somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে দৃশ্য আপনি দেখতে চাইবেন না, যে দুর্গন্ধ আপনার নাকে ঢোকা উচিৎ না!

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ভোর ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি মূলত খবর কম দেখি বা পড়ি। দু-একটা পত্রিকা দিনের মধ্যে একবার খুলে দেখি, ডিটেইলস নিউজ পড়িই না বলা চলে।


তার উপর সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারী) আমার জীবনের খুব একটা চিন্তুযুক্ত সময় গিয়েছে। একাধিক বিষয় নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত ছিলাম, এবং এর ট্রমা কাটিয়ে উঠতে না জানি কতদিন আমাকে অপেক্ষা করতে হবে!

সকাল হতে অফিসে-হসপিটালে-এম্বাসিতে-স্কুলে আরও অনেক জায়গায় দৌড়িয়েছি। পুরা সময়টা আমার সন্তানেরা গাড়ির পিছনের সিটে। রাত্রে বাসায় ফিরে ঠিক ৪০ মিনিট বিশ্রামের সময় পেয়েছিলাম। বিশ্রামের সময়ের মধ্যে আগে থেকে সামান্য ভেবে রাখা একটা পোষ্ট পোষ্ট করে অনলাইন থেকে বের হয়ে যাই। সারাদিনে ফেসবুকের জন্য আমি ২০মিনিট সময় রাখি। সেটাও সোমবারে ব্যবহার করা হয়নি।

রাত্রে এয়ারপোর্টে হাজির হয়ে মোবাইলে একটু ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে তুরস্ক-সিরিয়ার ভুমিকম্পের নিউজ দেখে পুরা শরীর কেমন ঘেমে উঠলো। ওখানে বসেই চোখ বন্ধ করেও আমি যেন সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পেলাম, শুনতে পেলাম হাজারো মানুষের কান্নার শব্দ।

২০১৩ সালে যারা রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ একবারের জন্য হলেও দেখেছেন, তারা হয়ত কিছুটা উপলব্ধি করতে পারবেন তুরস্ক-সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা।

মাত্র একটা বহুতল ভবন ধ্বসে পড়ার ১৭দিন পর রেশমার উদ্ধার হওয়ার খবর বুঝিয়ে দেয় যে আমরা ১৭দিনেও মাত্র একটা বিল্ডিং এর ধ্বংসাবশেষ সরাতে পারিনি। সেখানে শত শত বিল্ডিং এর ধ্বংসাবশেষের কি হবে আল্লাহই জানেন।

রানা প্লাজার খবর শুনে আমি ছুটে গিয়েছিলাম, রক্ত দিতে, সাহায্য দিতে এবং সংবাদ কালেকশন করতে। ৪র্থদিনে যখন যাই, সে কি দুর্গন্ধ। ঐ দুর্গন্ধ আমার নাকে ২০১৭ সালেও লেগেছে। ঢাকা থেকে খুলনা যেতে বাসে উঠে ঘুমিয়ে গেলেও ঐ এলাকায় আসলেই অজানা কারণে সেই দুর্গন্ধ আমার নাকে আসতো, আর আমি জেগে যেতাম। ২০১৭ সালে শেষ ঐ রাস্তায় গিয়েছি। কে জানে, হয়ত এখনও ঐ রাস্তায় গেলে গন্ধ পাবো।

একটা বিল্ডিংএর নিচে চাপা পড়া হাজার মানুষের আত্মীয়স্বজন ও ঐ দিন আহত হওয়া মানুষ জন কি আজও সত্যিকার অর্থে ট্রমা থেকে সম্পূর্ণ বের হতে পেরেছে?

১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্ক এমনই এক ভুমিকম্পের স্বীকার হয়েছিলো। প্রায় ৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু সহ লক্ষাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো। সেটার কারণে যে ভুমির ডিসপ্লেসমেন্ট হয়েছিলো, তা আজও স্পষ্ট বোঝা যায়।

৬ তারিখের ভুমিকম্প শুধু একবার নয়, ১৫ বারেরও বেশি আফটার শক নিয়ে ফিরে ফিরে এসেছে, যার মধ্যে একটি ৬মাত্রারও ছিলো। নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায়, এই ভুমিকম্পে বেঁচে ফেরা মানুষ গুলি আগামীতে সামান্য কোন নড়াচড়াতেও আতঙ্কিত হয়ে উঠবে। যারা স্বজন হারিয়েছে, তাদের মনের দুঃখ কষ্ট আমরা বুঝে উঠতে পারবো কি কখনও?

এ এমনই এক ধ্বংসলীলা, যা আপনি দেখতে চাইবেন না কখনও। আর এখানে মৃত মানুষের লাশ বাতাসের সাথে যে দুর্গন্ধ ছড়াবে, তাও আপনি শুকতে চাইবেন না কখনও। আর হাজারও মানুষের কান্নার শব্দ, আপনাকে কাঁপিয়ে কাদিয়ে দিতে যথেষ্ট।


ছবিঃ Sky News



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ভোর ৫:১৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩২

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক নীতি হলো- অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×