১ম দৃশ্য
এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ছদরুল । বয়স তার বাইশ তেইশ হবে । বাবা তার অনেক আগে মারা গেছে । তার পরিবারে আছে তার মা ও একটি মাত্র ছোটবোন,নাম লতা । ছদরুলদের যথেষ্ট জায়গা জমি ও তার বাবার রেখে যাওয়া সয়-সম্পত্তি আছে । আর তা দিয়েই খুব ভালোভাবে চলে তাদের সংসার । ছদরুল একটু বোকা টাইপের ছেলে,কিন্তু সে নিজেকে খুব স্মার্ট ও চালাক ভাবে ।
[একদিন ছদরুল ঘরের মধ্যে পাঞ্জাবি,পাজামা পরে গায়ে সেন্ট মেরে চোঁখে একটা কালো সানগ্লাস লাগিয়ে রেডি হচ্ছে সে বাহিরে বের হবে বলে]
[এরমধ্যে ছদরুলের বাড়িতে ছদরুলের দুই বন্ধ নিজাম ও কাওসারের আগমন]
নিজামঃ- ছদরুল কই তারাতারি বের হ,দেরি হয়া যাইচ্ছে ।
[বাহিরে ছদরুলের মায়ের আগমন]
ছদরুলের মাঃ- এ কি ছদরুলরে ডাকাডাকি করতিছিস ক্যান,কই যাবি তোরা?
কাওসারঃ- আইজকে তো আমাদের দাওয়াত আছে খালাম্মা ।
ছদরুলের মাঃ- কিসের দাওয়াত?
নিজামঃ- কেনো ছদরুল কিছু বলে নায়?
[এরমধ্যে ছদরুলের আগমন]
কাওসারঃ- এই ছদরুল খালাম্মারে বল যে আমরা কোথার দাওয়াতে যাই ।
নিজামঃ-হু ছদরুল বল খালাম্মাকে ।
ছদরুলঃ-আম্মা আসসালামু আলাইকুম ।
ছদরুলের মাঃ- কিরে বাবা সাইজা গুইজা কোথায় যাচ্ছিস?
ছদরুলঃ- আম্মা একটা দাওয়াত খেতে যাচ্ছি ।
ছদরুলের মাঃ- কোথায় দাওয়াত?
ছদরুলঃ- আম্মা আজ নুপুরের জন্মদিন । তাই ওদের বাড়ি দাওয়াত ।
নিজামঃ- জ্বি খালাম্মা আমরা সবাই নূপুরদের বাড়িতেই যাবো ।
ছদরুলের মাঃ- ও নুপুরের জন্মদিন(একটু মুচকি হেসে দিয়ে) । ঠিকাছে তাহলে যা,ভালোভাবে যাইস বাবা ।
ছদরুলঃ- ঠিকাছে আম্মা যাচ্ছি ।
কাওসারঃ- খালাম্মা আমরাতো সাথে আছি । চল ছদরুল ।
২য় দৃশ্য
[ছদরুল ও তার দুই বন্ধু রওয়ানা হলো নূপুরদের বাড়ির উদ্দেশ্যে]
[পথে ওদের সাথে ছদরুলের বোন লতার সাথে দেখা]
লতাঃ- ভাইয়া এতো সাইজা গুইজা যাও কই? পান্তা খাইছো তো? তোমার তো আবার পান্তা না খাইলে মাথা ঠিক থাকেনা ।
ছদরুলঃ- তা তোরে বলতে হইবে ক্যান? বেশি কথা বলিস । যা এখান থেকে যা ।
নিজামঃ- লতা আমরা নূপুরদের বাড়ি যাচ্ছি ।
লতাঃ- ওহ নিজাম ভাই তোমার পান্তাখোর বন্ধুটারে সামলাইও ।
ছদরুলঃ- কানের উপর একটা বসাইয়া দেবো,যা এখান থেকে ।
কাওসারঃ- ছদরুল ঝগড়া করতে হবেনা চল?
[লতা একটা দৌড় দিয়ে চলে গেলো]
৩য় দৃশ্য
[পথ দিয়ে তিন বন্ধু যাচ্ছে নূপুরদের বাড়ির উদ্দেশ্যে]
চা দোকানদার মোখলেছঃ- কিরে ছদরুল সাইজা গুইজা কই যাচ্ছিস? চা খাইয়া যা ।
ছদরুলঃ- না আমি চা খাবোনা মোখলেছ ভাই । আমি এখন নূপুরদের বাড়ি যাচ্ছি দাওয়াত খাইতে । আর তুমিতো জানো আমি পান্তা ছাড়া কিচ্ছু খাইনা ।
নিজামঃ- হ মোখলেছ ভাই ছদরুল তো পান্তাখোর তা তুমি জানোনা?
চা দোকানদারঃ- জানিতো,পুরা এলাকাবাসীইতো জানে । আচ্ছা ছদরুল তাইলে তোরা দাওয়াত খাইতে যা । যওয়ার সময় চা খাইয়া যাইস ।
ছদরুলঃ- ঠিকাছে । এ নিজাম,কাওসার তোরা চল ।
চা দোকানদারঃ- হালার বলদ এট্টা চা খাবেনা,পান্তা খাবে । বোকদাডায় আবার ভাব লয় সারুখ খানের মতো ।
৪র্থ দৃশ্য
ছদরুলঃ- বুঝছো নিজাম,কাওসার চা কি খাবো এখন । যেখানে যাচ্ছি সেখানে যা খাওয়াবেনে,তাই এখনকি চা খেয়ে পেট টা নষ্ট করবো ।
নিজামঃ-তুই যা খাবি আনে পান্তা ছাড়া তো কিচ্ছু বুঝিস না ।
কাওসারঃ- ঠিক বলছো নিজাম ।
ছদরুলঃ- এই তোরা বেশি কথা না বইলা চল ।
[নূপুরের বাড়িতে ছদরুলসহ ওদের তিনজনার আগমন]
ছদরুলঃ- নূপুর,নূপুর বাড়িতে আছো?
নূপুরঃ- কিরে ছদরুল ভাই আপনারা?
ছদরুলঃ-কেনো তুমি আমাকে দাওয়াত করছিলেনা তাই আসছি ।
নূপুরঃ- কিসের দাওয়াত?
ছদরুলঃ- ক্যান তোমার জন্মদিনের দাওয়াত । তুমি আমায় দাওয়াত করছিলেনা তাই আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে চলে আসলাম ।(খুব স্টাইল করে) ।
নিজাম+কাওসারঃ- হ্যা তুমিতো ছদরুলরে দাওয়াত করছিলে ।
নূপুরঃ- গিফট টিফট কিছু আনিছেন?
ছদরুলঃ- আরে আমার ভুল অয়ে গেছে । আমার এক্কেবারে মনে নেই । অসুবিধে নেই আমি পরের বার দিয়ে দেবানি ।
নূপুরঃ- আরে ছদরুল ভাই আমিতো একটু আপনার সাথে মজা নিছি । আসলে আমার আজ জন্সদিন না । আপনাকে মিথ্যা বলতে আমার খুব মজা লাগে(হেসে দিয়ে) ।
ছদরুলঃ- ছি নূপুর আমি তোমাকে অন্যরকম মনে করতাম । তুমি আমার সাথে এমন করতে পরলা?
নূপুরঃ- ছদরুল ভাই রাগ কইরেন না । আসছেন যখন ভিতরে আসেন । জন্মদিন না হলে হবে কি । জন্মদিন ওলে যা খাওয়াতাম তাই খাওয়াবানে । আপনারা সবাই আসেন ।
[নূপুরদের ঘরের মধ্যে ছদরুলসহ তিন বন্ধুর প্রবেশ]
৫ম দৃশ্য
নূপুরঃ- আপনারা বসেন আমি আসতেছি ।
ছদরুলঃ- ঠিকাছে ।
[নূপুর মিষ্টি,সেমাই আপেল কমলা নিয়ে আসলো]
নূপুরঃ- খান ছদরুল ভাই আপনারা খান ।
ছদরুলঃ- এ তুমি কি আনিছো নূপুর? আমিতো এসব খাইনা । আমি পান্তা খাই ।
নিজাম+কাওসারঃ-হও ছদরুল তো একেবারে পান্তাখোর ।
নুপুরঃ- তাতো জানি কিন্তু এই সময়ে পান্তা ভাত পাবো কোথায়?
ছদরুলঃ- হাহা সিষ্টেম আছে সিষ্টেম আছে ।
নূপুরঃ- কি সিষ্টেম ছদরুল ভাই?
ছদরুলঃ- তুমি এক গামলা ভাত আর পানি নিয়ে আসো আমি দেখাবানি । সাথে লবন আর কাচা মরিচ ও আইনো ।
নূপুরঃ- ঠিকাছে । নিজাম ভাই আর কাওসার ভাই আপনারা ফল খান । পাগল জানি কোথাকার(মনে মনে) ।
[নূপুর এক গামলা ভাত,পানি,কাচা মরিচ ও লবন নিয়ে আসলো]
[ছদরুল গরম ভাতের মধ্যে পানি ঢেলে দিয়ে পান্তা বানিয়ে লবন দিয়ে কাচা মরিচ দিয়ে এক গামলা ভাত খেয়ে ফেলছে]
নুপুরঃ- হাহা ছদরুল ভাই আপনি এ কি কান্ড করলেন? আজব তো ।
ছদরুলঃ-পান্তা ছাড়া খালি আমার জানটা,
তাই পান্তা খেয়ে ঠান্ডা করলাম প্রানটা ।
পান্তা ছাড়া আমি যে কিছু বুঝিনা,
পান্তা ছাড়া অন্য কিছু আমি খৃঁজিনা ।
দরকার হলে পান্তার জন্য আমি হতে পারি চোর,
হে আমি যে এক মস্তবড় পান্তাখোর ।
[নূপুরের বাড়ি থেকে ওদের তিনজনার প্রস্থান]
৬ষ্ঠ দৃশ্য
[এদিকে আজ ছদরুলের মা একটু অসুস্থ,আর ওর বোন লতা ওর মায়ের সেবা করছে বলে আজ রান্না বান্না হয়নি । কিন্তু ছদরুল খাবে কি?ছদরুলের তো পান্তা না খেলে মাথা ঠিক থাকেনা । সারাদিন না খাওয়া ছদরুল । ছদরুলের শুধু রাতের অপেক্ষো]
ছদরুলঃ- শালা এখনও রাত হচ্ছেনা কেনো? ওহ আচ্ছা নিজামকে একটা ফোন দিই ।
নিজামঃ- হ্যালো ছদরুল কি খবর?
ছদরুলঃ- বন্ধু আমার জন্য এক গামলা ভাত নিয়ে আয় ।
নিজামঃ- আরে দোস্ত আমাদের ভাততো খাওয়া হইয়া গেছে ।
ছদরুলঃ- ধুর,তাহলে তুই এখন আমাদের বাড়ি আয় । সাথে কাওসারকে ও নিয়া আসিস ।
নিজামঃ- আচ্ছা আইতাছি ।
৭ম দৃশ্য
[ছদরুলের বাড়িতে নিজাম ও কাওসারের আগমন]
নিজামঃ- কি খবর ছদরুল ডাকছিস ক্যান?
ছদরুলঃ- শোন আম্মা অসুস্থ,আর লতা তার সেবা করতেছে তাই আজ রান্না করা হযনি । আর তোরাতো জানো যে পান্তা না খেলে আমার মাথা ঠিক থাকেনা । তাই এখন পাশের বাড়ির আজাহার চাচার ঐ মাটির ঘরে সিং দিয়ে এক পাতিল ভাত চুরি করতে হবে ।
নিজামঃ- আচ্ছা ঠিকাছে ।
ছদরুলঃ- চল সাবল নিয়ে আসি সিং কাটার জন্য ।
[তিনজনে মিলে আজাহার চাচার মাটির ঘরে সিং কাটলো । সিং কেটে গর্ত করে নিজাম আর কাওসার ভিতরে লুঙ্গি কাচা দিয়ে ঢুকে এক পাতিল পান্তা ভাত চুরি করে আনলো ।]
নিজাম+কাওসারঃ- এই নে ছদরুল তোর ভাত ।
ছদরুলঃ-ধন্যবাদ তোদের ।
[ছদরুল রাতে বাগানে বসে এক পাতিল ভাত সব খেয়ে ফেলল]
৮ম দৃশ্য
[পরের দিন সকালে রাস্তা দিয়ে ছদরুল যাচ্ছে]
চায়ের দেকানদার মোখলেছঃ- ঐ ছদরুল এদিকে আয় ।
ছদরুলঃ- কি ডাকছো কেনো মোখলেছ ভাই?
মোখলেছঃ- চা খাইয়া যা সকালবেলা । ভালো লাগবে আনে ।
ছদরুলঃ- না মোখলেছ ভাই চা খাবোনা । তুমিতো জানো আমার একটাই নেশা আর তা হলো পান্তাভাত খাওয়ার নেশা ।
মোখলেছঃ- বিড়িখোর দেখছি,চাখোড় দেখছি,পানখোড় দেখছি,সুদখোর দেখছি,ঘুষখোড় দেখছি কিন্তু তোর মতো পান্তাখোড় আমি আমার সাত জন্মে ও দেহি নাই ।
ছদরুলঃ-মোখলেছ ভাই তুমি আমারে এক গামলা পান্তা ভাত দিয়ে যাও একটু সকালবেলা পেট ভরে খাই । মা অসুস্থ তাই রান্না বান্না হয়নি ।
মোখলেছঃ- মোর খাইয়া বইয়া কাম আছেতো এহন দোকান থুইয়া মুই তোর জইন্যে পান্তাভাত আইন্না দিমু ।
ছদরুলঃ- দ্যাহো মোখলেছ ভাই তোমারে টাকা দেবো,তুমি পান্তা নিয়া আসো ।
মোখলেছঃ- না আমার টাহা লাগবেনা ।
ছদরুলঃ- দ্যাখো মোখলেছ ভাই পান্তা না খাইতে পারলে আমার মাথা ঠিক থাকেনা ।
[এই কথা বলে ছদরুল মোখলেছের দোকানের ঝাপের খুটা উঠাইয়া দোকান ভাঙ্গা শুরু কইরা দেছে । মোখলেছ ছদরুলকে ঠেকাইয়া রাখতে পারছে না । । এরমধ্যে নিজাম এবং কাওসার দৌড়ে এসে ছদরুলকে ধরে]
৯ম দৃশ্য
নিজামঃ- মোখলেছ ভাই তুমি তারাতারি পান্তা ভাত নিয়া আসো,না হয় কিন্তু আমরা দশজন মিলেও ওরে ঠেকাইতে পারবো না । ও কিন্তু তোমার দোকান ভাইঙ্গা ফেলাবে ।
মোখলেছঃ-হ তোরা এট্টু ওরে ঠ্যাহা আমি পন্তাভাত নিয়া আসতাছি ।
ছদরুলঃ- এ তোরা আমারে ছাড় আমি দোকান ভেঙ্গে ফেলবো ।
কাওসারঃ- একটু ধৌর্য ধর দোস মোখলেছ ভাই পান্তা আন্তে গেছে তোর জন্যে ।
১০ম দৃশ্য
[মোখলেছ এক গামলা পান্তা নিয়া আসছে । তা ছদরুল সব খাইছে]
ছদরুলঃ- মোখলেছ ভাই কিছু মনে কইরো না । পান্তা না খাইলে আমার সাথা ঠিক থাকেনা ।
মোখলেছঃ- হ মুই বোঝতে পারছি ।
নিজাম+কাওসারঃ- বন্ধু আমরা এখন যাচ্ছি তুই ঠান্ডা মাথায় বাড়ি যা ।
[সকলের প্রস্থান]
১১ তম দৃশ্য
[ছদরুল বাসায় গেলো । ছদরুলের মা সুস্থ,তাই আজ দুপুরে ভাত রান্না করছে]
লতা(ছদরুলের বোন)ঃ- ভাইয়া মা তোরে ভাত খাইতে ডাকতেছে ।
ছদরুলঃ- আসতেছি ।
ছদরুলের মাঃ- কই ছদরুল এখনও যে এলনা?
ছদরুলঃ- কই মা আমি এইতো ভাত দাও ।
ছদরুলের মাঃ- এই নে বাবা খা ।(এক প্লেট গরম ভাত দিল) ।
ছদরুলঃ- মা তুমি জানোনা আমি পান্তা ছাড়া অন্য কোনো ভাত খাইনা ।
[ছদরুলের ছোটবোন হাসতেছে]
ছদরুলের মাঃ-বাবা এসময় পান্তা ভাত পাবো কই বল?
ছদরুলঃ- দেখো মা আমি হচ্ছি বাপকা বেটা । আমার আব্বাজানও আমার মত পান্তাখোর ছিলেন ।
ছদরুলের মাঃ- হ্যা বাবা তুই যখন ছোট ছিলি তখন তোর আব্বা পান্তাখোরের প্রতিযোগীতায় এলাকার মধ্যে চ্যম্পিয়ন হইছিল । আর তুই সেরকম হইছো ।(মুখটা কালো করে) ।
ছদরুলঃ- ঐ লতা এক জগ পানি নিয়া আয় ।
লতাঃ- হ্যা ভাইয়া আনছি । পাগল যেনো কোথার ।
ছদরুলঃ- তারাতারি নিয়া আয় বান্দর ।(ওর বোনের কান ধরে) ।
[লতা পানি নিয়া আসলো । ছদরুল সেই পানি গরমভাতের মধ্যে ঢেলে দিয়ে পান্তা বানিয়ে খাওয়া শুরু করলো । ওর কান্ড দেখে ওর মা ও বোন হাসতেছে]
১২ তম দৃশ্য
[রাস্তা দিয়ে ছদরুল ও ওর দুই বন্ধু নিজাম আর কাওসার যাচ্ছে । হঠাৎ করে ওরা শুনতে পেল মাইকে বলতেছে]
মাইকঃ-সুপ্রিয় এলাকাবাসী আগামী পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে খানপাড়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক বিশাল পান্তা খা্ওয়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে । আপনারা যারা অংশগ্রহন করতে চান তারা চৈত্র মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমান ফি দিয়ে নিবন্ধন করুন । নিবন্ধনের স্থান খানপাড়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইবে্ররী । এখানে প্রথম পুরুষ্কার একটি একুশ ইঞ্চি রঙ্গীন টেলিভিশন,২য় পুরুষ্কার একটি বাই সাইকেল এবং ৩য় পুরুষ্কার বিশাল একটি গামলা । সুপ্রিয় এলাবাসী……
নিজামঃ- দোস্ত ভালো খবর তুইতো ভালোই পান্তা খাও । তুই এই পান্তা খাওয়ার প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন কর ।
কাওসারঃ- হ দোস্ত নিজাম ঠিক বলছে । তাছাড়া তোর ঘরেতো টেলিভিশন নাই । তুই ফাষ্ট হইতে পারলে টেলিভিশন পেয়ে যাবি ।
ছদরুলঃ- সত্যি আমি ফাষ্ট হইতে পারবো?আমি টেলিভিশন পাবো?
নিজামঃ- অবশ্যই তুই ফাষ্ট হইতে পারবি দোস্ত । তুই নাম লেখা,নিবন্ধন কর ।
ছদরুলঃ- আচ্ছা আমি রাজি আমি নাম লেখাবো ।
১৩ তম দৃশ্য
[অবশেরষ ছদরুল প্রতিযোগীতায় নাম লেখাল]
[রাস্তায় নুপুরের সাথে ছদরুলের দেখা]
নূপুরঃ- কিরে ছদরুল ভাই আপনি নাকি পান্তা খাওয়ার প্রতিযোগীতায় নাম লেখাইছেন?
ছদরুলঃ- হ্যা লেখাইছি কিন্তু তা তুমি জানলে কিভাবে?
নূপুরঃ- আরে কি বলেন ছদরুল ভাই এ খবর তো এলাকার সবাই জানে । সবার মুখে মুখে আপনার নাম । আপনি তো পুরো সুপারহিট হইয়া গেলেন । আর যদি আপনি ফাষ্টই হইতে পারেন তাহলে আপনাকে পান্তাখোর ছদরুল হিসেবে এক নামে এলাকার সবাই চিনবে ।
ছদরুলঃ- বেশি কথা বলনা নূপুর । তুমি যাচ্ছো কই?
নূপুরঃ- কই আবার যাবো? আসছিলাম সুপারহিট ছদরুল ভাইয়ের খোজে ।(হেসে হেসে)
ছদরুলঃ- তুমি কিন্তু আমাকে ইনসল্ট করতেছো নূপুর ।
নূপুরঃ-আরে না আপনারে ইনসাল্ট করতে যাবো কেনো? আমি এখন যাই ।
ছদরুলঃ- যাচ্ছে কেনো দাড়াও ।
নূপুরঃ- না আমার সময় নেই ।
[উভয়ের প্রস্থান]
১৪ তম দৃশ্য
[ছদরুল পান্তাখোরের প্রতিযোগীতায় নাম লেখাইছে জেনে ওর মা ও বোন খুব খুঁশি । তাই তারা দুপুরে ও রাত্রে ভাত রান্না করে আর পানি দিয়ে ভিজায় । আর এতে ওদেরকে সাহায্য করে ছদরুলের বন্ধু নিজাম ও কাওসার । ছদরুল শুধু বসে বসে পেট ভরে পান্তা খায় । অতিরিক্ত পান্তা খেতে খেতে ছদরুল অসুস্থ হয়ে পড়ে]
নিজামঃ- খালাম্মা ছদরুলকে হাসপাতালে নিতে হবে ।
ছদরুলের বোনঃ- হ্যা নিজাম ভাই তুমি ঠিক কইছো ভাইয়াকে হাসপাতালে নিতে হবে ।
কাওসারঃ- হ্যা তারাতারি সবাই ধরো ।
ছদরুলের মাঃ- হ্যা ধরো সবাই ধরো ।
ছদরুলঃ- না আমাকে হাসপাতালে নিলে কাজ হবেনা । আমাকে আরেক গামলা পান্তা এনে দাও ।
নিজামঃ- দোস্ত তুই পাগল হইছো নাকী পান্তা খেয়ে তোর এই অবস্থা আবার তুই পান্তা খাবি?
ছদরুলঃ- তোরা বেশি বুঝবিনা তোরা পান্তা এনে দে দ্রুত । না হয় কিন্তু আমার মাথা গরম হয়ে যাবে । আমি অরো অসুষ্থ হয়ে পরবো ।
কাওসারঃ- হ এই লতা ছদরুলকে আরেক গামলা পান্তা এনে দাও ।
[লতা আরেক গামলা পান্তা এনে দিল ছদরুল তা খেয়ে সুস্থ হয়ে গেল । সবাই তো এটা দেখে অবাক]
১৫ তম দৃশ্য
[এলাকার মুরাব্বিরা দোকানদাররা সবার মুখে মুখে,যে ছদরুল জিতে যাবে]
[এদিকে খবর পাওয়া গেল পাশের গ্রাম থেকে রুস্তুম নামে এক বীর পাহলান পান্তাখোর আসতেছে]
[বাজারের মোখলেছের চায়ের দোকানে কয়েকজন লোক কথা বলতেছে]
সাহাবুদ্দিনঃ-না ছদরুল ঐ রুস্তুমের সাথে পারবে না ।
রেজাউলঃ- মনে হয়না । কারন ঐ রুস্তুম আইজ পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগীতায় হারে নায় ।
মাইনুদ্দিনঃ- হয় ছদরুইল্লা পারবে না ঐ রুস্তমের লগে ।
মোখলেছঃ- না না মনে হয় পারবে না । দেহি প্রতিযোগীতার দিন কি অয়,ছদরুইল্লা কি হরে?
[সবার প্রস্থান]
১৬ তম দৃশ্য
[ছদরুলের রুমে ছদরুলের মায়ের আগমন]
ছদরুলের মাঃ- বাবা তুই জিততে পারবিতো? তোর বাবার মানটা রাখবিতো? শুনছি পাশের গ্রাম থেকে বীর পাহলান রুস্তুম আসছে ।
ছদরুলঃ-মা তাতে কোনো সমস্যা নাই । আমি কেউরে ডরাই না । আর আমি অবশ্যই জিতবো । তুমি দোয়া করো আমি বাবার মান রাখবো । আমার যে রঙ্গীন টেলিভিশন আনতেই হবে মা ।
ছদরুলের মাঃ- ঠিকাছে বাবা তুই এখন ঘুমা । আমি যাচ্ছি ।
[ছদরুলের মায়ের প্রস্থান]
১৭ তম দৃশ্য
[রাতে ছদরুল স্বপ্নে দেখতেছে প্রতিযোগীতায় ঐ রুস্তুম জিতে গেছে । ছদরুল এই স্বপ্ন দেখে ওরে মা বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে ।]
ছদরুলের মাঃ- ছদরুল বাবা তোর কি হয়েছে?(দৌড়ে এসে) ।
ছদরুলঃ- মা,মা আমি দেখছি,দেখছি ঐ ।
ছদরুলের মাঃ- কি দেখছো বাবা?
ছদরুলঃ- মা আমি স্বপ্ন দেখলাম ঐ রুস্তুম ফাস্ট হয়ে টেলিভিশন নিয়া গেছে ।
ছদরুলের মাঃ- বোকা এটা তোর মনের ভয় । তুই ফাষ্ট হবিই হবিই বাবা । চিন্তা করিসনা,এখন ঘুমা বাবা ।
[ছদরুলের মায়ের প্রস্থান]
১৮ তম দৃশ্য
[আজ পহেলা বৈশাখ । সকাল ১০ টা বাজে শুরু হবে পান্তাখোরের প্রতিযোগীতা]
[ছদরুল জোগাড় হয়ে রওয়ানা হয়েছে প্রতিযোগীতার উদ্দেশ্যে]
ছদরুলের মাঃ- বাবা দাড়া ।
ছদরুলঃ-মা আমার জন্য দোয়া কইরো ।
[ছদরুলের মা ছদরুলকে আশির্বাদ দিয়ে দিল আর হাতের মধ্যে কি যেনো একটা গুজে দিল]
ছদরুলের মাঃ-বাবা ঐটা পকেটে রাখিস ।
ছদরুলঃ- ঠিকাছে মা আমি যাচ্ছি ।
ছদরুলের মা আচ্ছা বাবা ভালো মত যা । দোয়া রইল ।
[ছদরুলের প্রস্থান]
১৯ তম দৃশ্য
[এদিকে প্রতিযোগীতার স্থানে আগে থেকেই ছদরুলের বোন লতা,নূপুর,নিজাম ও কাওসার ছদরুলের জন্য অপেক্ষা করতেছে । সবাই ছদরুলকে অনুপ্রেরনা দিচ্ছে]
নূপুরঃ- ছদরুল ভাই আপনি পারবেন । আপনি জিতবেন । দোয়া রইল আপনার জন্য ।
ছদরুলঃ- শুধু দোয়াই দিবা আর অন্য কিছু দিবানা?
নূপুরঃ- আর কি দেওয়ার আছে ছদরুল ভাই?আপনি এখন প্রতিযোগীতায় যান । প্রতিযোগীতা আরেকটু পর শুরু হবে ।
২০ তম দৃশ্য
[এদিকে দশটা বেজে গেছে ছদরুল রুস্তুম সহ সব প্রতিযোগী বসছে লাইন দিয়ে । সবার সামনে কর্তৃপক্ষের লোক বড় গামলায় করে পান্তা ভাত দিয়ে গেছে]
কর্তৃপক্ষের লোকঃ- বাশি দেওয়া মাত্র আপনারা খাওয়া শুরু করবেন ।
প্রতিযোগীরাঃ- ঠিকাছে ।
কর্তৃপক্ষের লোকঃ- বাশি দিল ।
প্রতিযোগীরাঃ- আমাদের লবন দেননি কেনো?লবন ছাড়া পান্তা খাবো কিভাবে?
কর্তৃপক্ষের লোকঃ- এটা আমাদের প্রতিযোগীতার নিয়ম । লবন দেওয়া যাবেনা,লবন ছাড়াই আপনাদের পান্তা খেতে হবে ।
[একথা শোনার পরে সব প্রতিযোগী পান্তা খাওয়া শরু করলো । ছদরুল সবার আগে দুইগামলা পান্তা খেয়ে ফেলল । ছদরুল ফাষ্ট হয়ে গেল । তাকে ডেকে নিয়ে প্রথম পুরুষ্কার রঙ্গীন টেলিভিশন দিয়ে দিল । নুপুর,লতা,নিজাম,কাওসার সহ সারা এলাকাবাসী ছদরুলের জয়ে উল্লাসে ফেটে উঠলো]
২১ তম দৃশ্য
রুস্তুমঃ- ছদরুল তোমার কাছে আমার একটা প্রশ্ন তুমি কিভাবে ফাষ্ট হলে । আমি জীবনে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিরযগীতায় হারি নাই । আর তুমি আমাকে হারালে? এতো পান্তা কিভাবে খেলে?
ছদরুলঃ- শোনেন রুস্তুম ভাই আমি যখন বাড়ি থেকে প্রতিযোগীতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম,তখন আমার মা আমাকে দোয়া দিয়ে দিল আর হাতের মধ্যে একটা পোটলায় লবন দিয়ে দিয়েছিল । আমি প্রতিযোগীতার সময় পকেট থেকে ঐ লবন বের করেই পান্তা খেয়েছি ।
রুস্তুমঃ- ওহ তাই । স্যাড,স্যাড,স্যাড ।
২২ তম ও শেষ দৃশ্য
[এদিকে গ্রামবাসী ছদরুলকে মাথায় করে টেলিভিশনসহ মিছিল দিতে দিতে ছদরুলের বাড়ি চলে গেল । ছদরুলের মা খুব খুঁশি]
জিতে গেল পান্তাখোর ছদরুল ।
[সমাপ্ত]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




