ঘটনা-১: মিলা নামের এক মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় ঘটে ঔষধ কারখানায় কর্মরত কর্মী তরিকুল ইসলামের সাথে।তরিকুলের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গবরা চাঁদপুর গ্রামে ও মিলার কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে। মিলাকে বিয়ে করবে বলে ধামরাইয়ে আসতে বলে তরিকুল ইসলাম। তরিকুলের কথা অনুযায়ী কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে মিলা চলে আসে ধামরাইয়ে। মিলাকে তাদের কাজের বুয়ার ভাড়া করা বাসায় রাখেন। কাজের বুয়ার বাসায় তরিকুল ও তার সহযোগী জুয়েলরানা ও তাইফুল ইসলাম ওই বুয়ার বাসায় যাতায়াত করতে থাকে। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হয়। এ নিয়ে তাদের নামে সালিস বৈঠক হয়। এসময় জুয়েলরানা ও তাইফুলের সহায়তায় তরিকুল পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে মিলাকে গ্রামের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে শুক্রবার রাতে মিলা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। আটক করা হয় প্রেমিকের দুই সহযোগীকে। তাদের আটকের একদিন পর থানাতে হাজির করান প্রেমিক তরিকুলকে। পরে থানায় জুয়েল রানার ওকালতিতে ও তাইফুলের সাক্ষীতে তিন লাখ টাকা দেনমোহরনা ধার্য করে থানার সেকেন্ড অফিসারের অফিসিয়াল কক্ষে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে পৌরসভার নিকাহ রেজিষ্টার মাওলানা আলিম উদ্দিন নিকাহ রেজিষ্ট্রি করেন।
ঘটনা-২:
বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ ভাইজোড়া গ্রামে ৪র্থ শেণীর ছাত্রী কে একই গ্রামের জব্বার খান এর ছেলে রাজু খা (১৮) ধর্ষণ করে। সেই ছাত্রীর বাবা জানান- তার মেয়ে প্রতি দিনের ন্যায় স্কুলে যাওয়ার পথে জব্বার খান এর ছেলে রাজু খান পূর্ব থেকেই ওৎ পেতে থাকে এবং ঐ কিশোরীকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। কিশোরীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন কিশোরীকে উদ্ধার করলেও ধর্ষক রাজু পালিয়ে যায়। ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ৪র্থ শ্রেণীর ঐ ছাত্রীকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয় ধর্ষিতার অসহায় পিতা। কিন্তু ধর্ষক রাজু বিয়ের তিন মাসের মাথায় ১৮ ডিসেম্বর ঐ কিশোরীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনা দুটি এরকম হাজারো ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিচ্ছি মাত্র। এইতো কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দেয়া হলো। সবাই প্রধানমন্ত্রীর ধন্য ধন্য করতে লাগলো। কেউ একবারও ভাবলো না, মেয়েটার ভবিষ্যত জীবন কি হবে? সে কি সারা জীবন সুখে থাকতে পারবে? সারাটা জীবন তাকে একটু পশুর সাথে কাটাতে হবে, মরতে হবে তিলে তিলে। সারাজীবন নরক যন্ত্রনা ভোগ করার চেয়ে মৃত্যই শ্রেয় নয় কি? সবাই ভাবে -যাক মেয়েটার একটা গতি হলো।
হ্যাঁ, গতিই তো! ধর্ষনের নির্মম শিকার হওয়া একটা চরিত্রহীনাকে কে বিয়ে করবে? সমাজে তো সে একটা মাগী, অস্পর্শ্যা। তার তো বেঁচে থাকাও পাপ। আর ধর্ষক তো ছেলে মানুষ। মাথায় না হয় একটু দুষ্ট বুদ্ধি চেপেছিল। সেটা নিয়ে চিল্লাচিল্লির কি আছে? ধর্ষকের সাথে বিয়ে হচ্ছে এটাই তো তার সৌভাগ্য।
দোররা মারা কিংবা মাথা ন্যাড়া করার মতো নির্মম অত্যাচারের শিকারও সে হতে পারত। আফগানিস্তানের মতো হলে- অনার কিলিংয়ের শিকার হতে পারত। সেগুলোরই কিছুই হতে হয় নি। সে হিসেবে ভাগ্যবতীই বটে!
একজন ভুক্তভোগী কখনোই মরতে চায় না কিন্তু আমরা, আমাদের এই সমাজই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেই। সমাজের একটু সহযোগীতাই পারে তাদের সেই দুর্বিষহ দিনের কথা ভুলে নতুন জীবন উপহার দিতে। তাদের ঘৃনা নয়, ভালোবাসি। পৃথিবীর নগ্নরুপটা নয়, ভালোবাসার রুপটা দেখাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



