Yuval Noah Harari তার Sapiens: A Brief History of Humankind লেখক ইতিহাসের গল্পগাঁথুনি উদাহরণসহ কানেক্ট করেছেন। এক বই দিয়ে মানুষের আদিমতম ইতিহাস, মধ্যযূগীয় প্রসার আর অনাগত সময়ের কথোপকথন সাজানো হয়েছে। আগে বলে নেই কিছু সমালোচনা, আরো আছে কিন্তু আমার কাছে এগুলা বেশি চোখে লেগেছে;
১. লেখকের আদিমতম সমাজের বর্ননা অনেক সাবলীল এবং সুন্দর ভাবে ঘটনাপ্রবাহে গাথা, কিন্তু তিনি মধ্যযূগীয় সময়ে একচোখা বর্ননা করে গেছেন। তার লেখায় মধ্যযুগীয় সময় মানেই দারিদ্র, প্লেগ,ধর্মান্ধতা ইত্যাদি।
২. তার পুরা লেখাতে western centric ধারা বজায় রেখেছেন। যদিও আলোকপাত করেছেন অনেক সভ্যতাকে কিন্তু বইটা পড়ে আমার মনে হয়েছে Modernaization theory এর Historical version পড়ছি।
৩.প্রাচ্য ও অন্যান্য সভ্যতাকে সেইভাবে আলোকপাত করেন নাই। Indirectly লেখক Oriental এবং South American সভ্যতাকে Master of the World হবার অযোগ্য বলেছেন কারন পশ্চিমা সভ্যতা অনেক বেশি curious ছিল,যেটা আমাদের বা মায়া/আজটেক/ইনকাদের ছিলনা এবং অন্যান্য সভ্যতাদের মাঝে scientific hunger কম ছিল কিন্তু পশ্চিমাদের সেটাই লক্ষ্য ছিল।
৪. আধুনিক মার্কিন আগ্রাসনকে সুন্দর ভাবে পাশ কাটিয়ে গেছেন। কিন্তু ব্রিটিশ, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ colonialism কে বার বার তুলোধুনা করেছেন।
৫. মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতির পিছনে পশ্চিমা বিশ্বের অবদান এড়িয়ে গেছেন।
৬. ধর্মের উৎপত্তি তত্ত্বে কিছু ভারসাম্যহীনতা দেখা গেছে।এবং প্রতিটি ধর্মের কম/বেশি সমালোচনা করেছেন বিশেষত ক্রিস্টিয়ান চার্চ কে অনেক বেশি আলোকপাত করেছেন।
৭. তিনি বলেছেন আমরা unprecedented era of peace এ বসবাস করছি। হাইস্যকর!! খুবই হাইস্যকর!!
৮. তার কথাগুলা/ফ্যাক্টগুলা আগেও অনেকে উপস্থাপন করেছেন।
এবার আসি খুব আকর্ষনীয় অংশ গুলাতেঃ
১. ২০০,০০০ বছর আগে ৫/৬ প্রজাতির মানব সম্প্রদায় ছিল এই বিশ্বে, কিন্তু ৭০,০০০ বছর আগে Homo Sapience গ্রুপের মাঝে Cognitive revolution ঘটে এবং বাকী মানব সম্প্রদায় অস্তিত্বের সংকটে পড়ে।কারন Homo Sapience গ্রুপের ছিল বিশেষ একটা পারস্পরিক ভাব আদান প্রদানের ক্ষমতা (ভাষা ও গল্প)যার কারনে তারা অনেক সংগঠিত ছিল। এই গ্রুপের সদস্যরা perfect stranger দের সাথেও সুন্দর ব্যক্তি সম্পর্ক রাখতে পেরেছিল শুধুমাত্র কিছু কাল্পনিক গ্লপ/মিথ/কাহিনী র উপর বিশ্বাস করে।
২. Genetically আমরা ঠান্ডা মাথার খুনি এবং সেটার প্রমান আমরা রেখেছি, সভ্যতার আগেই আমরা ৩/৪ মানব প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করেছি। ৪৫০০০ বছর আগেই অস্ট্রেলিয়ার ইকোসিস্টেমকে পুরা নষ্ট করে দিয়েছিলাম।
৩. Agriculture revolution মানুষকে যাযাবর জীবন থেকে মুক্তি দেয় এবং আধুনিক সভ্যতার প্রসারে ভুমিকা রাখে যদিও এই ব্যবস্থা আমাদের কে আরো miserable জীবনযাপনে বাধ্য করে দেয় এবং Hierarchy, Discrimination, class system এর প্রসার ঘটায়।
৪. আমাদের মস্তিষ্ক ২% body ratio দখলে আছে কিন্তু আমাদের ২৫% এনার্জি ক্ষয় করে থাকে। এবং যেহেতু আমাদের মনে রাখার ক্ষমতা কম তাই আমরা বর্ন/হরফের প্রসার দিয়েছিলাম, কারন অগণিত হিসাব রাখার জন্য এর থেকে সহজ অন্য কোন উপায় ছিল না। এবং Cognitive revolution কে আমরা প্রতিনিয়ত আপগ্রেড করছি।
৫. Justice, Equality, Equity, Rights, Democracy এগুলা সবই আমাদের অলীক চিন্তার ফল এবং সমাজের একদল গোষ্ঠীর হাতিয়ার যার মাধ্যমে এরা ক্ষমতা নিয়ে বসে আছে। “There are no gods in the universe, no nations, no money, no human rights, no laws, and no justice. All of these concepts exist solely in the imagination of human beings”
৬. মানুষ কিভাবে সমাজবদ্ধ জীব হল, এর পিছনে কারন কি ছিল? প্রথমে ছিল জীবন বাচাতে, জীবিকা নিশ্চিত করতে এবং এখন আধুনিক যুগে আমরা সমাজবদ্ধ জীব তিনটি জিনিষের কারনে ১. টাকা ২। জাতীয়তা ৩।ধর্ম।
৭. আধুনিক সমাজের Globalized version এর উত্থান এসেছে প্রাচীনকালের Imperial rulings থেকে (রোমান/গ্রিক/বাইজেন্টিয়াল/পারসীয়ান) এবং তখন যুদ্ধ,রক্তপাত দিয়ে social and cultural assimilation হত। এখন abstract cultural/religious/ideology কে ব্যবহার করা হয়।
৮. ধর্ম হল great unifier of mankind এটার মাধ্যমে superhuman legitimacy দেয়া হয়েছিল ততকালীন fragile social orders and hierarchical system কে।ধর্মের প্রসার ছিল animism > polytheism > monotheism. তবে ...... সবথেকে মজার ব্যাখ্যা ছিল কিভাবে polytheism থেকে monotheism এর আবির্ভাব। তার ভাষ্যমতে polytheism এর অনুসারীদের মধ্যে কোণ দেবতা এবং কার দেবতা সবথেকে প্রাচীন এবং শক্তিশালী সেই বিতর্কের মাধ্যমে আধুনিক monotheism এর আবির্ভাব।তবে তার Dualism এবং independent Evil এর ব্যাখাটা ভাল লেগেছে। প্রশ্ন আসে, Almighty Singularity কেন independent Evil কে প্রশয় দিয়েছেন?
৯. Scientific revolution ঘটেছে “willingness to admit ignorance” এর কারনে। এবং যেহেতু ইউরোপ প্রথমে “ I do not know what is out there” ভেবে সাগর পাড়ি দিয়েছিল তাই তারা বিশ্ব জয় করেছিল। আর অন্য সভ্যতা তাদের পারিপার্শ্বিক্তা নিয়ে ব্যস্ত ছিল অন্য দিকে মনোযোগ ছিল না। উধাহরন হিসাবে তিনি বলেছেন ১. চীন বারুদ আবিষ্কারের প্রায় ৬০০ বছর এটাকে শুধুমাত্র আতশবাজী হিসাবে ব্যবহার করেছিল, অথচ ইউরোপ এটা হাতে পেয়েই অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছিল। ২. ১৪০৫-১৪৩০ সালে চীনের জেং হে East Africa তে এসেছিলেন মানে সমুদ্র বিজয় করেছিলেন কিন্তু তারপর তখনকার সম্রাট তাকে ফেরত আসতে বলেছিলেন (!!) আর ১৪৯২ এ কলম্বাস ইন্ডিয়া খুজতে যেয়ে আমেরিকা পেয়ে গেলেন।
১০. কেন বৃটিশ সাম্রাজ্য এত বিস্তার করেছিল? কারন তারা সামরিক বাহিনির সাথে বিজ্ঞানীদের কেও পাঠাতো লোকাল জ্ঞান আহরনের জন্য। যেমন মহেঞ্জাদারো সভ্যতা খুজে পেয়েছিল,অথচ মুঘল,পাল,হিন্দু রাজা কেউ এটাকে পাত্তায় দেয় নাই।
১১. ক্যাপিটালিজমের বিস্তারে এই colonialism অনেক বড় ভুমিকা রেখেছিল। আধুনিক ব্যাংক ক্রেডিট সিস্টেমের জনক ও এই colonialism।
১২. Industrial revolution এসেছিল এই আধিপ্ত্য ধরে রাখতে। ষ্টীমইঞ্জিনের ব্যবহার এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ করেছিল যেটা প্রাচ্য করতে পারে নাই!
১৩. আধুনিক বিজ্ঞান শান্তি এবং সাছন্দ্য এনেছে কিন্তু পাশাপাশি আমাদের Existence কেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে । বিজ্ঞান আমাদের পরবর্তী Evolution এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে genetic engineering, cyborg engineering, and engineering non-organic life এর মাধ্যমে। আমরা কি Superman/God হিসাবে নিজেদের দেখার লোভে Frankenstein's monster এ রূপান্তরিত হতে যাচ্ছি!!!
এই ছিল আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের মাধ্যমে Sapiens: A Brief History of Humankind এর কিছু ব্যাখ্যা।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



