কিছুদিন আগে এটিএন নিউজএ আমাদের দেশের হাসপাতাল গুলোর সেবার চালচিত্র উপর একটি রিপোর্ট দেখছিলাম,রিপোর্টের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য এক সিনিয়র বন্ধু কে ফোন দিলাম,যিনি পেশায় একজন ডাক্তার এবং একটি বেসরকারী হাসপাতালে কর্মরত আছেন. তিনি খুব মনোকষ্ট নিয়ে বললেন , "ভালো ডাক্তারের সংকটের কথা", আমি একটু আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলাম ,"তাহলে প্রতিবছর সরকারী মেডিকেল কলেজ থেকে যে ১৫০০ ডাক্তার বের হচ্ছে এরা কোথায় যাচ্ছে?,বেসরকারী কলেজ গুলো বাদই দিলাম".তিনি জবাব দিলেন," ভর্তি হচ্ছে ১৫০০ জন,কিন্তু বের হচ্ছে বা কয়জন.? ১৯৯৮ সালের পর থেকে মেডিকেল কলেজ গুলোতে শুরু হয় অবৈধ ভর্তি বানিজ্য,৫০% ছাত্রছাত্রী যদি ভর্তি হয়ে থাকে তাদের মেধার বিনিময়ে,তবে ৫০% ভর্তি হয়েছে কালো টাকার বিনিময়ে " তার এই অভিযোগ আমাকে নিয়ে গেল সেই অতীতে ,যখন আমি ছিলাম ভর্তি নামক যুদ্ধ ক্ষেত্রের একজন সৈনিক. বাবা মায়ের প্রথম পছন্দ ছিল,ছেলে আমাদের ডাক্তার হবে ,কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস (প্রশ্নবিদ্ধ),মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষা থেকে পরাজিত যোদ্ধার বেশে প্রত্যাবর্তন করিলাম,তবে পরীক্ষার কিছুদিন আগে আমার এবং আমার সহপাঠি বন্ধুদের ,জনৈক জসিম নামক এক লোকের সাথে পরিচয় হবার সৌভাগ্য হয়েছিল,মিরপুর ডেন্টাল কলেজ এর সামনে. সেই ভদ্রলোক আমাদের মত কোমলমতি সদ্য ইন্টার পাস করা ছেলে গুলো কে টাকার বিনিময়ে ডেন্টাল এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখালো এবং ফোনে নাম্বার দিল,যোগাযোগ করার জন্য , কিন্তু আমরা কিছুতেই বিশ্বাস করলাম না.এর কিছু দিন পর, ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন আমার নকিয়া ৩৩১০ মোবাইল টি বেজে উঠলো,কল ধরতেই ওপাশ থেকে কর্কশ কন্ঠ বলে উঠলো ,"ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা আমাকে বিশ্বাস করলে না !! তোমাদের কে ৩ টি প্রশ্ন বলছি,দেখো কালকে এই তিনটি প্রশ্ন আসে কিনা" ,পরদিন পরীক্ষার সময়,১০০ টি অবজেক্টিভ প্রশ্নের মধ্যে আমার কেবল ওই ৩ টি প্রশ্নই সুপরিচিত লেগেছিল.
অতপর অকৃতকার্য হারাধনের মত অভিভাবকদের কাঠগড়ায় দাড়ালাম,আমাকে জিজ্ঞাস করা হলো ,"তুমি কি পড়তে চাও?,হারাধন তাও বাধ্যগত সন্তানের মত বলিল ,"আপনারা যা চান আমি তাই চাই "
এবার আসি যেখান থেকে শুরু করেছিলাম,"মেডিকেল ভর্তি বানিজ্য!!!".সেই জসিম কে কিন্তু নিরাশ হতে হয় নি. পরবর্তী বছরে আমার কিছু সহপাঠি এবং তাদের গুণধর অভিভাবক জসিমের সরনাপন্ন হন. ২ লক্ষ কালো টাকার বিনিময়ে ডাক্তার হবার হাতছানি তারা লুফে নেন.আজকে ধিক্কার জানাই সেই সহপাঠি দের ,"কি সেবা দিবে তোমরা এই জাতিকে" ? ধিক্কার জানাই সেই সব অভিভাবকদের ,"কি উপহার দিলেন আপনারা এই জাতিকে"? এদের কাছ থেকে কি সেবা পাব আমরা? টিভি তে একের পর এক রিপোর্ট ,অমুক ডাক্তার ভর্তি বানিজ্য করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা,অমুক ডাক্তার মাদক বেবসা করেন ,অমুক ডাক্তারের অবহেলার কারনে রোগীর মৃত্যু, আমার এক বন্ধু ,রুমি ময়মেনসিংহ মেডিকেল কলেজে পরত ও খুব আফসোস করে বলেছিল ,মেধা দিয়া ভর্তি হয়ে মেধাবীদের কে সহপাঠি পাব ভেবেছিলাম ,কিন্তু চোরদের পাব এটা ভাবি নাই,প্রতি বছর তার কিছু সহপাঠি নাকি ভর্তি বানিজ্য করে অর্থ উপার্জন করার নিমিত্তে পড়ালেখা বাদ দিয়া ঢাকা মুখী হয় "মুরগি" খোজার জন্য .তবে ভর্তি বানিজ্যের কিছু ফসল যে আমাদের পেটে যায়নি তা বলব না,কিন্তু আজ বুঝি ,যেই ঘৃনা,যেই ধিক্কার আজ জানাচ্ছি ,ঐটা অনেক আগে জানানো উচিত ছিল.
আমার একটা জিনিস খুব জানতে ইচ্ছা করে যারা অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়,তাদের কি একটি বারের জন্য বিবেক বাধাগ্রস্ত হয় না বলতে ,"আমি ডাক্তার বা আমি মেডিকেল কলেজে পরি" আমার সেই সব বন্ধুদের বলছি , আমরুল,জামরুল,কামরুল যারাই ভর্তি হয়েছ "সত্যিকারের সেবার মানসিকতা যাতে তোমাদের মাঝে তৈরী হয়" দযা করে এই জাতির সাথে আর প্রতারণা কোরো না .নতুবা সময়ের আবর্তনে তোমাদের মুখোশ একদিন উন্মোচিত হবেই.
আমার লেখার এক অংশে বলেছিলাম বিধাতার নির্মম পরিহাস (প্রশ্নবিদ্ধ),প্রশ্নের উত্তরে, শুধরে দিয়ে বলতে চায়,"বিধাতার অশেষ মেহেবানি" ,
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



