কিন্তু বিপওি ঘটে এখানে আমেরিকায় এসে। এখানে শিশু নিপীড়ন ও নির্যাতন বিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর। বাব-মারা যদি দৈহিক শাস্তি নিয়মিত দিতে থাকেন, খুব সম্ভবতঃ তাদের ছেলে-মেয়েরা বেশীদিন তাদের সাথে থাকবে না। কারণ স্কুল শিক্ষক বা চিকিৎসকরা যদি দেখতে পান শারীরিক শাস্তির সিম্পটম, তাহলে তারা শিশুরক্ষা বিভাগে খবর দিবেন এবং সেখানকার সমাজকমর্ীরা তদন্ত করবে এবং সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে বাচ্চা বাবা-মার কাছ থেকে সরিয়ে ফস্টার কেয়ারে দিয়ে দিবেন। সেদিন শুনলাম, এক বাঙালী মহিলা তার বাচ্চার ব্যাপারে স্কুলের টীচারের সাথে কথা বলতে গেছেন। সেখানে টীচারের কাছে তার ছেলের আচরণগত সমস্যার কথা শুনে হতাশ হয়ে ইংরেজীতে বলে উঠলেন, "আমার ইচ্ছে করছে, ওকে ধরে মেরে ফেলি"। তিনি কি জানতেন তার এই সহজ কথাটা কি ধরণের বিব্রতকর বিপওি নিয়ে আসবে? টীচার সাথে সাথে শিশুরক্ষা বিভাগে ফোন করল, তারা এসে বাচ্চাকে নিয়ে গেল আর মহিলাকে পরীক্ষার জন্য সাইকিয়াট্রিক হসপিটালে নিয়ে গেল। প্রায় 5/6 মাস পর বাচ্চা ফিরে আসল মায়ের কাছে। এর মধ্যে কোট-কাচারী, থেরাপী ও নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে শেষ অবধি সব নাটকের অবসান হলো। তাই বলি, আমাদের সহজ কথা নিয়ে আসতে পারে বিরাট বিপওি। এটা শুধু এখানকার বিড়ম্বনা, বাংলাদেশ থেকে যা বুঝা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


