#রিটার্ন_অব_তেইশ
১.
- এনি ডেভেলপমেন্ট সেরগেই?
- নাথিং ইয়েট! বাট উইল বি সুন!
- মেক ইট ফাস্ট, ব্রেক হার ইন পিসেস ইফ ইউ হ্যাভ টূ, বাট আই নিড জানাইএস্কি এন্ড দ্যাট ফাইল।
১২০ ঘন্টা পার হয়ে গেছে, তনিমার কাছে ১২০ বছর লাগছে। পেট থেকে কথা বার করার জন্য প্রথমে মিষ্টি ভাবে আপ্যায়ন শুরু করলেও, গত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো মার খাচ্ছে। ঠোট কেটে ফুলে গেছে, বাম চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে রক্ত জমাট বেধে। লাথি ঘুষির সংখ্যাও ভুলে গেছে, তিন জন রুটিন ধরে মারছে তনিমাকে।
- কাম অন লেডি, টেল আস! ইউ সি দিস সিরিঞ্জ? ইটস কোকেইন, লিকুইড পিওর কোকেইন, এন্ড ইউ নো ভেরি ওয়েল হাউ পেইনফুল ইট ইজ। টেল আস!!
তনিমা শেষ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে চাইলো, কিন্তু মার খাবার কারনে দুর্বল হয়ে আছে। ৫ সিসি লিকুইড পিওর কোকেইন ইঞ্জেক্ট করে দিল ডান হাতের শিরা দিয়ে, ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে ঊটলো তনিমা। “জাস্ট কিল মি, প্লিজ!!! কিল মি!!”। বলতে বলতে লম্বু রাশান টাকে তার দিকে এগিয়ে আসতে দেখলো, হাতে একটা পেরেক তোলার নিপ্লার্স। অজ্ঞান হবার আগের মুহুর্তে তনিমার মনে হচ্ছিল, সে যেন মার্টিন কে দেখতে পেল, তার দিকে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে।
- ওইতো মার্টিন চলে এসেছে আমার এই দুঃস্বপ্ন থেকে এখনই ডেকে উঠাবে,” মার্টিন আমাকে জাগিয়ে দাও, মার্টি …… বেইবী প্লিজ আমাকে ঘুম থেকে উঠাও”, বলতে বলতে জ্ঞান হারালো তনিমা।
তনিমার ফিয়ান্সে মার্টিন ম্যাক্সওয়েল, আইরিশ জিনেসিস্ট, যুগান্তকারী কিছু কাজ আছে হিউম্যান জিনোম আর ক্লোনিং নিয়ে। ২ বছর আগে একদল বায়ো টেরোরিস্ট দের ল্যাব থেকে তনিমা, মার্টিন কে উদ্ধার করে। সেই থেকে শুরু এক পাক্ষিক ভালো লাগা, এই পাগলা আইরিশ ৬ মাস বাংলাদেশে বসে কঠোর সাধনার শুরু করে, অবশেষে ফলাফল তনিমা তার সাথে ডিনার ডেইটে যেতে রাজি হয়েছিল। বিস এর কমিউনিকেশন অফিসার শাহেদের সাথে কথা বলার আগেই সে কিছু একটা আচ করতে পেরেছিল। তনিমা হোটেলে ফিরে কল দেয় নাই, মার্টিন ভেবেছিল ক্লান্ত তনিমা ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু পরদিন সারা বেলা কোন আপডেট না পেয়ে অস্থির হয়ে হোটেলে ফোন দেয় এবং জেনে যায় ১৩৫ডি এর গেস্ট রাতে ফেরেনি। সাথে সাথে ইন্ট্রারপোল, পুলিস সবখানে এ ফোন দেয়া শুরু করে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে কর্মরত বন্ধুকেও ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। তেমন কোন ইনফরমেশন ছিলো না মার্টিনের কাছে, শধু জানে তনিমা একটা এসাইনমেন্ট এ জেনেভা গিয়েছিল, কিন্তু কোন বিস্তারিত তার কাছে ছিলনা।
২.
তনিমার ফ্ল্যাটে রাজীব তন্ন তন্ন করে খুজেও কোন কিছুর হদীস পেল না।, পুরা বাড়ি তোলপাড় করে দিল, কিন্তু ফলাফল শুন্য। স্টাডি রুমের চেয়ারে বসে ভাবতে লাগলো, কি খুজছে সে? কোন ডাইরি? কম্পিউটার ফাইল? পেন ড্রাইভ? চার দিকে তাকাতে তাকাতে দক্ষিনের দেয়ালে টাংগানো বিশ্বের ম্যাপ টা দেখছিল। এটা “তেইশ” এর ম্যাপ, যত গূলো কনফার্ম “তেইশ” এর কেস আছে সব গুলার লোকেশন মার্ক করা। ম্যাপ দেখতে দেখতে রাজীবের মনে হলো মার্কিং আরো কয়েকটা বেড়েছে! বিশেষ করে সুইডেনের গথেনবার্গ, সিসিলির আগিরা, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস, আর ভানুয়াটূ দ্বীপের উপর বাড়তি মার্কিং যেটা সে আগে দেখে নি। “নতুন কেইসের জন্য?” ভাবলো রাজীব, আগিরা এর সাথে “তেইশ” এর কাহিনি সে জানে, কিন্তু “সুইডেন এর সাথে বাকি গুলার কি লিংক? সুইডেন!! কি যেন একটা ব্যাপার আছে সুইডেন। ইয়েস!! জিব্রিল… সুইডিশ সিকিউরিটি কনসাল্টেন্ট”!! ওকে একটা ফোন দেয়া যায়। হতভাগার জান বাচিয়েছিলাম আমরা, বাচাল টা কি মনে রেখেছে"?
- হ্যালো! আয়রন টেম্পলার সিকিউরিটি? দিস ইজ রাজীব ফ্রম বাংলাদেশ ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। মে আই টক উইথ জিব্রিল জুনায়েদ!
- রিয়েলি!!! হি ইজ সুইডিশ বাংলাদেশি, আই মেট হিম ফোর ইয়ার্স এগো, হি ও্যাজ গোয়িং টু মিশর এন্ড ফেসড টেরর এটাক ইন দুবাই!! ওহ! আই সি, অকে থ্যাংকস।
পাখি খাচা ছেড়ে চলে গেছে চার বছর আগেই। কম্পিউটার এর বিভিন্ন ড্রাইভ ঘেটেও লাভ হলো না। আচ্ছা কোন লুকানো চেম্বার আছে নাকি!!সুপার স্পাই দের তো থাকে। এবার প্রতিটা দেয়াল পরীক্ষার পালা এবং হ্যা ম্যাপের পিছনে একটা ছোট ভল্ট কিন্তু কম্বিনেশন জানা নাই তো। ভাংগা লাগবে, জাভেদ কে কল দিয়ে লক ভাংগার প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বললো।
কম্পিউটার এ একটা ফোল্ডার "15398T" হাইলি এনক্রিপ্টেড এবং লেভেল ৮ এর ক্লিয়ারেন্স লাগবে। হ্যাক করার ট্রাই করতে পারে কিন্তু ইন্টারপোল এর ফাইল হ্যাক করবে সেই সাহস করতে পারছে না। মাসুদ স্যারের লেভেল থেকে একটা ট্রাই নেয়া যায়, ভাবলো রাজীব। দরজায় আওয়াজ হচ্ছে, জাভেদ এসেছে মেইবি!
৩.
ইন্টারপোল এর হেড অফিসে মিটিং চলছে। প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেছে একজন হাই র্যাংকিং অফিসার নিখোঁজ, সে বেচে আছে না কি মারা গেছে তাও জানা নাই। কোন ডিমান্ড ও আসে নাই তাকে নিয়ে। কোন ক্লু নেই। কিজন্য তাকে ধরে নিয়ে গেছে তাও ক্লিয়ার না কেউ ই।
- "তনিমা পাচ টা কেইস দেখছিল! আমার সাথে ৩ টা আর জনের সাথে ২ টা। আমার সাথে ২ টা সেন্সেটিভ ম্যাটার এ আছে ও, একটা লাটভিয়ার ডার্টি বম্ব কেইস আর একটা হিউম্যান ক্লোনিং ম্যালপ্রাক্টিস এর জন্য হিউম্যান ট্রাফিকিং। জনের গুলা ফাইন্যান্সিয়াল আর গ্যাম্বলিং নিয়ে" এক নিশ্বাসে মারিয়া ডি' গারসিয়া বলে ফেললো।
বিগত ৭ বছর ধরে তনিমার হ্যান্ডলার হিসাবে কাজ করছেন, ৫০ বছরের এই মহিলা। তনিমা কে নিজের সন্তানের মতই আগলে রেখেছেন। ভিতরের কান্না টা অনেক কষ্টে চেপে রেখেছে মারিয়া, কারন যতই দিন যাচ্ছে তনিমাকে জীবন্ত পাবার আশা ক্ষীন হচ্ছে।
- লাস্ট আপডেট কি?
- আমরা এলার্টের ২৪ ঘন্টার মাঝেই ১০০ মাইল রেডিয়াসে চেকিং করেছি, কিন্তু কিছু পাই নি কোন ইনফরমেশন । প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান এবং মালবাহী গুলাতেও খোজ নিয়েছি, তেমন কিছু ই নাই।
- সি ক্যান বি এনি হোয়ার ইন দ্য গ্লোব! ডিড উই জাস্ট লুজ আওয়ার ওয়ান অব দ্য বেস্ট এজেন্ট? তনিমার কারেন্ট ইনভেস্টিগেশন এর টারগেট গুলা কে নজরে আনো, ট্র্যাক দেম, হান্ট দেম। আই ওয়ান্ট মাই এজেন্ট ব্যাক।
জনাথন আর মারিয়া মিটিং রূমে বসে আলোচনা করছিল। মার্টিন এর ফোনে কথায় ব্যাঘাত পড়ে। ছেলেটা অস্থির হয়ে গেছে, প্রতিদিন ৩/৪ বার কল দিচ্ছে আপডেট জানতে। কিন্তু ভালো কোন খবর নাই, তাই ফোন টা ধরতে ইচ্ছা ও করছে না। 'কল ইউ সুন' টেক্সট পাঠিয়ে আবার আলোচনা শুরু করলো।
৪.
- রাজীব!! রাজীব!!! এজেন্ট ডাউন, আই রিপিট এজেন্ট ডাউন। এক্ষুনি মেডিক্যাল সাপোর্ট লাগবে, এয়ার সাপোর্ট। মাল্টিপল গান শট, মাথার পিছনে ভারী কিছু দিয়ে মারা হয়েছে, আমি রক্ত পড়া থামানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু ব্রেইন হ্যামারেজ হয়েছে মেইবি।
১৫ মিনিটের মাঝে তনিমার ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে লোকে লোকারন্য। আবাহনী মাঠে ইমারজেন্সি হেলিকপ্টার ল্যান্ড করে মৃত প্রায় রাজীব কে নিয়ে চলে গেল। বিস এর ব্রাভো টিমের ফরেন্সিক এনালিস্ট রাজীব মাহমুদ কে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে এক বা একাধিক দুষ্কৃতকারী, যারা তনিমার ফ্ল্যাট এ কোন গুপ্তধন খুজতে এসেছিল।
ব্রিগেডিয়ার মাসুদ নিজেই এসে হাজির, রাজীব তাকে কল দিয়েছিল কিন্তু মিটিং এ ছিলেন তাই ধরতে পারেন নাই। ফোনটা রিসিভ করলে কিছু একটা ইনফরমেশন পেতেন বা রাজীব ও মেইবি এই অবস্থায় আসতো না। ক্রাইম সিন দেখে বোঝা যাচ্ছে, রাজীব বেশ রিজিস্ট করেছে। গুলি খেয়েও যখন থামে নি তখন মাথায় বাড়ি দিয়েছে। স্টাডিরুমের অবস্থা আরো নাজুক, ওরা কিছু খুজতেছিল। সিপিইউ টা নিয়ে গেছে, দেয়ালের ম্যাপ টা টুকরা করেছে। পিছনে একটা সেইফ ছিল সেটা ভাংগার অনেক ট্রাই করেছে কিন্তু পারে নাই, সময় পায় নাই। জাভেদ এবং রনি চলে এসেছিল এর মাঝেই, আর ওদের লোক দাড়ানো ছিল ফলে ম্যাসেজ চলে এসেছিল।
মাসূদ সাহেব কড়া মানূষ, কিন্তু রাজীবের মতো উদীয়মান এজেন্ট কে এইভাবে দেখে বেশ মূষড়ে গেছেন। ভাবছেন ছেলেটার বাসায় কিভাবে নিউজ টা দিবেন, বাচ্চার বয়স মাত্র ৩ বছর। "আমাদের লাইফ এভাবেই কেটে যাবে, জীবন মরনের সাথে পাঞ্জা খেলে", ভেবে একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
- স্যার, 15398T কি? এইখানেই রাজীবের বডি পাওয়া গেছে! রক্ত দিয়ে লেখা, রাজীব লিখেছে?
কিছুক্ষন থমকে গেলেন। কোথায় শুনেছেন যেন নাম টা? তনিমার কেইস এর রেফেরেন্স ছিল নাকি এই নাম্বার? "এইচ কিউ কে নাম্বার টা সার্চ করতে বলো, মারিয়া কে জানাও। আমি নিশ্চিত কম্পিউটার এ ছিল এই ফাইল", অর্ডার দিয়ে বার হয়ে গেলেন ব্রিগেডিয়ার মাসুদ।
~ (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



