এখানকার বিড়ম্বনা:
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বাংলায় বলে এক দেশের বুলি আরেক দেশের গালি। কথাটা বাস্তব সত্য। ছোটবেলায় মা-কে কম যন্ত্রণা করতাম না। খাওয়া নিয়ে, খেলা নিয়ে, অসময়ে বাইরে থাকা নিয়ে। এছাড়াও আমরা কম যন্ত্রণা করতাম না পাশের বাসার গাছ থেকে আম চুরি করে অথবা ছোট ভাইয়ের সাথে মারামারি করে। দুস্টুমীর মাএার চেয়ে মায়ের শাসনের ভাষাটাও কম যেত না। কতদিনই না মা বলেছেন, "মেরে হাড্ডী গুড়া করে দিব"। "আবার করলে ধরে মেরে ফেলব"। এসবই স্বাভাবিক। সাধারণত: আমাদের দেশে বাবা-মারা এভাবেই আমাদের শাসন করতেন।
কিন্তু বিপওি ঘটে এখানে আমেরিকায় এসে। এখানে শিশু নিপীড়ন ও নির্যাতন বিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর। বাব-মারা যদি দৈহিক শাস্তি নিয়মিত দিতে থাকেন, খুব সম্ভবতঃ তাদের ছেলে-মেয়েরা বেশীদিন তাদের সাথে থাকবে না। কারণ স্কুল শিক্ষক বা চিকিৎসকরা যদি দেখতে পান শারীরিক শাস্তির সিম্পটম, তাহলে তারা শিশুরক্ষা বিভাগে খবর দিবেন এবং সেখানকার সমাজকমর্ীরা তদন্ত করবে এবং সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে বাচ্চা বাবা-মার কাছ থেকে সরিয়ে ফস্টার কেয়ারে দিয়ে দিবেন। সেদিন শুনলাম, এক বাঙালী মহিলা তার বাচ্চার ব্যাপারে স্কুলের টীচারের সাথে কথা বলতে গেছেন। সেখানে টীচারের কাছে তার ছেলের আচরণগত সমস্যার কথা শুনে হতাশ হয়ে ইংরেজীতে বলে উঠলেন, "আমার ইচ্ছে করছে, ওকে ধরে মেরে ফেলি"। তিনি কি জানতেন তার এই সহজ কথাটা কি ধরণের বিব্রতকর বিপওি নিয়ে আসবে? টীচার সাথে সাথে শিশুরক্ষা বিভাগে ফোন করল, তারা এসে বাচ্চাকে নিয়ে গেল আর মহিলাকে পরীক্ষার জন্য সাইকিয়াট্রিক হসপিটালে নিয়ে গেল। প্রায় 5/6 মাস পর বাচ্চা ফিরে আসল মায়ের কাছে। এর মধ্যে কোট-কাচারী, থেরাপী ও নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে শেষ অবধি সব নাটকের অবসান হলো। তাই বলি, আমাদের সহজ কথা নিয়ে আসতে পারে বিরাট বিপওি। এটা শুধু এখানকার বিড়ম্বনা, বাংলাদেশ থেকে যা বুঝা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে...
...বাকিটুকু পড়ুনআইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!
শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ...
...বাকিটুকু পড়ুন
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক...
...বাকিটুকু পড়ুন