-ভাই, আপনে এইবার গরু না খাসি?
-মানুষ।
-মানে?
-আগেরবারও মানুষ ছিলাম, এইবারও তাই আছি। অন্তত বাইরে থেকে দেখে তাই মনে হয় আর কি। তবে মনুষ্যত্বটা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পেরেছি কিনা জানি না।
-আরে ভাই, বলছিলাম কি, এবার কী কোরবানি দিলেন?
-অন্যায়ভাবে যারা আমাকে এতোদিন ঠকিয়ে এসেছে, আমি তাদের একটা তালিকা করে রেখেছিলাম। আজ সেই তালিকা ছিঁড়ে ফেলে আমি তাদের প্রতি আমার রাগ ক্ষোভ কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
-আহা, সেটা নাহয় করলেন, কিন্তু কি কোরবানি দিলেন?
-কারো প্রতি আজ থেকে কোনো কিছু আশা করা বাদ দিয়ে দিলাম। আজ থেকে শুধু নিষ্কাম কর্ম করবো। বিনিময়ে কারো কাছে কিছু চাইবো না। কেউ মনে রাখুক আর না রাখুক, কেউ উপকৃত হয়ে প্রশংসা না করুক, তাদের কল্যাণে আমার কাজটুকু আমি ঠিকই করে যাবো।
-আপনি তো বড় প্যাচাইলা মানুষ! কোন পশু কুরবানি দিলেন?
-ওহ, এই কথা? আমাদের সবার মনেই একটা করে পশু বাস করে। এই পশুটা আমাদেরকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, আমাদের মনকে কলুষিত করে, মানুষকে জানোয়ার বানিয়ে ফেলে। সেই পশুটাকেই কোরবানি দিয়ে আজ থেকে আমি শুধুই মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
-ভাই, আপনি কি পাগল, নাকি?
-এই পৃথিবীতে যারাই প্রতিভাবান, যেই অন্যদের চেয়ে একটু হলেও ভিন্ন চিন্তা করে, দুনিয়াকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা প্রতিবাদ করে, তাকেই অন্যরা পাগল খেতাব দিয়ে দেয়। এতে আপত্তিকর কিছু নেই। কোটি খানেক অসৎ নীতিহীন পরচর্চাকারী অকেজো সুস্থ মানুষের চেয়ে এমন একটা পাগল অনেক অনেক ভালো।
-বুঝছি, আপনার সাথে কথা বলাটাই আমার ভুল হয়েছে। ঈদ মোবারক।
-ঠিক বলেছেন। এজন্যই এমন পাগলদের বন্ধু কম, তারা পরচর্চা পরনিন্দা করে সময় কাটায় না, সৃজনশীল প্রোডাক্টিভ চিন্তা করে। মনটাই তাদের কাছে মন্দির-মসজিদ। সেখানেই তারা আরাধনা করে। ঈদ মোবারক।
দেব দুলাল গুহ / দেবু ফরিদী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



