
রতন কান্তির অর্ধেক জীবন : একটি শর্ট ফিল্মের চিত্রনাট্য
মূল গল্প: নিয়ামুল বাসার
চিত্রনাট্য রূপান্তর: নিয়ামুল বাসার
ধরন: সামাজিক নাটক / পারিবারিক
আনুমানিক দৈর্ঘ্য: ২৫–৩০ মিনিট
ভাষা: বাংলা
চরিত্র পরিচিতি
রতন কান্তি সূত্রধর — চল্লিশ বছর বয়সী হিন্দু মাংস বিক্রেতা। ময়মনসিংহের নতুন বাজারে পারিবারিক দোকানদার। পরিশ্রমী, একনিষ্ঠ, ঐতিহ্যপ্রেমী। ভেতরে ভেতরে যন্ত্রণায় ভোগা একজন সাধারণ মানুষ।
মিতালি — রতনের ১২ বছর বয়সী মেয়ে। রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত। ফ্যাকাসে মুখ, দুর্বল শরীর, কিন্তু মিষ্টি হাসি।
সন্ধ্যা (রতনের স্ত্রী) — তিরিশের শেষে। সংসারী, উদ্বিগ্ন মা। মেয়ের অসুস্থতায় ভাঙা।
আনন্দ — পাশের মুরগির দোকানদার। রতনের বন্ধু। সহজ-সরল, প্রাণবন্ত।
ডেভেলপার প্রতিনিধি — স্যুটেড, চালু ব্যবসায়ী। ভদ্র কিন্তু সুযোগসন্ধানী।
ডাক্তার — মধ্যবয়সী, শান্ত কণ্ঠ। সত্য কথা সরাসরি বলেন।
পরিচিত ক্রেতারা — বিভিন্ন ক্রেতা চরিত্র (উকিল, অফিসার, ব্যবসায়ী)।
প্রথম অঙ্ক — সন্ধ্যার বাজার
দৃশ্য ১ — বাহ্যিক/অভ্যন্তরীণ — নতুন বাজার, ময়মনসিংহ — সন্ধ্যা
সন্ধ্যার আলো ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে। ময়মনসিংহের নতুন বাজার জীবন্ত হয়ে উঠছে। ক্যামেরা ধীরে প্যান করে — মাছের দোকান, সবজি পট্টি, ফলের স্তূপ। শব্দ: বাজারের গুঞ্জন, হাঁকডাক, রিকশার টুংটাং।
ক্যামেরা থামে রতনের দোকানে। পাঁচ বাই পাঁচ ফিটের ছোট কাঠের চৌকি। সামনে একটা পুরো খাসির শব ঝুলছে — চামড়া ছাড়ানো, লাল টকটকে।
রতন কান্তি সূত্রধর বসে আছে। হাতে ছুরি। চোখ দূরে। মুখে ক্লান্তি।
পাশের দোকানে আনন্দ মোবাইল ঘাঁটছে।
আনন্দ
(মোবাইল না তুলেই)
আজ বাজার ফাঁকা, দাদা।
রতন
(ছুরি নাড়তে নাড়তে, হতাশ ভাবে)
হুঁ।
একটা মোটাসোটা কুকুর এসে দোকানের সামনে বসে পড়ে। ঝুলন্ত খাসির দিকে তাকিয়ে লালা ঝরায়।
রতনের মেজাজ চড়ে যায়।
রতন
(ছুরি তুলে, তীক্ষ্ণ গলায়)
যা! ভাগ এখান থেকে!
কুকুরটা চুপচাপ উঠে চলে যায়। রতন ফের ছুরি নামায়। দীর্ঘশ্বাস।
CLOSE-UP: ঝুলন্ত খাসির অর্ধেক অংশ। রতনের চোখ।
রতন
(ভয়েস-ওভার, মনে মনে)
সকালে বারো কেজির খাসি কিনলাম। তিন কেজি বিক্রি হয়েছে। বাকিটা ঝুলছে। ঠিক আমার জীবনের মতো — অর্ধেক।
দৃশ্য ২ — অভ্যন্তরীণ — রতনের দোকান — একটু পরেই
একজন পরিচিত ক্রেতা আসে — মধ্যবয়সী ভদ্রলোক।
ক্রেতা ১
(হাসিমুখে)
রতনদা, তিন কেজি মাংস দিন। বাসায় মেহমান আসছে।
রতন
(একটু প্রাণ ফিরে পেয়ে)
এক্ষুনি দিচ্ছি।
রতন দ্রুত ছুরি চালায়। মাংস কাটে। দাঁড়িপাল্লায় মাপে।
টাকা হাতে নেয়। মুখে সামান্য স্বস্তি।
কিন্তু তারপর — দুঘণ্টা কেটে যায়। কেউ আসে না।
রতন বাটন ফোন বের করে সময় দেখে।
INSERT: ফোনের স্ক্রিনে রাত ৯:০৫
রতনের মাথায় বাবার কথা ভাসে —
বাবার কণ্ঠস্বর
(ভয়েস-ওভার)
ব্যবসা মানে ধৈর্য। বাজার ওঠানামা করবে। তবু ধরে রাখ।
রতনের ফোন বাজে। স্ত্রীর নম্বর।
সন্ধ্যা
(ফোনে, উদ্বিগ্ন)
কী হলো? দেরি কেন? মিতালির ওষুধ আনতে ভুলো না।
রতন
(আস্তে)
খাসি এখনো ঝুলে আছে। শেষ হলে আসব।
ফোনের ওপাশে সন্ধ্যার দীর্ঘশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়।
রতন ফোন রাখে। চোখে জলের আভাস।
দৃশ্য ৩ — অভ্যন্তরীণ — রতনের দোকান — রাত
বাজার ফাঁকা হয়ে আসছে। আনন্দ দোকান গুটাচ্ছে।
আনন্দ
(বিদায় নিতে নিতে)
রতনদা, আজ বাড়ি যাও। বেশি রাত করো না।
রতন
(মাথা নেড়ে)
যাব। একটু অপেক্ষা।
হঠাৎ এক মধ্যবয়সী লোক আসে — শহরের নামকরা উকিল। ব্যস্ত ভঙ্গি।
উকিল
রতন, পাঁচ কেজি দাও। দামাদামি করো না।
রতন দ্রুত কাটে। ওজন করে। টাকা নেয়। রাত দশটা বাজে।
খাসির বাকি অংশ পাশের দোকানে ফ্রিজে রেখে দেয়।
দোকান বন্ধ করে।
রাস্তায় বেরিয়ে আকাশের দিকে তাকায়। অন্ধকারে তারার ঝিলিক।
রতন
(ভয়েস-ওভার, দৃঢ়ভাবে)
এই মাটি, এই বাজার, এই দোকান — সব ছেড়ে যেতে পারব না। আমি টিকে থাকব।
দ্বিতীয় অঙ্ক — ভাঙন
দৃশ্য ৪ — অভ্যন্তরীণ — রতনের বাড়ি — ভোরবেলা
ছোট্ট উঠোনে রতন দাঁড়িয়ে। আকাশ দেখছে। ভোরের নরম আলো।
ভেতর থেকে হালকা কাশির শব্দ আসে।
রতন চমকে ঘরে ঢোকে।
মিতালি বিছানায় শুয়ে। ফ্যাকাসে মুখে ক্ষীণ হাসি।
মিতালি
(দুর্বল কণ্ঠে)
বাবা, তুমি কি আজ তাড়াতাড়ি ফিরবে? আমি তোমার সঙ্গে বসে গল্প করব।
রতন মেয়ের কপালে হাত রাখে। হালকা জ্বর।
তার বুকে ঝড় উঠলেও মুখে স্থির ভাব।
রতন
(আলতো করে)
হ্যাঁ মা, আজ তাড়াতাড়ি আসব। তুই বিশ্রাম নে।
রতন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু থামে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
সন্ধ্যা কাছে আসে।
সন্ধ্যা
(চাপা গলায়)
মিতালির শরীর আরও খারাপ হচ্ছে। ওষুধটা আজই আনো।
রতন
(মাথা নাড়ে, কিছু বলে না)
...
সে বাজারের দিকে হাঁটা শুরু করে।
CLOSE-UP: রতনের পায়ের নিচে পুরোনো মাটি।
দৃশ্য ৫ — অভ্যন্তরীণ/বাহ্যিক — নতুন বাজার — বিকেল থেকে রাত
রতন দোকান খোলে। খাসি জবাই করে ঝোলায়। কিন্তু ক্রেতা আসে না।
পাশে আনন্দের দোকানে দু-একজন মুরগি কেনে।
আনন্দ
(সহানুভূতির সুরে)
রতনদা, আজও ফাঁকা? মানুষের পকেট খালি।
রতন
(হাসার চেষ্টা করে, পারে না)
কী আর করব বলো।
বিকেল গড়ায়। একজন সরকারি অফিসার আসে।
অফিসার
রতন, দুই কেজি মাংস দাও। ভালো করে কাটো।
রতন মাংস কাটে। টাকা পায়। কিন্তু মন খালি।
রাত নামে। বাজারে আলো জ্বলে।
রতনের মোবাইল বাজে।
সন্ধ্যা
(ফোনে, কাঁপা গলায়)
মিতালির জ্বর আবার এসেছে। আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরো।
রতন
(বুক ধড়ফড় করে, কিন্তু দোকান ছাড়তে পারছে না)
আসছি... আর একটু।
সে ফোন রেখে আকাশের দিকে তাকায়।
রতন
(ফিসফিস করে)
ভগবান, আমি কী করব?
রাত দশটায় শেষ ক্রেতা আসে। দুই কেজি নেয়। খাসি শেষ।
রতন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরে।
দৃশ্য ৬ — অভ্যন্তরীণ — রতনের বাড়ি — রাত
মিতালি ঘুমিয়ে পড়েছে। কপাল গরম।
রতন মেয়ের মাথায় হাত রাখে। চোখ ভেজে।
সন্ধ্যা
(শান্তভাবে কিন্তু উদ্বিগ্ন)
ডাক্তার বলেছে বেশ কিছু টেস্ট করতে হবে।
রতন
(চুপ)
...
রাতে রতন ঘুমাতে পারে না। উঠোনে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে।
মনে দ্বন্দ্ব — ভিটেমাটি না মেয়ের জীবন?
রতন
(একা, কাঁপা গলায়)
জমি ছাড়লে মিতালি বাঁচবে। কিন্তু ভিটেমাটি গেলে আর কী থাকল? বাপ-দাদার উত্তরাধিকার... এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি আমি।
বিরতি। মিতালির মুখ মনে ভাসে।
রতন
(দৃঢ়ভাবে)
মিতালি, আমি তোকে বাঁচাব। যা করতে হয়, করব।
রাতের নীরবতায় কথাটা প্রতিধ্বনি তোলে।
দৃশ্য ৭ — অভ্যন্তরীণ — ডাক্তারের চেম্বার — বিকেল
রতন ও সন্ধ্যা মিতালিকে নিয়ে এসেছে। ডাক্তার পরীক্ষা করে।
ডাক্তার
(শান্ত, কিন্তু সরাসরি)
রক্তশূন্যতা বেড়েছে। জরুরি চিকিৎসা দরকার। ওকে এখনই হাসপাতালে ভর্তি করে দিন। না হলে বিপদ হতে পারে।
সন্ধ্যা কাঁদতে শুরু করে। মিতালি ঘুমের ঘোরে।
রতন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। চোখ শুকনো। কিন্তু মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিহ্ন।
তৃতীয় অঙ্ক — সিদ্ধান্ত
দৃশ্য ৮ — অভ্যন্তরীণ — ডেভেলপারের অফিস — দুপুর
চকচকে, সাজানো অফিস। এসি ঘর। টেবিলের ওপাশে ডেভেলপার প্রতিনিধি — স্যুট পরা, আত্মবিশ্বাসী।
রতন বসে আছে। পুরোনো পাঞ্জাবি-লুঙ্গিতে। কিন্তু চোখে সিদ্ধান্ত।
দুজনের মাঝে কাগজপত্র।
ডেভেলপার প্রতিনিধি
(মিষ্টি হেসে)
তাহলে রতনবাবু, আপনি ভেবেছেন? দশ তলা বিল্ডিং হবে। আপনারা চারটা ফ্ল্যাট পাবেন। সত্যিই লাভজনক।
রতন
(চুপ থেকে, মেয়ের মুখ মনে করে)
আমি রাজি। কাগজপত্র নিয়ে আসুন।
ডেভেলপার প্রতিনিধি
(অবাক হয়ে, তারপর হাসিমুখে)
অবশ্যই! আজই সব রেডি করছি।
রতন
(কণ্ঠ সামান্য ভেঙে)
আজই সই করব। আমার টাকা দরকার।
প্রতিনিধি দ্রুত কাগজ এগিয়ে দেয়।
CLOSE-UP: রতনের হাত কাঁপছে। ধীরে ধীরে কলম তোলে।
কলম কাগজ স্পর্শ করে।
সই হয়।
CLOSE-UP: রতনের মুখ। চোখে জল আসে না — শুধু একটা ভাঙনের ছায়া।
রতন
(মনে মনে)
মিতালি বাঁচুক। বাপ-দাদার মাটি যাক।
দৃশ্য ৯ — অভ্যন্তরীণ — হাসপাতাল — বিকেল
রতন হাসপাতালে আসে। অ্যাডভান্সের টাকা হাতে।
ডাক্তার বাইরে এসে জানায়।
ডাক্তার
(হাসিমুখে)
সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখন আপনার মেয়ে ভালো আছে।
রতনের মন হালকা হয়। কিন্তু বুক ভারী।
রতন
(নিজের মনে)
মিতালি বাঁচল। কিন্তু আমি পৈতৃক ভিটা হারালাম।
চতুর্থ অঙ্ক — নতুন জীবন, পুরোনো স্মৃতি
দৃশ্য ১০ — বাহ্যিক — পুরোনো বাড়ির সামনে — কয়েক মাস পরে
রতনের পুরোনো বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। লোহার রড, সিমেন্ট, শ্রমিকদের হাঁকডাক।
রতন দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে। মুখ পাথরের মতো।
পুরোনো টিনশেড ভেঙে পড়ছে।
SLOW MOTION: মাটিতে মিশে যাচ্ছে একতলা বাড়ির শেষ দেওয়াল।
রতন
(ভয়েস-ওভার)
বাপ-দাদার মাটি এখন অন্যের। কিন্তু মিতালি ভালো হয়েছে। সেটাই আমার সান্তনা।
দৃশ্য ১১ — বাহ্যিক — নতুন বাজার — দিন
রতন বাজারে হাঁটছে। হাতে ব্যাগ। ক্রেতার মতো।
পুরোনো দোকানের জায়গায় অন্য লোক বসে।
আনন্দ দেখে এগিয়ে আসে।
আনন্দ
(উষ্ণ হাসিতে)
রতনদা! কেমন আছ? মিতালি কেমন?
রতন
ভালো। তুই কেমন আছিস?
আনন্দ
(সহজভাবে)
বাজার একই আছে। কিন্তু তোমাকে ছাড়া ফাঁকা লাগে, রতনদা।
রতন হাসে। কিন্তু চোখে জল আসে।
সে বাজার থেকে মাংস কেনে।
রতন
(মনে মনে)
আমি এখন ক্রেতা। বিক্রেতা নই। জীবন উল্টে গেছে।
দৃশ্য ১২ — অভ্যন্তরীণ — রতনের নতুন ফ্ল্যাট — সন্ধ্যা
সুন্দর নতুন ফ্ল্যাট। পরিচ্ছন্ন ঘর।
রতন মাংস এনে মিতালির হাতে দেয়।
রতন
(হাসিমুখে)
আজ তোর জন্য মাংস কিনে এনেছি।
মিতালি
(সুস্থ, প্রাণবন্ত)
বাবা! সত্যি? আমি রান্না করব আজ!
রতন হাসে। মিতালির মুখের দিকে তাকায়।
এই হাসিটুকুই তার সব।
দৃশ্য ১৩ — বাহ্যিক — চাষের জমি — ভোরবেলা
রতন ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে। চারদিকে সবুজ।
সে হাঁটুগেড়ে মাটি স্পর্শ করে।
রতন
(আস্তে)
এটা তো আছে...
সে উঠে দাঁড়ায়। দিগন্তের দিকে তাকায়।
রতন
(ভয়েস-ওভার)
দোকানের স্মৃতি। খাসির গন্ধ। ছুরির শব্দ। বাপ-দাদার ভিটে। সব হারিয়েছি। কিন্তু টান তো থেকে যায়। থেকেই যায়।
দৃশ্য ১৪ — বাহ্যিক — নতুন বিল্ডিংয়ের ছাদ — রাত — সমাপ্তি দৃশ্য
রতন ছাদে দাঁড়িয়ে। ময়মনসিংহ শহরের আলো ঝলমল করছে নিচে।
উপরে আকাশ ভরা তারা।
সে আকাশের দিকে তাকায়।
নিচে তার পুরোনো বাড়ির জায়গায় এখন উঁচু বিল্ডিং।
WIDE SHOT: রতনের একাকী সিলুয়েট — শহরের আলোর পটভূমিতে।
রতন
(ধীরে, বুকের গভীর থেকে)
এটাই জীবন।
সে হাসে। ক্লান্ত, বেদনার্ত — কিন্তু মানবিক হাসি।
FADE OUT.
শেষ শট: ফ্ল্যাটের ভেতর মিতালি পড়াশোনা করছে। সন্ধ্যা রান্নাঘরে। রতন বাইরে থেকে দরজা খুলে ঢোকে।
পরিবারের উষ্ণতায় ঘর ভরে ওঠে।
BLACK SCREEN.
টাইটেল কার্ড আসে:
রতন কান্তির অর্ধেক জীবন
"কিছু ছেড়ে দিয়েই কিছু পাওয়া যায়।
কিন্তু ভালোবাসার টান থেকে যায় চিরকাল।"
CREDITS ROLL.
পরিচালকের নির্দেশনা ও প্রযোজনা নোট
ভিজ্যুয়াল স্টাইল
প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন। বাজারের দৃশ্যে গোল্ডেন আওয়ার আলো — সন্ধ্যার রঙিন বাজারের পরিবেশ তৈরি করতে। রতনের মুখে CLOSE-UP বেশি ব্যবহার করুন — তার চোখই গল্পের মূল বাহক।
রঙ বিন্যাস (Color Palette)
প্রথম ও দ্বিতীয় অঙ্কে উষ্ণ-হলুদ ও কমলা রঙ (বাজারের জীবন)। তৃতীয় অঙ্কে ঠাণ্ডা নীল-ধূসর (সংকট ও সিদ্ধান্ত)। চতুর্থ অঙ্কে আবার নরম উষ্ণ আলো (মিতালির সুস্থতা, নতুন জীবন)।
শব্দ পরিকল্পনা (Sound Design)
বাজারের হাঁকডাক, ছুরির শব্দ, মাংস কাটার শব্দ — এগুলো রতনের পরিচয়ের অংশ। শেষের দিকে এই শব্দগুলো ধীরে মিলিয়ে যাবে — হারানোর অনুভূতি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সারোদ বা বাঁশি — কম, পরিমিত।
অভিনয় নির্দেশনা
রতন চরিত্রে সংযত, সূক্ষ্ম অভিনয় প্রয়োজন। তার যন্ত্রণা চিৎকারে নয় — চোখে, হাতের ছুরি ধরায়, মুখের রেখায়। মিতালি চরিত্র — অসুস্থ হলেও উজ্জ্বল। তার হাসি দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করবে।
শুটিং লোকেশন পরামর্শ
ময়মনসিংহের আসল নতুন বাজারে শুট করলে সবচেয়ে ভালো। না হলে যেকোনো পুরোনো কাঁচাবাজার। বাড়ির দৃশ্যে পুরোনো টিনশেড বাড়ি জরুরি — এটা গল্পের একটা চরিত্র।
বাজেট পরামর্শ
লো-বাজেটে শুট সম্ভব। মূল বিনিয়োগ ভালো ক্যামেরা, প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এবং শক্তিশালী অভিনেতা বাছাইয়ে। গল্পের শক্তিই এই ফিল্মের মূল সম্পদ।
ফিল্মের থিম ও বার্তা
এই শর্ট ফিল্মের মূল বার্তা: একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ লড়াই। সে দেশভাগ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কিন্তু যখন নিজের সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তখন সে ভিটেমাটি ছেড়ে দেয় — এটা তার পরাজয় নয়, এটা তার প্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ।
ঝুলন্ত অর্ধেক খাসি — এই প্রতীকটি ফিল্ম জুড়ে বারবার আসবে। জীবনের অসম্পূর্ণতার রূপক। কিছু পাওয়া, কিছু হারানো — এটাই রতনের, এটাই আমাদের সবার জীবন।
— সমাপ্ত —
মূল গল্প: নিয়ামুল বাসার
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



