারের মধ্যে ঢুকে গেছি। যে যত বেশী অন্যকে পচাঁতে পারে, সে এখন তত বড় হিরো। যে যত বেশী ব্যাঙ্গ করতে পারে, সে তত বেশী লাইক পায়।

পরিচিত-অপরিচিত মানুষের উপর যে নূন্যতম সম্মান ভাবটা কয়েক বছর আগেও দেখা যেতো; এখন তা বিলুপ্ত প্রায়। আপনি বেছে খুটে কিছু সাগরেদ জমিয়ে নিন, তাদের সমালোচনা না করে তাদের তালে তাল দিয়ে চলুন, অন্যকে কটাক্ষ করুন, পারসোনাল এট্যাক করুন; দেখবেন আপনার সাগরেদেরা আপনাকে সাথ দিয়ে "এমন কথা বলার দরকার আছে" বলে চিৎকার করে উঠবে।

আমরা একটা কথা বুঝতেই পারি না; অন্যকে অপমান করতে করতে আমরা আমাদের নিজেদের সেল্ফ রেসপেক্ট হারিয়ে ফেলেছি। বন্ধুদের মধ্যে একজন আর একজনকে মাদার*দ বলে গালি দিলে সেও তাকে একই গালি দিয়ে দাঁত ক্যালায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:৩২
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যিই কি দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ৯:২৩


মাত্র আট বছর বয়সে কবি নজরুলের পিতৃবিয়োগ ঘটে। ওনার মা দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এটা কবি মেনে নিতে পারেন নি। মায়ের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।
শুরু হয় কঠিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামের সুন্দর মুহুর্তগুলো।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ১০:১০

গ্রাম্য শিশু বালিকা বেশে।


শিশুটির বয়স খুবই কম। কিন্তু সে মোবাইল চালনায় বিশেষ পারদর্শী। সাজুগুজুর কথা বললে তো কথায় নেই; প্রথম কাজ হলো ঠোঁটে লিপিস্টিক দেওয়া এবং বিশেষ ভঙ্গিমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা!! ই-পাসপোর্ট !!

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ১০:৫২



আমার সর্বশেষ এমআরপি পাসপোর্টটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখে।
তারপরে নানার কারণে (মূলত আলসেমী ও প্রয়োজন না থাকা এবং শেষে করনার উসিলায়) আর পাসপোর্ট তৈরি করা হয়নি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাছ তেল বেগুনি : একটি জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

লিখেছেন বিবাগী শাকিল, ২৬ শে মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১০



“আপনি কে?”
প্রশ্নটি যে করেছে, তাকে আমার কাছে মনে হলো বিশ-বাইশ বছরের তরুণী। তার পরনে বহুল ব্যবহৃত মলিন শাড়ি। মাথায় লম্বা ঘোমটা। ঠিকমতো কপালও দেখা যাচ্ছে না। কথা বলছে কীরকম আড়ষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৭৮টি মালটি-নিক থেকে কি কারণে ব্লগার চাঁদগাজীর উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিলো?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে মে, ২০২২ রাত ৯:৪৫



কয়েক'শ মালটি-নিক বানায়ে ব্লগার চাঁদগাজীকে আক্রমণ করা হয়েছিলো; কি কারণে আক্রমণ চালানো হয়েছিলো, ব্লগার চাঁদগাজী ব্লগে দিনরাত বসে কি করছিলেন?

ব্লগটিম বলেছেন যে, তাঁরা এসব মালটি-নিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×