এক.
ফ্রিওয়ে টা হঠাৎ করেই বালুর রাস্তা হয়ে গেল । সময় অনেক কম কিন্তু পথ বাকি অনেকখানি।
গাড়িটা এগুচ্ছে না কোনভাবেই। গাড়ি সেখানেই রেখে হাঁটা শুরু করলাম। বাকি সবাইও তাই করছে।যদিও হাঁটা পথটা অচেনা তবু অসুবিধা হচ্ছেনা। ভীড়ের স্রোতের সাথে এগুলেই পরিচিত রাস্তা মেলবে এমনটাই মনে হচ্ছে!
হাঁটছি হন্তদন্ত হয়ে, হঠাৎ শুনতে পেলাম পরিচিত একজনের কন্ঠ। আশেপাশে তাকিয়ে দেখা পেলাম না। তবে স্পষ্ট শুনতে পারছি এটা অভি-র গলা।এত বছর পরেও চিন্তে কষ্ট হচ্ছিল না একটুও। শুধু এত মানুষের ভীড়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক আগের মতই অসম্ভব ধৈর্য্য নিয়ে নানা যুক্তি খন্ডন করে কাকে যেন বুঝিয়ে যাচ্ছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ভাল হবে। আশ্চর্য্য কথা শুনা যায়, দেখা যায় না কেন? দাঁড়িয়ে যে খুঁজব সেই সময়ও নেই! অভির কথা শেষ হতেই আপত্তি করে উঠল আরো একটা পরিচিত কন্ঠ,রাহিম।প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটা খুঁত বের করছে রাহিম। আর অভিও হাল ছাড়ছে না , বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতই নিরলস যুক্তি খন্ডন করে চলেছেই। আপনমনেই হেসে উঠলাম , অনেকেই আছে আগের মতই।
দুই.
আহ! অবশেষে গন্তব্যে! যদিও মনে করতে পারছি না কেন এত তাড়াহুড়ো করে আসাটা জরুরি ছিল। কেমন যেন স্ম্রৃতিভ্রম হচ্ছে মনে হচ্ছে। এত পরিচিত দোতলা বিল্ডিংটা কিন্তু কোনভাবেই মনে করতে পারছিনা , কোন জায়গা এটা আর কেনই বা আমার আসা। দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িটা দেখা যাচ্ছে, উপরে মানুষজনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। সাহস করে গেলাম দোতলায়। এতক্ষণে মনে পড়ল এটাতো স্কুল, আজ মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু ছেলেমেয়ে সবাই যে এক ক্লাশরুমে? অবশ্য এখানে সবই সম্ভব। সামনে থেকে দ্বিতীয় বেঞ্চের ডান মাথায় বসে আছে সানি। এদিক অদিক দেখছে। তেমন কোন কথা বলছে না। টিচার কে এখনও বোঝা যাচ্ছে না, পিছন ফিরে টেবিলে কাগজপত্র কি সব ঠিকঠাক করছেন। বাম দিকের জানালার পাশে,সানি থেকে ২ বেঞ্চ পেছনে দাঁড়িয়ে আছে রনি। নির্ভিক আর নিশ্চিত ভাবে আড়মোড়া ভাংছে সে, পরীক্ষার কোন দুশ্চিন্তাই নেই ওর মাঝে। তার ডান দিকে আরও দুই বেঞ্চ পেছনে,সানির সমান্তরলে বসে আছে মৌ। ব্যস্ত কথা বলায়। আমার নামটা খুঁজে পাচ্ছিনা দেখে বললো, যেখানে খুশি বসে যাও, আজ তুলি টিচার আছেন। বলা শেষ করতেই ঘুরে তাকালেন টিচার, আস্বশ্ত করলেন মৌ ঠিক বলছে। তারপর কৈফিয়ত দেয়া শুরু করলেন কেন সবার আসন বিন্যাসের এমন জগাখিচুরি অবস্থা। টিচার কে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে রনি বললো, "যাই,পরীক্ষা শুরুর আগে বিড়িতে একটা টান দিয়ে আসি। নয়তো মাথা খুলবে না।" অনুমতির অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে গেল। টিচারও কিছু বললেন না। ঠিক তখন একই তর্ক করতে করতে এসে ঢুকলো অভি আর রাহিম। ওদের আর বসার জায়গা পেতে অসুবিধা হল না। মৌ-কে কি একটা কথা জিজ্ঞেস করতে যাব...
...ঠিক তখনই ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ খোলার আগেই ঠিক করলাম বিকেলে যাব একবার স্কুলে। দেখা করতে বলব সবাইকে স্কুলের মাঠে। তারপরই খেয়াল হল, ৮ বছর ধরে এমন অনেকবার স্বপ্নে ফিরে গিয়েছি প্রিয় জায়গায়, প্রিয় মানুষগুলোর অনেক কাছাকাছি। প্রতিবারই কিছুটা সময় লাগিয়েছি , কোথায় আছি তা বুঝে উঠতে। বন্ধুদের অনেকেই (যেমন-জিসান) হাসাহাসি করেছে এখনও স্কুলের স্মৃতিই আঁকড়ে আছি বলে। তবু এমন স্বপ্ন দেখে শুরু হওয়া সকালগুলো অন্যরকম ভালোলাগায় ভরে থাকে। বারবার দেখতে ইচ্ছে করে এমন অসংলগ্ন, অর্থহীন সুন্দর স্বপ্ন!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



