somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্যিই কি সিটি/বিভাগ হয়ে গেছে ফরিদপুর?

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে ও ফরিদপুরে লোকজনের মুখে মুখে যে খবরটি রটেছে, তা হলো আজকেই সিটি কর্পোরেশন আর বিভাগ হয়ে যাবে ফরিদপুর। যেন খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই যা জানেন না, ফরিদপুরের কিছু লোক তা জানেন। আজ জানা গেলো, ফরিদপুর এখনও সিটি কর্পোরেশন বা বিভাগ--দুইটার কোনোটাই হয় নাই। তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হবে। তার আগেই উত্তেজিত ও অতি উৎসাহী হয়ে সবকিছুর দাম আরেক দফা বাড়াবেন না প্লিজ! আমরা যারা শুধু বেতনের টাকায় চলি অথবা যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের কষ্ট হয়। তবে যারা 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' হয়েছেন, তাদের কথা আলাদা।
.
মূল খবর হলো, 'শর্ত সাপেক্ষে' ত্রয়োদশ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি পেয়েছে ফরিদপুর। এর মানে হলো, সিটি কর্পোরেশন হতে হলে ফরিদপুরকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্তটা হলো, আগে একটি পূর্ণ বিভাগ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করতে হবে ফরিদপুরকে। গণমাধ্যম হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন থেকে বিভাগ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মহোদয়। আগে যা হবার হয়ে গেছে। ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশন হতে হলে আগে বিভাগ হতে হবে। বিভাগ নাহলে সিটি কর্পোরেশন হবে না।
.
গত নির্বাচনের আগে ফরিদপুর এসে জনসভায় যেমনটি ঘোষণা দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেমতে বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে গঠিত বিভাগটির নাম হবে 'পদ্মা'। তবে সেই বিভাগের হেড কোয়ার্টার কোথায় হবে তা বলা হয়নি। সেই জনসভার পর এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল এমনকি কিছু সাংবাদিকরাও যেভাবে রটিয়ে দিয়েছিলেন সিটি হয়ে গেছে বিভাগ হয়ে গেছে, গত কয়েকদিন ধরেও তেমনটা লক্ষ্য করেছি। এটা নিছক জীবনযাত্রার ব্যায় বাড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। খোঁজ নিয়ে দেখবেন এরা সবাই কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত অথবা অসৎ কোনো ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।
.
তবে আজ ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন আর বিভাগ হওয়ার খবর আমরা প্রথম পাই 'জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর' নামের পেইজ থেকেই প্রথম। আমার জানা নেই আসলেই এটা ডিসি অফিসের কেউ চালান কিনা। না চালালে আংশিক সত্য খবর যারা রটাচ্ছে তাদেরকে শনাক্ত করা জরুরি। পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর ফেসবুক আইডি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকেও ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে দেখেছি। শহরে চলছে একে-অন্যকে মিষ্টিমুখ করানোর ধুম।
.
বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে একটা বিভাগ হলে যেমন ভালো হয়, আবার দেশের রাজধানী ঢাকার সাথে একই বিভাগে আছি এটাও কম মর্যাদার বিষয় নয়। আলাদা বিভাগ হলেও ফরিদপুর তার হেড কোয়ার্টার হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? সেক্ষেত্রে রাজধানীর সাথে থাকার সুবিধা হারাবো আমরা। আর পদ্মা সেতুটা হয়ে গেলে ঢাকার সাথে দূরত্বটা আমাদের আরও কমে আসবে। তখন প্রতিদিন ঢাকা যেয়ে-এসে অফিসও করা যাবে, মেটানো যাবে সব প্রয়োজন।
.
বিভাগ সে যাই হোক, সকলের স্বার্থে যেটা ভালো হয় সেটা মেনে নিতে হলে অবশ্যই মেনে নেবো। তবে আমি সিটি কর্পোরেশন বা বিভাগ হওয়ার আগেই সবকিছুর দাম কয়েক দফা বাড়ানোর বিরুদ্ধে। আমার অন্তত চলতে কষ্ট হয়। বাকিদের কথা জানি না। তবে আমি অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে। আচ্ছা, ফরিদপুর শহরের অধিকাংশ মানুষের গড় ইনকাম কত? সেটার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই জীবনযাত্রার ব্যায় নির্ধারিত হোক এবং সিটি-বিভাগ হোক।
.
ফরিদপুরে গত কয়েক বছরে যেভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছদের সংখ্যা বেড়েছে, সেভাবেই বেড়েছে উঁচু ভবন আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ। গত ১০ বছর আগের ও পরের শহরের অভ্যন্তরে রিক্সাভাড়া থেকে শুরু করে সবকিছুর দামের ব্যবধান কি সারা দেশের মতই হয়েছে? যদি একই হারে বেড়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আমাকে একজন জানালেন সিটি কর্পোরেশন হওয়ার অনেক আগে থেকেই (এখনও হয়নি কিন্তু!) আমরা সিটি কর্পোরেশনের মতো ট্যাক্স দেই! কেন দেই?
.
বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন একজন রটিয়ে দিলো 'চিলে কান নিয়ে গেছে, আর আমরাও তা বিশ্বাস করে কানে হাত দিয়ে না দেখেই চিলের পিছে দৌঁড়াচ্ছি!' দেশের প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়ার আগেই কয়েক বছর ধরে ফরিদপুরের কেউ কেউ রটিয়ে দিচ্ছেন ফরিদপুর বিভাগ/সিটি হচ্ছে, আজ হচ্ছে.. কাল হচ্ছে..'।
.
আপনাকে একজন যা বুঝাবে, আপনি সাতপাঁচ না ভেবে তাই বুঝবেন-- ফরিদপুরের মানুষ কি এতটাই বোকা?! নিশ্চয়ই না। গুজবে কান দিবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না। সম্প্রতি ভোলায় ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ঘটানো ঘটনা, নাসিরনগর-রামু গুজবে কান দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আজকাল ফেসবুকে রটানো অপপ্রচার দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, 'বানরের গলায় মুক্তার মালা'র মতো হয়তো আমরা এখনও ফেসবুক ব্যবহারে পুরোপুরি যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারিনি।

দেব দুলাল গুহঃ প্রভাষক, লেখক ও কলামিস্ট।
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×