
ফুয়াদ ভাইয়ের গাড়ির ওপর হামলা হলো। গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ঢিল ভেতরে প্রবেশ করেছে। ফেসবুকে তিনি একগাদা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। জানিয়েছেন, অল্পের জন্য ঢিল তাঁর স্ত্রীর মাথায় লাগেনি। এরপর তিনি বাচ্চাদের মতো রেগে গিয়ে খারাপ শব্দ ব্যবহার করেছেন দেশকে নিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, কাছের মানুষের নিষেধ থাকা সত্বেও নাকি তিনি এখানে এসেছিলেন শুধুমাত্র সঙ্গীতের টানে! অনেকে বলে, দু-চারটে পুরাতন গানে কিছু "উড়াধুড়া" শব্দ জুড়ে দিয়ে রিমিক্স বানালেই সেটা গান হয়ে যায় না। অনেকে আবার বলছেন "ইহাদের কখনও শহীদ মিনারে দেখিনি, মিছিলে নয়, কাল রাত্রিতে নয় তাই উহাদের চিনি না"। আমি তাদের সাথে তর্কে যাব না, সহমতজ্ঞাপনও করবো না। আমি শুধু আমার দৃষ্টিতে তাঁকে দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেখে আজকের ঘটনা নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। কারণ, আইনের চোখে তারকা আর সাধারণ মানুষের অধিকার সমান।
আর, ধরে নিতে পারি, হামলাকারিরা তাঁকে চিনতে পেরে ঢিল ছোঁড়েনি, সাধারণ মানুষের গাড়ি ভেবেই হামলা করেছে।
প্রথমত, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তাবিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে আছে। তারপরেও দেখা যাচ্ছে হামলা হচ্ছে। এভাবে রাস্তায় যদি কেউ অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তবে সেটা চিন্তার বিষয় নয়তো কি? এমন পরিস্থিতিতে কারো মাথা ঠান্ডা থাকারও কথা না। কিন্তু তাই বলে নিজের দেশকে ** করতে চাওয়াটা কোন ভদ্র মানুষের কাজ হতে পারে না। আপনি দেশকে ভালোবেসে, দেশের সঙ্গীতকে ভালোবেসে যদি এখানে এসে থাকেন, তো আপনি সাহস করে দেশকে বদলে দিতে লড়ুন, নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিন। আপনার পিছে তরুণ সমাজ আছে, আপনার ভক্তরা আছে। তাদেরকে সাথে নিয়ে আপনি দেশকে গড়ে তুলুন। কিন্তু আক্রমণের শিকার হয়েই আপনি উল্টাপাল্টা ভাষা ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে চলে যেতে উদ্যোগী হতে পারেন না। আমরা সবাই যদি এভাবে মুখ ফিরিয়ে চলে যাই, তো দেশটা গড়বে কে?
আসুন, গালি না দিয়ে ভালোবেসে দেশটাকে গড়ি। সবাই মিলে দেশটাকে নিরাপদ বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি।
[এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। এই মত কোন দল বা গোষ্ঠির পক্ষে বা বিপক্ষে নয় এবং এই মতের মাঝে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার মত খোঁজা চলবে না। ]
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


