রূপ দেখে তো প্রেমে পড়েছেন অনেকেই। গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে সব আলোচনা ছাপিয়ে সব আলো যেন কেড়ে নিয়েছেন তিনি একাই! এবার শুনুন তাঁর গুণের গল্প। কোলিন্ডার আসল সৌন্দর্য্য তাঁর গুণেই।
.
ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার কিটারোভিচ এর জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল। তিনি ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তো নিশ্চয়ই শুনেছেন। তিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ের একজন 'ফুলব্রাইট স্কলার'। ২০১৫ সালে ৪৬ বছর বয়সে তিনি ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন এবং একইসাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পথে হাঁটা শুরু করেন।
.
কোলিন্ডার সুন্দর রূপ দেখে ভুলেও ভাববেন তা তিনি 'অবলা নারী'। তিনি একসময় আর্মির কমান্ডো ছিলেন এবং একজন ace marksman ও ছিলেন। (এটা কি? গুগল করুন। )
.
২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি আমেরিকাতে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্টদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি উচ্ছসিত প্রশংসায় ভেসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র এবং বারাক ওবামার। প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক সংস্থা NATO এর প্রথম অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল (পাবলিক ডিপ্লমেসি) হন তিনি। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বারবার আফগানিস্তান যান এবং সেখানে ন্যাটোর বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। ন্যাটোতে তিনি 'SWAMBO' নামে পরিচিত, যার অর্থ তাঁকে 'মানতেই হবে'।
.
এই যে রাশিয়ায় গিয়ে নিজের দলকে অনুপ্রেরণা যোগালেন আর সারা বিশ্বের ছড়িয়ে দিলেন ভালোবাসা, এটা তিনি করেছেন প্লেনের একটা সাশ্রয়ী টিকেট কেটে রাশিয়া গিয়ে, তাও আবার নিজের টিকিট কিনেছেন নিজেই! শুরুতে তো সাধারণ দর্শকের কাতারে গিয়ে তাদের সাথে খেলা দেখতে বসে যান তিনি! পরে সিকিউরিটি তাঁকে চিনতে পেরে ভিআইপি বক্সে নিয়ে বসান। সেই বক্সেও পুতিনসহ ফিফা প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গণ্যমান্যদের মাঝে ফরমাল পোষাক ছেড়ে নিজ দলের জার্সি পরে গিয়ে বসতেও যোগ্যতা লাগে। তিনি তা করেছেন।
.
তিনি সব প্রোটোকল ভেঙ্গে ফাইনালে নিজ দল ও প্রতিপক্ষের সবাইকেই জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী। প্রেসিডেন্ট হয়েও ভিজেছেন বৃষ্টিতে, যখন অন্যরা ছাতার জন্য ব্যকুল ছিলেন। খেলোয়াড়দের ঘাম নিজের শরীরে জড়িয়ে আনন্দ কান্নার ভাগিদার হয়েছেন তিনিও। অভিনন্দন জানাতে ছুটে গেছেন খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে, অর্ধনগ্ন খেলোয়াড়দেরও করেছেন আলিঙ্গন! অল্পের জন্য দল হেরে যাওয়ার পরেও রেগে গিয়ে তিরস্কার করেননি খেলোয়াড়দের, বরং হাসিমুখে দিয়েছেন আদর ও স্বান্ত্বনা!
.
অনেকগুলো ভাষায় পারদর্শী ক্রোয়েশিয়ান প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা অনবরত কথা বলতে পারেন ক্রোয়েশিয়ান,
ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ড্যানিশ ভাষায়। জার্মান, ফ্রেঞ্চ, রাশান আর ইতালিয়ান ভাষাগুলোও ঠিকঠাক চালিয়ে নিতে পারেন। এই বিশ্বকাপেই তো তাঁকে রাশান ভাষায় একনাগাড়ে কথা বলতে দেখা গেছে পুতিনের সাথে, আবার ফ্রেঞ্চে কথা বলেছেন ম্যাক্রনের সাথে!
.
কী বলবো এক কথায়? বিউট উইথ ব্রিলিয়্যান্স? এমন একজন প্রেসিডেন্ট থাকলে একটা দেশের এগিয়ে যাওয়ার জন্য আর কিছু লাগে কি? আর এদিকে আমরা পড়ে আছি মেয়েদেরকে ঘরে আটকানোর আর পোষাকের বেড়াজালে বন্দি করার ফন্দি নিয়ে!
.
দেব দুলাল গুহ / দেবু ফরিদী
.
[আরেকটা কথা। ইন্টারনেটে বিকিনি পরিহিত যে ছবিগুলো দেখছেন, সেগুলো তাঁর নয়, তাঁর মতো দেখতে একজন পর্ণ তারকার। ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



