somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার স্ত্রী, তোমার অনুপমা সঙ্গী!

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইমাম আহমদ ইবনে হানবাল (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) নিজের ছেলেকে বিয়ের পর তার নব বিবাহিতা স্ত্রীর প্রতি কি কি ধরনের আচরন করতে হবে, সেটা ১০টা অসম্ভব সুন্দর আর পান্ডিত্যপূর্ণ উপদেশে বলে গিয়েছিলেন। ব্লগের পাঠকদের জন্য আমি সেটা বঙ্গানুবাদ করে নীচে দিলাম। সব অবিবাহিত আর বিবাহিত পুরুষদের জন্যই এই উপদেশগুলি জানা উচিৎ!

১. নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। তারা খুনসুঁটি আর রসিকতা পছন্দ করে। নখরা আর ন্যাকামি তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তারা ভালোবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে পছন্দ করে। তুমি একান্তে তোমার স্ত্রীর কাছে এসব প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবে না।

২. নারীদের বেশি বেশি করে ভালোবাসার কথা বলবে। যদি ভালোবাসা প্রকাশে কখনো কার্পণ্য করো, তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল বা পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিন দিন তোমাদের পরস্পরের সম্পর্কে মাঝে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। আর ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজা শুরু করবে!

৩. নারীরা কঠোর, কর্কশ, রূঢ়, আর রুক্ষ স্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করে না। তোমার মধ্যে এমন কিছু থেকে থাকলে এখনই সেই গুলি পরিত্যাগ করে ফেলে দাও। কারণ তারা শুশিল, ভদ্র, উদার মনের মানুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালোবাসা অর্জনের জন্যে, এমনকি তাকে আশ্বস্ত করার জন্যে হলেও এই গুণ গুলো অর্জন করার চেস্টা কর!

৪. এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে যে, তুমি তোমার স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, পরিপাটি, গুছালো, সুরুচি পূর্ণ আর সুগন্ধিময় দেখতে চাও; তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই দেখতে চায়। তাই সাবধান থাকবে, তার চাহিদা পূরণে যেন, কোনও অবস্থাতেই, তোমার পক্ষ থেকে বিন্দু মাত্র অবহেলাও যেন না হয়।

৫. ঘর হলো নারীদের একান্তই নিজেদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে সবসময়ই সেই নিজের রাজ্যের সিংহাসনে নিজেকেই আসীন দেখতে খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়, স্বপ্নে, বাস্তবে এই রাজ্য নিয়ে ভাবে, সাজায়, প্রেমের ঘর রচনা করে। খুবই সাবধানে থাকবে! কখনোই তোমার স্ত্রীর এই সুখময় রাজত্বকে ভেঙে দিতে যেও না। এমনকি তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার চেস্টাও করবে না।

৬. নারীরা তার স্বামীকে মনে প্রাণে, সর্বান্তঃকরণে ভালোবাসে আর প্রবলভাবে শুধু স্বামীকেই পেতে চায়। তবে পাশাপাশি নিজের বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না। হুঁশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু করে দিও না। তুমি এ অন্যায় দাবি কখনোই করে বসো না, হয় আমাকে বেছে নাও, নাহলে তোমার বাবা-মাকে? তুমি এ বিষয়টা চিন্তাতেও আসতে দিও না। তুমি তাকে এমনটা করতে বাধ্য করলে, সে হয়তো তোমার চাপে পড়ে এটা মেনে নিবে। কিন্তু তার মনের গহীনে কোথাও একটা চাপা আর বোবা কান্না গুমরে গুমরে মরতে থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধাও তার কোমল মনে জেগে উঠবে। সুতরাং সাবধান!

৭. তুমি জানো এবং পড়েছ নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে। এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়, তার সৌন্দর্যই এই বক্রতায়। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হতো, দেখতে এত সুন্দর লাগতো? যদি তোমার স্ত্রী কোনও ভুল করে ফেলে, তুমি অস্থির হয়ে রেগেমেগে ঝগড়া শুরু করে বসো না। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা করতে যেও না, তাহলে অতিরিক্ত চাপে সে ভেঙে যাবে। আর ভাঙা মানে বুঝই তো, বিচ্ছেদ। আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে, ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কিছু না বলে লাগামহীন ভাবেও তাকে ছেড়ে দিও না। তাহলে এই বক্রতা আর উদ্ধত আচরন আরও বেড়ে যাবে। তোমার প্রতি আচরনও উদ্ধত হয়ে যাবে। তুমি সব সময় এই দুইটার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।

৮. নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে এইভাবে যে, তাদের কৃতজ্ঞতা বোধ কম থাকে। তার প্রতি অতীতে কৃত সব সদ্ব্যবহার আর সদাচার তারা প্রায়শই ভুলে যায়। তুমি যদি তার প্রতি যুগ যুগান্তরও সুন্দর আচরণ করো, হঠাৎ একদিন কোনক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছো; ব্যাস, অমনিই সে নাকের জল, চোখের জল সব এক করে বলবে আমি তোমার কাছ থেকে কখনোই ভালো কিছু পাইনি। দেখো বাবা! তার এই আচরণে রুষ্ট হবে না। তার এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি বিতৃষ্ণা মনে এনো না। তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও, তার মধ্যে তুমি অনেক এমন কিছুই পাবে, যা তুমি শুধু পছন্দই করবে না, বরং তোমার নিজের জীবন তার জন্য উৎর্সগ করতে এক ফোটা দ্বিধাও করবে না!

৯. নারীদের শরীর ও মনের অবস্থা সবসময় এক রকম থাকে না। প্রতি মাসের প্রায় নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে। সেই সময় কিছুটা মানসিক অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ তা'আলা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের নামায মাফ করে দিয়েছেন, রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছেন তার স্বাস্থ্য ও মেজাজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত। তুমি তো এই রাব্বুল আলামীনেরই বান্দা। তুমিও তোমার রবের গুণে গুণান্বিত হও। তুমি তোমার স্ত্রীর দুর্বল মুহূর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল থাকবে! এই সময়ে তুমি তোমার আবদার আর আবেগ শরমে রেখ। এতে তোমার রাব্বুল আলামীন অবশ্যই খুশি হবেন!

১০. সবসময় মনে রাখবে, তোমার স্ত্রী তোমার কাছে অনেকটাই দায়বদ্ধ, বিভিন্ন ভাবে তোমার নিকট মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি তার প্রতি অবশ্যই যত্নবান হবে। তার প্রতি অনেক বেশি মনোযোগ দিবে। তাকে হৃদয়ে আপন করে নিবে।

তাহলেই সে তোমার জন্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে। তাহলেই তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার অনুপমা সঙ্গী হিসেবে পাবে!

*(মূল আরবী লেখাটা থেকে আবদুল রহিম অনুবাদ করেছেন এবং মাওলানা আবদুস সুবহান এটার সম্পাদনা করেছেন।)
পুরো লেখাটা বাংলায় অনুবাদ করার সময় আমি অনেকটাই ভাবানুবাদ করেছি। মূল লেখাটা আরবী ভাষায় লেখা হলেও এর অনেক রকম ইংরেজি ভার্সন আমি পেয়েছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বাংলা অনুবাদের সাহায্যও নিয়ে সবগুলি মিলিয়ে খুব সুন্দর করে অরিজিনাল লেখার মুল থীমটা তুলে ধরার চেস্টা করেছি।

অনেকেই হয়ত এর সনদ বা সূত্র দেবার জন্য অনুরোধ করবেন। মনে রাখবেন, কুরআন ও হাদিসের জন্য রেফারেন্স প্রয়োজন। কিন্তু উপরের ১০ টা হচ্ছে সালাফের মতামত, যা উপদেশ, তাতে রেফারেন্সের কোন প্রয়োজন নেই!

সবার জানার জন্য বলছি, ইমাম আহমদ ইবনে হানবাল (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) একজন মহান ইসলামিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামী ফিকাহ বা মাযহাব এর চার মহান ইমামদের একজন। তিনি হানবলী মাযহাবের প্রবক্তা! তার মাযহাবের অনুসারী এই মুহূর্তে পৃথিবীতে অনেকেই আছেন। তাঁর গবেষনা আর পুস্তক গুলি ইসলামিক দেশগুলিতে অনেকেই গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে অনুসরণ করেন।

এই অনুপম লেখাটা আমার প্রিয়তমা স্ত্রী প্রথম আমাকে দেখায়। ইংরেজিতে অনুবাদ করা লেখাটা দেখার আর পড়ার সাথে সাথেই আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। লেখাটার সর্ম্পকে বিস্তারিত জানার জন্য ইন্টারনেটে ব্যাপক খুঁজাখুজি শুরু করি। এত সুন্দর একটা লেখার অবশ্যই রেফারেন্স থাকবে! কিন্তু আসল সমস্যা ছিল ভাষা! দীর্ঘদিন উপযুক্ত চর্চার অভাবে আরবী ভাষা, বাংলা বা ইংরেজি ভাষার মতো জানতাম না। এই বিপদ উদ্ধারে এগিয়ে আসল গুগল ট্রান্সলেশন। দিনের পর দিন ইংরেজি ও আরবী ভাষায় লেখা বিভিন্ন ওয়েব পেজগুলি থেকে শেষ পর্যন্ত যা উদ্ধার হলো, তা রীতিমতো চমকপ্রদ!

অনেক কষ্ট করার পর এই চমৎকার লেখাটার আসল সূত্র আমি খুঁজে পেলাম। এটা আরবী ভাষায় লেখা। ব্লগের পাঠকদের জন্য এটা এখানে দেয়া হলো http://www.saaid.net/Doat/brigawi/69.htm অরিজিনাল লেখাটা লিখেছেন আবদুল লতিফ মুহাম্মদ আল-ব্রিগাউই।

ব্যাপক অনুসন্ধানের পর পাওয়া গেল যে, সর্বপ্রথম এই লেখাটা কর্ডোবা একাডেমির টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পোষ্ট দেয়া হয়েছিল। অনেকেই তাদের কাছে এর সূত্র চেয়ে অনুরোধ করলে অবশেষে তারা নিজেরাও এটার সত্যতা জানার জন্য অনুসন্ধান চালায়। এবং তারপর তারা এটার সত্যতা এবং সূত্র উল্লেখ করে পোষ্ট দেয়। অরিজিনাল এই পোষ্ট আমি নীচে তুলে দিলাম।

As salam mu alaikum alaikum wa rahmat Ullah wa barakataHu

Esteemed colleagues in seeking the Sacred Sciences,

It with a heavy heart, that I would like to state that the above advice ascribed to Imam Ahmed ibn Hanbal (RA) is incorrectly ascribed to him. I have researched through many traditional works and have not been able to find this advice in any of them.

For the transmission of the story, I relied solely on the source of the translated story which was the website of Shaikh al-Muhaddith Abdur Raheem al-Limbada, a famous teacher of Hadith in the UK. I saw that both he and another scholar had transmitted it and as the advice was sound and not a hadith of our beloved prophet (Salahu alayhi wasalam) I made the mistake of posting it without checking the source in Arabic. Upon checking the language and expressions used in the Arabic source (which can be found on websites of other scholars who made the same mistake), I have come to the conclusion that it is not correct to ascribe it to the Imam and that it has probably been fabricated by someone who has good intentions in the same way that other anecdotes have also been fabricated and ascribed to Imam Ahmed ibn Hanbal (RA).

Jazak Allah khairan for your understanding in this affair, and I beg Allah to ennoble us with humility so that we are able to admit our mistakes as well as enabling us to remain on the path of Haq.

Was-Salam
Mohammed Daniel


এবার চলুন দেখি আসি ঠিক এই বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবী রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যবহার নিয়ে কি কি বলেছেন-
১. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِي
তোমাদের মাঝে সে সবচেয়ে ভালো, যে তার পরিবারের জন্য ভালো। আর আমি আমার পরিবারের জন্য সবার চেয়ে ভালো।
(সূত্রঃ জামে তিরমিযী ২/২২৮, হাদীস ৩৮৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৪২)

২. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا، وَخَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِنِسَائِهِمْ.
সবচেয়ে কামিল মুমিন সে, যার স্বভাব ও আচরণ সবচেয়ে ভালো। আর তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ সে, যে তার স্ত্রীর জন্য শ্রেষ্ঠ।
(সূত্রঃ জামে তিরমিযী ১/২১৯, হাদীস ১১৬২)

৩. রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “হে মানব জাতি! স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার ব্যাপারে আমার হুকুম মান্য কর। পাঁজরের হাড় থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, স্বভাবতই তারা বাঁকা। যদি তুমি বাঁকা হাড়কে শক্তির দ্বারা সোজা করতে যাও, তবে তা ভেঙে যাবে। তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দাও, সব সময় বাঁকাই থাকবে। এজন্য এটা আমার শেষ নির্দেশ হিসেবে কবুল কর, স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর”- [সূত্রঃ বোখারী ও মুসলিম]

৪. হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আক্কাফ রা. কে বললেন, হে আক্কাফ! তোমার স্ত্রী আছে? তিনি বললেন, না। রাসুলুল্লাহ(সা.) বললেন, তোমার কি সম্পদ ও স্বচ্ছলতা আছে? তিনি বললেন, আছে। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি এখন শয়তানের ভাইদের দলভূক্ত। যদি তুমি খ্রিস্টান হতে তবে তাদের রাহেব (ধর্ম গুরু) হতে। নিঃসন্দেহে বিয়ে করা আমাদের ধর্মের রীতি। তোমরা কি শয়তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাও? শয়তানের কাছে নারী হলো অস্ত্র। সবাই নারী সংক্রান্ত ফেৎনায় জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যারা বিয়ে করেছে তারা নারীর ফেৎনা থেকে পবিত্র। নোংড়ামি থেকে মুক্ত। তারপর বলেন, আক্কাফ! তোমার ধ্বংস হোক। তুমি বিয়ে কর, নতুবা তুমি পশ্চাৎপদ মানুষের মধ্যে থেকে যাবে। [মুসনাদে আহমদ, জমউল ফাওয়ায়েদ, ইমদাদুল ফাতওয়া :২/২৫৯]।

লেখাটা শেষ করব আমার খুব পছন্দের একটা শায়ের দিয়ে: আওর‌্যাত কী ডোলী যাহা উত্যরাতী হ্যয়, উসকী আর্থী ওহীঁ সে উঠতি হ্যায়।
- এর অর্থ হলো মেয়েদের পালকি যেখানে গিয়ে নামে, সেখান থেকেই তার জানাযা ওঠে। এটাই সবচেয়ে বড় নির্মম সত্য! তোমার স্ত্রীরূপে তোমার ঘরে আসা এই মেয়েটির দিলে তাসাল্লির মরহম তোমাকেই রাখতে হবে। এক মাটি থেকে উপড়ে এনে আরেক মাটিতে রোপণ করা একটি চারাগাছ থেকে দুই দিন পরেই ফল দাবী করা কতটা নিষ্ঠুরতা সেটা তোমাকে বুঝতে হবে! ফল পেতে হলে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। চারাগাছটির পরিচর্যা করতে হবে, সকাল-সন্ধ্যা তার গোড়ায় পানি দিতে হবে। ধীরে ধীরে শিকড় যখন মাটিতে বসবে এবং মাটি থেকে রস সংগ্রহ করার উপযুক্ত হবে, তখন আর তোমাকে ফল চাইতে হবে না। সজীব বৃক্ষ নিজে থেকেই ফল দিতে শুরু করবে।

মনে রাখবেন, একা একা জান্নাতে যাওয়া অনেক কঠিন। আপনার এবং আপনার স্ত্রীর জীবনতো একসময় আলাদাই ছিলো। একজন তো অপরজনকে চিনতেনও না। আল্লাহ আপনাদের একত্র করেছেন কেন জানেন? আল্লাহ একত্র করেছেন,আপনাদের একসঙ্গে জান্নাতের পথে চলার জন্য। যদি আপনি পিছিয়ে পড়েন, আপনার স্ত্রী আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে। আপনার স্ত্রী যদি পিছিয়ে পড়েন, আপনি তাকে টেনে নিয়ে যাবেন। আপনি সতর্ক থাকবেন, আপনার স্ত্রী দ্বারা যেন কারো হক নষ্ট না হয়। আপনার স্ত্রী সতর্ক থাকবেন, আপনার দ্বারা যেন কারো হক নষ্ট না হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সীরাতুল মুস্তাকীমের পথে চলার তৌফিক দান করুন।

উৎসর্গ: আমার প্রিয় কবি হাবিব ভাইকে। উনার একটা পোষ্ট "একসাথে পথ চলার ৫ম বর্ষে আমরা" Click This Link পড়ার পর মনে হলো এই নিয়ে আরও লেখা উচিৎ। উনার এই লেখাটাই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে এটা লেখার.......
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩১
৩০টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

@এপিটাফ

লিখেছেন , ১৭ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:১২

@এপিটাফ


সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে কষ্টের ডিঙি বেয়ে সমুদ্দুর,
তোমার থেকে দূরে গিয়ে পরখ করবো মমত্ব কতদূর !

আজ নির্ঘুম রাত্রিতে পাহারা দেয় দীর্ঘশ্বাসের নোনাজল,
এই বুকের ভিটায় আদিম নৃত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বন্ধুত্ব

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৭ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:০৮




মাঝরাতে হঠাৎ চায়ের তেষ্টা-
তখন বন্ধু আমার বেঘোরে ঘুমাচ্ছে,
-আমিঃ বন্ধু খুব চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে
-বন্ধুঃ কিন্তু রুমেতো চা-পাতা চিনি কিছুই নেই।

বন্ধু চোখ মুছতে মুছতে ঘুম থেকে উঠে বলে
-চল ষ্টেশনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৭ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮



১ম পর্বের লিঙ্কview this link


আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো নগরী দেখেছি, তার মধ্যে প্যারিসকে মনে হয়েছে সবচেয়ে রুপবতী। সত্যিকারের প্রেমে পরার মতোই একটা নগরী। ভেবে দেখলাম, এতোটা সাদামাটা আর ম্যাড়মেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোষ্ট

লিখেছেন জুন, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

সামুতে এখন ৩৯ জন ব্লগার। কতদিন, কতদিন পর এত লোকজন দেখে কি যে ভালোলাগছে বলার নয় :)

...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬



কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !
একদিন যে, এই পথে হেটেছি অনেক,
দেখেছি কিছু ঘর-বাড়ী, বাগান-সড়ক,
ঝুলে থাকা বারান্দার গরাদে তিথীর ব্রা
কিছু কায়া , কিছু ছায়া সবই ছাড়া ছাড়া,
বেওয়ারিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×