ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব কাকা । সকলেই তাঁকে চৌধূরী বলে ডাকেন । তিনি খুব শান্তি প্রিয় লোক । ধনী দরিদ্র ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই একচোঁখে দেখেন । সকলের প্রতি তার ভালবাসাও অগাধ । পয়তাল্লিশ বছর পেরিয়েছেন বিয়ে করেননি । ছোট ভাই সুলতান আহমেদ । সামাজিকতার কথা ছিন্তা না করে নিজের জীবনের কথা ভেবে বাবা মার অনুমতিক্রমেই বিয়ের কাজ সেরে ফেলেছেন অনেক আগেই এবং কি তাঁর তিন নাম্বার ছেলে সাজু সে আমার বন্ধু । আমার বয়স তখন সাত কি আট বছর হবে । মাঠে বন্ধুরা মিলে খেঁলছিলাম । হঠাৎ দেখি লোক সকলে মাঠের দক্ষিণকোনায় দৌডাচ্ছে । আমিও দৌড়িয়ে গেলাম সেখানে । দেখি আজব কান্ড চেয়ারম্যান কাকা মদের বোতল হাতে মাটিতে লোটিয়ে পড়ে আছেন মনে হয় একটা লাশ পড়ে আছে । অনেকেই দৌড়িয়ে এলো । আপন পর পাড়ার সকলেই । সকলের মুখেই কান্না আপন জন যারা আছেন কাছে তাদের মুখে কান্নাররোল ক্রমশই বাড়ছে । হঠাৎ এক মহিলা দ্রুত দৌঁড়িয়ে এলো । পাড়ার সকলেই তাঁকে চিনে । নাম তার আম্বিয়া বালা । পাড়ার সকলেই তাকে বালা বলেই ডাকে । অবশ্যই এ নামের রহস্যও অনেকের জানা । দেখতে সুড়াম সাড়াম খুব সুন্দরী । দেহটা যেমন উচালম্বা তেমনি চুলগুলিও যেন মাটি ছুঁই ছুঁই । সে সময় চেহেরা যাই হোক লম্বা আর কালো চুলের কি যে কদর ছিল তার বর্ণনা না হয় পরেই বলি । শুনেছি ছোট্ সময় ঢাকায় এক বড় লোকের বাসায় কাজ করত আর সে কারণেই গায়ের রংটা একটু সাদা এবং কথা বার্তাতেও অনেক স্মার্ট । এসেই চেয়ারম্যান কাকাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং হাঊমাঊ করে কেঁদে উঠলেন । এমন ভাবে আর্তনাদ করতে লাগলেন যেন তাঁর আপনজনের কিছু হয়েছে । পাড়ার সবাই হতভম্ব,অবাক বিস্মৃত । অনেকেই আবার যারা খুব কাছের মানুষ তারা মুখে ঘুমটা দিয়ে ছিঃ ছিঃ করতে লাগলেন ।
মহিলাটির স্বামী আছে এবং একটা মেয়ে সন্তানও আছে । স্বামী খুব হত-দরিদ্র । হাটেবাজারে পান চুন বিক্রি করে যা আয় পায় আর তাতেই সংসার চলে । বাড়ী ভিটা মাটি তাও রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা নিয়ে ছনের ঘরে কোন ভাবে বসবাস । স্বামী এত দরিদ্র তবু এতটুকু দরিদ্রের ছাপ যেন বালা কে কখনই ছুইনি,ছুইতে পারেনি । কেন পারেনি গ্রাম বাসীর এখন আর অজানা রইল ন । যদিও ঘটনা অনেক দিন ধরেই লোকমুখে বলাবলি চলছিল ।
ছোটে এলেন চেয়ারম্যান কাকার বড় ভাই মাহতাব কাকা । এমন অশালিন,অযাচিত নোংরা নিলজ্জকর ঘটনা দেখে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন । কি বলবেন কি করবেন তিনি যেন দিশকোল পাচ্ছিলেন না ।
অন্য দিকে ছোটে এল মামা করে বালার মেয়ে লাবন্যলতা । ডাক নাম তার লতা । এসেই মাকে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠল ।
পাঁশেই দাঁড়ানো ছিল লতার বাবা লস্কর মিয়া ।……………. Next
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



