বাবা মারা যাওয়ার সময় আমি তার কাছে ছিলাম না। শেষ কথাটাও শুনতে পারিনি। খবর শুনে গিয়ে পৌঁছানোর আগেই তিনি আমার এক প্রতিবেশির বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান। তারপর কত রাত জেগে কাটিয়েছি, ঘুমাতে পারিনি! সেই রাতের কথা ভেবে আজও আমি অস্থির হই।
.
তখন আমার ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল ছিলো না, কিন্তু আমার এক মামার ছিলো। আমি তাকে অনুরোধ করে তার মোবাইলে কিছু ছবি তুলে রাখি আমার বাবার। বাবার ছবি বললে ভুল হবে, বাবার লাশের ছবি। বাবার নিথর দেহটা পড়ে আছে, আমি মাসহ স্বজন প্রতিবেশিরা কাঁদছি। সেই ছবি আর ভিডিও আমি খুব যত্ন করে আমার ল্যাপটপে রেখে দিয়েছি। সব ছবি মামা রাখেনি, আগেই ডিলিট দিয়েছে বলে তার সাথে রাগে-অভিমানে কথা বলিনি অনেকদিন। আজ মনে হচ্ছে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া দরকার। ল্যাপটপে রাখা ছবিগুলোই আমি দেখতে পারি না, দুচোখ বেয়ে জলের ধারা আমাকে ভিজিয়ে দেয় যন্ত্রণায়।
.
আলোচিত কাউন্সিলর সাহেব যদি দোষীও হন, তবুও তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের চোখে নির্দোষ। ঐ অডিও ক্লিপগুলো তারা বেঁচে থাকতে বার বার শুনবে আর হাহাকার করে উঠবে, কেঁদে বুক ভাসাবে, বড় হয়ে লেখাপড়া শিখে অর্থ ও ক্ষমতাবান হয়েও বাবাকে ফিরে না পাওয়ার যন্ত্রণা আর কষ্ট ওদেরকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। এক কথায় ওদের বেঁচে থাকা হারাম হয়ে যাবে। আমি অডিও ক্লিপ শুনিনি, তবে অনেকের লেখা ফেসবুকে পড়ে এই অনুভূতি হলো।
.
আমি চাই ঐ অডিও ক্লিপটি যেন মিথ্যে হয়। আমি চাই কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন শাস্তি না পায়। অপরাধী হলেও সে যেন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শাস্তি পায়। একটা অংশ সরকারকে বিতর্কিত করতে সদা তৎপর। এদেরকে খুঁজে বের করে না থামালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সমস্ত অর্জন ম্লান হয়ে যাবে! ৭৫ এর ১৫ আগস্ট এমন একটি কথোপকথন আপনারও থাকতে পারতো মাননীয়া! আপনি কি পারতেন তা সইতে?
.
দেব দুলাল গুহ / দেবু ফরিদী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

