somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনে দাগ কেটে যাওয়া গিফট!

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘড়ির প্রতি আমার অন্যরকম একটা আকর্ষণ কাজ করে। দামী ঘড়ি না, কম দামী ঘড়িই সই। দামী ঘড়ি কেনার কোন কারণ আমি কখনও খুঁজে পাইনি। সব থেকে বেশী দাম দিয়ে যে ঘড়িটা আমি নিজে কিনেছি, সেটা ৪,৫০০ টাকার মত হবে, স্মার্ট ওয়াচ।


আর সব থেকে দামী ঘড়ি যেটা আমি ব্যবহার করেছি, সেটা হচ্ছে ১২,০০০ টাকা দামের ঘড়ি। এক ভাইকে তার আইবিএ তে চান্স পেতে সহযোগীতা করেছিলাম, তার উপহার।

মূলত আমি ঘড়ি গিফট পেয়েছি তিনজন থেকে, ঐ ভাই, আমার বউ, এবং আমার ভাইয়ার বন্ধুর বাবা।

ঐ ভাই খুব লক্ষ্য করে চলা মানুষ। আমি কখনও তাকে বলিনি যে আমার ঘড়ি খুব পছন্দের। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আমার সাথে ঘোরাঘুরির সময় দেখেছেন যে ঘড়ির দোকান পাস করতে গেলে আমি সেদিকে তাকাই। আর সেটার থেকেই তিনি বুঝেছেন যে আমি ঘড়ি পছন্দ করি। উনার যেদিন আইবিএ ভর্তি পরিক্ষার রেজাল্ট দিলো, তিনি কল করে জানালেন যে আমার মেসে আসছেন, একটু জরুরী দরকার। হাতে করে ঘড়ি নিয়ে ঢুকলেন। এই ঘড়িটা আমি মাত্র কয়েকদিন আগেই রাইফেলসে (বর্তমানে সীমান্ত স্কয়ার) দেখেছিলাম। তাই দামটা জানা।

বউয়ের কিনে দেওয়া ঘড়িটার ডায়ালের থেকে স্ট্রাপটা আমার বেশী পছন্দের ছিলো। ঘড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু কাকতালীয় ভাবে তার দেওয়া ঘড়ির স্ট্রাপ আর আমার স্মার্ট ওয়াচের স্ট্রাপ একই সাইজের। তাই আমি তার দেওয়া ঘড়ির স্ট্রাপটি এখন স্মার্টওয়াচের জন্য কনভার্ট করে ব্যবহার করছি।

একবার টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে একটা ঘড়ি কিনেছিলাম। ঠিক বিকাল চারটায়। এক বছর পর দুপুর ৩:৫৫ মিনিটে ঘড়ি হাতে বসে (বেল্ট ভেংগে গেছিলো) আছি, কখন চারটা বাজবে। একজন এসে হাতে থাবা দিতেই ঘড়িটা ছুটে ড্রেনে পড়লো, আর খুঁজে পেলাম না। এখনও কষ্ট লাগে মনে, এক বছর পার করতে পারলাম না কয়েক মিনিটের জন্য। সেটা ক্লাস ৬ এর ঘটনা।

আমি যখন ক্লাস ৪ এ পড়ি, নুরুল ভাই (বড় ভাইয়ের বন্ধু) আমাকে একটা লম্বা কাগজের বক্স দিলেন। বক্সে শুধু Casio লেখা খুলে দেখি ঘড়ি। সাদা একটা ঘড়ি (বেল্টের কালার মনে নেই)। ঘড়িটা ডিজিটাল। সময় চেঞ্জ করবার বাটন ঘড়ির উপরের পাশে, লাল দুইটা দাগ, এখানে টাচ করলেই সময় পরিবর্তন করা যায়। নুরুল ভাইয়ের বাবা তখন জাপানে থাকতেন, জাপান থেকে এনেছিলেন ঘড়িটা। আমাকে কেন দিয়েছিলেন সেটা কখনও জানা হয়নি। আমি তাকে চিনতাম, তবে এখন মুখটাও মনে করতে পারি না।

ঘড়ি আমার জীবনে এটাই প্রথম। প্রচন্ড ভালোবাসতাম ঘড়িটাকে। কেউ একজন চুরি করে নিয়ে যায়। ঘড়িটা আমার মনে এমন ভাবে দাগ কেটে গিয়েছিলো যে এরপর প্রায় ২৭ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও আমি অনলাইনে, আর ঘড়ির দোকানে ঐ ডিজাইনের ঘড়িটা খুঁজে বেড়াই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:৫১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×