সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হবার বড় প্যাড়া হল, সামাজিক ব্যাধি গুলা নিয়ে মাথা ঘামানো এবং সেটাও হতে হবে non biased, subjective judgement free, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আত্মহত্যা ঘটনা ঘটেছে এবং গত ০২-১২-২০১৮ তে, ১৪ বছরের স্কুল ছাত্রীরির ঘটনা অনেক তোলপাড় করছে। অনেকে অনেক কিছু বলছে কেউ স্কুলের পক্ষে, কেউ বিপক্ষে, কেউ সামাজিক কাঠামো, কেউ আমাদের অধিক প্রযুক্তি নির্ভরতা কে আঙ্গুল দিচ্ছে। আমার প্রবলেম অন্যখানে। আমি একি সাথে এক জন চুনোপুটি মার্কা সমাজবিজ্ঞানী, এক জন বাবা, এক জন গবেষক।
বাংলাদেশে একমাত্র পুলিশ সুইসাইড তথ্য সিস্টেম্যাটিক ভাবে রাখার চেষ্টা করে এবং ২০১৭ তে বলা আছে ১১,০৯৫ টি কেইস, WHO মতে ২০১৭ তে বাংলাদেশে ৮,৮৭৯ টি কেইস ছিল যেটা ১.১৩%, ওই বছর এর সমগ্র ডেইথ কেস এর (বাংলাদেশ ১৩৯, সুইসাইড রেইট এ)।
সুইসাইডের কারন নিয়ে আমি কোন ব্যাখ্যা তে যাচ্ছি না, সবাই এক্সপার্ট আমরা। প্রেমে ছ্যাকা, জব হয়না, আর্থিক অবস্থা খারাপ, পারিবারিক ঝগড়া, ইত্যাদি। আমি কিছু সেকেন্ডারি ডেটা দিতেছি যেটা আমার কাছে অনেক অর্থবহ লেগেছে। S. M. Yasir Arafat (2016), Md. Mohsin Ali Shah et al. (2017), Salim Reza et al (2013) দেখে একটা জিনিষ ক্লিয়ার আমাদের লক্ষ্য হল, কারা, কত %, কিভাবে, কোন ক্লাসের লোক, মেয়ে না ছেলে, কোন বয়স এগুলা নিয়ে মাতা মাতি। কিন্তু ভাল মানের Qualitative গবেষনা হয় নাই। Md. Mohsin Ali Shah et al. এর কাজ টা ছিল ৬ মাসের পত্রিকার কন্টেন্ট বিশ্লেষন, ২৭১ টা কেইস নিয়া। যার মাঝে ৬১% এর বয়স ৩০ এর নিচে, যাদের মাঝে আবার ৩৩% এর বয়স ১১-২০ বছর। ছাত্র/ছাত্রী সুইসাইড কেইস ২৪% (সেকেন্ডারি ১৩%, গ্রাজুয়েট ৫%, মিসিং ডেটা ৭৮%) ১৩% এস এস সি দিয়েছে, ৫% স্নাতক করছে বা করেছে। তার মানে কি? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তে ব্যাপক গলদ আছে!
কি ? কেমন লাগছে ডেটা? Adolescents!!! Teenager!!!! Hormone effect?
আর একটু ভাল ভাবে দেখলে
৫৮% মহিলা,
১৭% হোম মেকার,
৪৫% বিবাহিত,
৬১% কেইস গ্রামের দিকের
নভেম্বর (২০%) আর জানুয়ারী (১৭%) তে বেশী কেইস আছে, মার্চ (১৫%), শীতকালে মানুষ বেশী সুইসাইড করে, ডুরখেইম ও তাই বলেছিল ( তাতে কি হয়ছে, তাও আমি আইসল্যান্ড, নরওয়ে যামু)।
বিবাহিতদের মাঝে সুইসাইড রেইট কম এটা আগের ধারনা ছিল, কিন্তু বাংলাদেশে ৪৫% বিবাহিত কেইস আছে (লেখকের উচিত ছিল Correlation দেখানো)। Selim Reza র গ্রাম অঞ্চলের একটা গবেষনায় দেখা গেছে, বিবাহিত মহিলারা বেশী সুইসাইডের শিকার হয়ে থাকে। অথচ বিশ্বে পুরুষের সুইসাইডের হার বেশী। Shumona Sharmin Salam et al. (2017) এটি icddrb এর একটি গবেষনা, এখানে দেখা গেছে Fatal and Non Fatal suicide case এর ক্ষেত্রে বিবাহিত adolescent female এর সংখ্যা বেশী। পশ্চিমে “বিয়ে” কে প্রটেক্টিভ ফ্যাক্টর হিসাবে দেখা হয়, কিন্তু আমাদের এখানে সেটা হচ্ছে না। আমাদের দেশে বিবাহিতদের মাঝে সুইসাইড বেশী। ২০১২-২০১৭ পর্্যন্ত ৭,৬৭১ জন মহিলা সুইসাইড করেছেন যার মাঝে ৫১% কেইস শ্বশুরবাড়িতে।
অনেক তথ্যের কচলানী দিলাম, এবার আসি তত্ত্ব কথায়। ডুরখেইম যে চার প্রকার সুইসাইডের কথা বলেছেন তাতে বেশির ভাগ দেখা যায় ইগোইস্টিক (egoistic) যখন Social Cohesion কমে যায়, individual bondage শূন্য হয়ে যায়। আমাদের এই আধুনিক সমাজের ক্যান্সার বলা হয় একে। আর এর জন্য দায়ী করে টেকনোলোজিকে, ফেসবুক, টুইট্যার, মোবাইল এর ব্যবহার এগুলাকে। অনেকে আছেন শহরের নিউক্লীয় পারিবারিক কাঠামোকে দায়ী করেন, মা এর জব করাকে দায়ী করেন ইত্যাদি। মানুষ যেভাবে চেঞ্জ হয়, বিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে, সমাজ ও সেইভাবে আগায়। আমাকে কেউ কেউ বলেছে ফ্যামিলি ঠিক থাকলে সুইসাইড কম হবে, বাচ্চা কাচ্চা ভাল থাকবে, ইন্সটিউশনের কি দোষ! অনেকে বলে বাচ্চাদের মাথায় তুলে ফেলছি, আমরাও মাইর খাইছি, সমাজের কথায় কেন প্রভাবিত হব? আমরাই সমাজ কে প্রভাবিত করব।
আমি প্রথম কম্পিটার ব্যবহার করি ১৯৯৬ (১৬ বছর), আমার ছোট মেয়ে মে ২০১৮ (১২ মাস বয়স) থেকে কম্পিউটার চিনে । সময়ের সাথে সব কিছু চেঞ্জ হয়। Auguste Comte এর Social static social dynamics এর হালকা ধারনা নিতে পারেন ( চাইলে আমিও জ্ঞান বিতরন করবো
এই isolation থেকে সামাজিক, পারিবারিক বন্ধন টা কমে আসে। এখন একটা মানুষ যখন ধীরে ধীরে recognition, isolation এর কারনে Egoistic suicide এর দিকে যায় সেটাকে অনুধাবন করা সম্ভব। কিছু টা আচ করা সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক বাংলার সুইসাইড কাহিনি তে আমি যেটা দেখছি সেখানে ডুখেইমের Fatalistic suicide factors comprehensively মিশে আছে। যার কারনে এটা আমাদের জন্য বিশেষ করে Adolescents দের জন্য ভয়াবহ হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতিহাসগত ভাবে Authoritarian family structure পালন করে আসে। “Comparison/ তুলনা” আমাদের জন্য ডাল ভাত......।অমুক অই, ত্মুক সেই...... তুমি কি? এর জন্য আমরা যেটা করি রুলস বানায়ে দেই, কঠিন গাইডলাইন, ফলাফল “ When regulation is too strong, "persons with futures pitilessly blocked and passions violently choked by oppressive discipline" may see no way out”. আর no way out এর এন্ডিং আমরা খবরের কাগজেই দেখি। যেহেতু, আমরা “ভাল হবে” এই ভেবে সন্তান /ব্যক্তি কে কঠিন নিয়মের মাঝে নিয়ে আসি এবং তাকে সামগ্রিক ভাবে isolated করে ফেলি, সেখানে আমরা কোন ভাবেই বলতে পারি না আধুনিকতার কারনে Egoistic suicide বাড়ছে, পারিবারিক বন্ধন কমে যাচ্ছে টেকনোলোজির কারনে।
আমাদের দেশে Egoistic suicide বাড়ছে না, Ego-Fatalistic suicide বাড়ছে। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের সুইসাইড কেইস তা প্রমান করছে। “কিছু করে দেখাতে হবে না হলে হারিয়ে যেতে হবে” এই ভয় অনেককেই সামাজিক/পারিবারিক ভাবে isolate করে দেয় এবং তার শেষ হয় অন্তিম যাত্রা দিয়ে।
একটা কথা মনে রাখা দরকার, আমাদের সমাজ একটা complex system, যেটা আমাদের সাথে adaptive-responsive structure মেনে যোগাযোগ করে থাকে, সুতরাং আমরা এই complex system কে কিভাবে নিজেদের/সন্তানদের অস্তিত্বে adapt করবো যাতে সেখান থেকে positive response আসে, সেটা আমাদের কেই ঠিক করে নিতে হবে নিউক্লীয় individual family unit হিসাবে। কথায় আছে, You can not bath in the same river twice, সমাজ টাও সেরকম, একবার একটা সিস্টেম চলে গেলে সেটাকে চেঞ্জ করা অনেক কঠিন কাজ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



