সাংবাদিক কামাল, ইংলিশ কামাল, কামাল সাব- এ নাম গুলো ছিল তাঁর পরিচিতির বিশেষণ। কামাল ভাইয়ের ১ম মৃত্যুবাষিকী চলে গেছে অত্যন্ত নীরবে নিভৃতে। পারিবারিক অঙ্গনে পরিজনদের মাঝেই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচী পালিত হলো অত্যন্ত সাদামাটা ভাবে।
বাংলাদেশের মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন প্রথিত যশা সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম কামাল ভাই। তাঁর অনুজপ্রতিম মোনাজাত উদ্দিনের অকাল মহা প্রয়ানের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সাংবাদিকতার মহীরুহদের মহা প্রয়ান শুরু হয়। এর পর আততায়ী কেড়ে নেয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অগ্রজ সাংবাদিক সামসুর রহমান, দৈনিক রানার সম্পাদক খুলনার বালু ভাই, রতন সাহা প্রমুখকে এভাবে একে একে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ সাংবাদিকদের অহংকার করার মত কয়েকজন।
কামাল ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সাহসী সাংবাদিকতার শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এতদ্ অঞ্চলের আরেকজন সাংবাদিক যিনি সম্প্রতি পরলোকে গেলেন তিনি হলেন কুমিল্লার প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা। কামাল ভাইয়ের সমসাময়িক সাংবাদিকতার এই অগ্রজ সাংবাদিক ছিলেন পরার্থে নিবেদিত। কুমিল্লার বহু সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনন্য।
কামাল ভাইয়ের মত তিনিও ছিলেন সাহসী সাংবাদিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মনে পড়ে ২০০৪ সালে কুমিল্লা ব্র্যাকে ইউনিসেফ-এর এক কর্মশালায় আমাদের সাথে মোস্তফা ভাই ছিলেন কুমিল্লা থেকে অংশগ্রহণকারী। প্রথম দিনে কামাল ভাই সহ চা বিরতিতে অনেক আলাপ হলো। কামাল ভাই কে দেখিয়ে রসিকতা করে আমাদের বলেছিলেন, তোরা বুড়োটাকে দেখে রাখিস। কামাল ভাই মোস্তফা ভাই’র উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমাকে কে দেখছে। মোস্তফা ভাইয়ের গভীর গোঁফের ফাঁকে হাসি মুখ থেকে এর উত্তর আমরা খুঁজে পাইনি। তবে আমরা যেমন কামাল ভাইকে দেখে রাখিনি তেমনি কুমিল্লার সতীর্থ বন্ধুরাও মোস্তফা ভাইকে দেখে রাখেনি। কর্মশালার শেষ দিনে লনে এসে কামাল ভাইয়ের সাথে যৌথ ছবি তোলার আবদার করেছিলেন মোস্তফা ভাই। আমরা তাদের যুগল ছবি তুলেছিলাম। আগ্রহ করে বলেছিলেন ছবিটা পাঠিয়ে দিস। মোস্তফা ভাইয়ের সাথে এরপর কুমিল্লায় শেষ দেখা ২০০৭ সালে। তবে কুশল বিনিময় ছাড়া কোন কথা হয়নি।
মোস্তফা ভাই গ্রাম বাংলার সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বশেষ বিদায়ী অগ্রজ। আমরা কামাল ভাই, মোস্তফা ভাই, সামসুর রহমান, বালু ভাই, রতন সাহাদের হারিয়ে কেবল মফস্বল সাংবাদিকদের ঐতিহ্যের ধারকদেরকে হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের ঠিকানাকে। ঢাকার বড় মাপের সাংবাদিকদের সাথে কামাল ভাই, মোস্তফা ভাইদের দুরত্ব ছিলনা এ কথা বলা যাবে না। তবে অনেক গুণী সাংবাদিক তাদের সমীহ করতেন এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। ঢাকায় মিডিয়া মহলে সিনিয়র কারো সাথে পরিচিত হলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করতেন কামাল ভাই কেমন আছেন। এ প্রশ্ন এখন কেউ করেনা। প্রয়াত কামাল ভাই আমাদের গর্বিত সাংবাদিকতার অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাবেন এমন কথা বলা যাবে না । তবে তাদের স্মৃতি সংরণ না করা হলে আমাদের আগামী ইতিহাস এবং প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমাদের স্বার্থে কামাল ভাইদের কথা মান রাখা উচিত। তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য। (লিখেছেন : বিজন সেন, সাংবাদিক ও চ্যানেল আই’র নোয়াখালী প্রতিনিধি।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

