ঢাকা শহরের সড়কদ্বীপ গুলোতে বিসিবির বিলবোর্ড "একই আদর্শে হই উজ্জীবিত" দেখে অনেকক্ষণ বোঝার চেষ্টা করেছিলাম, কি হতে পারে এই ব্র্যান্ডিং এর উদ্দেশ্য । কিন্তু আমার স্বল্প জ্ঞান-এ ইহাকে চাটুকারিতা ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি । ক্রিকেট ব্র্যান্ডিং এ সিদ্ধহস্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও হয়তবা এরকম উদ্ভাবনী শৈলীর পরিচয় রাখতে পারেনি এখন পর্যন্ত,তারা এখনো তাদের ক্রিকেট টিম কে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর আদর্শে উজ্জীবিত করার কথা বিবেচনা করেনি । বিসিবির বর্তমান কমিটি প্রশংসার দাবি করতেই পারেন তাদের উদ্ভাবনী শক্তির !!!
বিসিবি-র বর্তমান কমিটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (গণতন্ত্রের মানসকন্যা দাবিদার), বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হওয়ার যে স্বর্ণসুযোগ দিয়েছেন তার প্রতিদানে তাদের এরূপ কর্মকান্ডকে আমি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত মনে করি । কারণ প্রতিদ্বন্দিতা করে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতার চাইতে বড় যোগ্যতা হল প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়া ।
২০১২ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন তদকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, অনাকাঙ্খিত ভাবে বাংলাদেশ ওই খেলাতে পরাজয় বরণ করলে , আজকের প্রধানমন্ত্রী ব্যঙ্গাত্মক সুরে,ওনার উপস্থিতিকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এছাড়া উনি মাঝে মাঝেই দাবি করেন উনার আমলেই ক্রিকেটের সব সাফল্য এসেছে । এ কথা সত্য যে,১৯৯৬ সালে সাবের হোসেন চৌধুরী সাহেব তার নেতৃত্বগুনে আমাদের ক্রিকেটে বৈপ্লবিক কাঠামোগত পরিপর্তন এনেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালে আলী আসগর লবি সাহেব এর নেতৃত্বের কমিটি সেই পরিবর্তন গুলোকে আরো যুগোপযোগী করেছিলেন,এর ফলশ্রুতিতেই আজকে আমরা সাকিব,তামিম এবং মুশফিক দের মত প্রতিভার সন্ধান পেয়েছি । কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে ইবনে সিনা জামালি,লোটাস কামাল এবং পাপন সাহেব দের নেতৃত্ব আমাদেরকে কি দিয়েছে? পাতানো ম্যাচ, খেলোয়ার দের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ,সভাপতির পা ধরে ক্ষমা চাওয়া,আশরাফুলের কান্না !!!,তারা কি পেরেছে, পাইপলাইনে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়ার তৈরী করতে ? আজকে আমরা রিপ্লেস করার মত প্রতিভা খুঁজে পাই না ।
এই যে ভগ্নদশা ,এর দায়ভার কার ?
প্রধানমন্ত্রী,সাফল্যের কৃতিত্ব নিয়েছেন কিন্তু এখন কি ব্যর্থতার দায়ভার নিবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



