#রিটার্ন_অব_তেইশ
১.
- হু ইজ ইট?
- মিস্টার ম্যাক্সওয়েল, উই আরে ফ্রম বাংলাদেশ ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। উই বিলিভ ইউ আর ইন ডেঞ্জার। প্লিজ ওপেন দ্য ডোর এন্ড ইউ নিড টূ কাম উইথ আস টু আ সেইফ হাউজ।
মার্টিনকে দুইজন বিস এর এজেন্ট একটা সেইফ হাউজে ট্রান্সফার করতে এসেছে। যেহেতু তনিমার বাসা পর্যন্ত এসেছে ওরা, তাই সে নেক্সট টার্গেট হতে পারে এই ধারনা করা হচ্ছে।
- তোমরা বাংলাদেশ থেকে এডিনবার্গ এ এসেছো আমাকে প্রটেকশন দিতে?
- হ্যা! ডিডি র বাসা তছনছ হয়েছে, অনেক ডকুমেন্টস মিসিং, কম্পিউটার নিয়ে গেছে। আমরা ধারনা করছি তোমাকেও ওরা টার্গেট করছে।
- ওরা কারা? জানতে পেরেছ?
- নাহ!! আমরা এখনো জানি না! তুমি কি কিছূ জানো? ডিডি তোমাকে কিছু বলেছে? তুমি কি 15398T এর ব্যাপারে কিছু জানো?
- আমি এক জন প্রানী বিজ্ঞানী, স্পাই না! আর তনিমা আমার সাথে এগুলা নিয়ে আলোচনা করতো না! আমি এটুকু জানি সে জেনেভাতে একটা এসাইনমেন্ট নিয়ে।
- তুমি কিসের বিজ্ঞানী?
- আমি হিউম্যান জিন নিয়ে কাজ করি, ক্লোনিং, ইমিউন সিস্টেম ইম্প্রুভমেন্ট এগুলা। মানে ধরো, জিন হলো আমাদের শরীর বা জীবনের কোডিং আমি সেই কোডিং কে বিভিন্ন ভাবে চেঞ্জ করে বেটার হিউম্যান লাইফ বানাতে।
- তুমি কি ক্যাপ্টেন আমেরিকা বানায়তে পারো নাকি !! হা হা হা হা হা
- এখনো পারি নাই, তবে ইচ্ছা আছে। চেষ্টা করতেছি। আমার গুরু এরউইন জানাইস্কি এই লাইনের বস। সে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল, বিশাল একটা ব্রেকথ্রু করে ফেলেছিল প্রায়। এরউইন বলছিল তাঁর বাবা নাকি প্রায় ক্যাপ্টেন আমেরিকা বানিয়ে ফেলেছিল। আচ্ছা আমরা এই দিক দিয়ে কোথায় যাচ্ছি, এই এলাকার রাস্তা কিন্তু ভা...লো...না ….এ...দিক...দিয়ে..
ভাংগা এবড়ো, থেবড়ো রাস্তা দিয়ে গাড়ি লাফাতে লাগলো, এ ওর গায়ে ধাক্কা খাচ্ছিলো। মার্টিনের মনে হলো, ঘাড়ের কাছে কিসের যেন খোচা লাগলো। ব্যাপারটা বুঝতে চাইলো, কিন্তু ঠিক ক্লিয়ার হলো না। তার মাথায় প্রশ্ন ঘুরছিল, বিস কেন এজেন্ট পাঠালো? সে এখানে আছে সেটা তো বিস এর জানার কথা না! আমি কি কোন ফাদে পা দিচ্ছি? কিন্তু ভাবনা টা বেশি ক্ষন করতে পারলো না মার্টিন, খুব ঘুম পাচ্ছে। "এয়ারপোর্টে আসলে ডেকে দিবেন", বলতে না বলতেই নেতিয়ে পড়লো। লাস্ট ৪ দিন ঘুমাতে পারে নাই।
২.
৫০ বছরের মারিয়া লাফিয়ে লাফিয়ে সিড়ি বেয়ে যাচ্ছে, আর্চার ডানোভেন এর অফিসে। লিফটের জন্য অপেক্ষা করে নাই। ডানোভেন এর সেক্রেটারির মানা না শুনে, ঝড়ের বেগে ঢুকে পড়লো। লাটভিয়ার ফিল্ড মার্শাল এর সাথে মিটিং চলছিল।
- আর্চার, 15398T খুজছে ওরা, তনিমার বাসা থেকে এনক্রিপ্টেড ফাইল টা পেয়েছে আর আর্চার ওরা জানাইস্কি কে খুজছে!!!
রুমের স্বস্তিদায়ক ২৩ ডিগ্রী তাপমাত্রা স্বত্তেও, চীফ অফ অপারেশনস আর্চার ডানোভেন এর মনে হলো এক বালতি বরফের পানি ঢেলে দিয়েছে তাঁর গায়ে।
লাটভিয়ান ফিল্ড মার্শালের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, মারিয়া কে সাথে নিয়ে ছূটে বের হয়ে গেল আর্চার। ইন্টারপোল এর মেইন মিটিং রুমে ভিডিও কনফারেন্স চলছে, এফবিআই, সিআইএ, স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড, কেজিবি সহ নামকরা এজেন্সির সিনিয়ররা এখানে ভিডিও কলে আছে। পুরা ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে চলেছেন আর্চার এবং কি কি কন্টিনজেন্সি প্লান আছে সেটাও আলোচনা করছেন। প্রায় ২ ঘন্টা মিটিং শেষে ক্লান্তি নিয়ে বার হয়ে এলো আর্চার আর মারিয়া।
৩.
আগস্ট, ১৯৪৫
- হের ইয়োভান! আপনার কাজের অগ্রগতি নিয়ে ফিউরর খুবি বিরক্ত। আমরা অপেক্ষার আর কতো পরিক্ষা দিবো? শত্রূ এসে দাড়িয়ে আছে, আর আমরা আরিয়ান জাত পালাতেই ব্যস্ত?
- জেনারাল! আমি প্রায় সফল, আমার পরীক্ষার শেষ টেস্ট আপনাদের দেখাবো। আপনারা বিচার করবেন। এই টেস্ট সফল হলে আমাদের সামনে সবাই হাটূ গেড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবে। চলুন ফিল্ডে চলুন, সবাই অপেক্ষায়।
পোল্যান্ডের বনভুমির মাঝে একটা সমতল খোলা প্রান্তর। ১২০ জনের একটা পদাতিক বাহিনী অপেক্ষায় আছে ভারী ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে। প্রায় ৫০০ গজ দুরে ১ টা কন্টেইনার, ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে গোংগানীর, কেউ যেন আহত হয়ে কাতরাচ্ছে। ইয়োভানের সিগন্যাল পেয়ে গেইট খুলে দেয়া হলো। ৩ টা মানূষ বের হয়ে আসলো, ১ নারী, ১ পুরুষ এবং ১ কিশোরী। পায়ের কাছের মাটিতে গুলি করে অভ্যর্থনা জানানো হলো, ভয় পেয়ে গেল মাণূষ গুলো। একজনের গায়ে গুলি করা হলো, সে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো নিজের গুলিবিদ্ধ শরীরের দিকে। এর পর তিন জন কেই ৩ বার গুলি করা হলো। তাদের মাঝে কোন চেঞ্জ দেখা গেল না। মনে হলো মশা কামড় দিয়েছে। ৩ জন সেনা তাদের দিকে ছুটে গেল চাবুক হাতে।
মাঝের মেয়ে টি বাকি দুইজনের তাকালো, সাথে সাথেই তিনজন মিলে ঝাপিয়ে পড়লো তিনজন অপ্রস্তুত সেনার উপর। মেয়েটি একজন কে আচড়, কামড় দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিল এবং কিছু ক্ষনের মাঝেই সেই সৈন্যর শরীর নীলাভ হয়ে গেল এবং মুখ দিয়ে ফেনা বার হয়ে খিচুনী দিতে থাকলো। লোকটি আর একজন কে জাস্ট দুই ভাগ করে ফেললো, কাগজের মত। কিশোরী টি অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটে যেয়ে তৃতীয় জন এর কোমড় থেকে ছুরি নিয়ে মাথা টা আলাদা করে দিল। পুরা ব্যাপার টা ৪৫ সেকেন্ডে শেষ হলো। তিনজন কে শেষ করে তাদের চোখে পড়লো বাকীদের উপর হিংস্রতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো বাকি ১১৭ জনের উপর। গ্রেনেড, গুলি কিছুই থামাতে পারল না। রক্তাক্ত, ছিন্ন ভিন্ন শরীর গুলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। পুরো ব্যাপার টা লেগেছে ৫ মিনিট। তিন মুর্তি দাড়িয়ে আছে, স্থির ভাবে। তিনজন ই আহত, এবং যে মাত্রায় তাতে স্বাভাবিক মানূষের মরে যাবার কথা।
- প্রিয় জেনারেলস!!! আপনাদের কে উপহার দিচ্ছি পরাক্রমশালী “ইগ্রেজিয়াস ট্রিও”, মেডূসা যার মাঝে আমি দিয়েছি হাজার বিষধর সাপের বিষ, হারকিউলাস, নামেই যার পরিচয় আর হিকাটে,যার গতি এবং হিংস্রতা ব্ল্যাক প্যান্থার কেও হার মানাবে । আমার বানানো প্রায় অমর প্রানী। স্বাভাবিক জিনেটিক্যাল কাঠামো বদলে এদেরকে বানানো হয়েছে এবং এরা সহজে মরবে না, ক্লান্ত হবে না, পিছু হটবে না, আর আহত হলে চিকিৎসা ও লাগবে না, স্বাভাবিক মানুষের থেকে অনেক শক্তিশালী । পছন্দ হয়েছে, আপনাদের?
- কিন্তু এদের কে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে, এদের হিংস্রতা তো ভয়ংকর!!!
- সেই ব্যবস্থাও আছে আমার…
- আচ্ছা ওরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কেন? এইদিকে ছুটে আসবে নাকি… আরে ওরা তো এদিকেই আসছে…হের ইয়োভান! থামান ওদের!! সোলজারস ফায়ার!! কিল দেম………“ইগ্রেজিয়াস ট্রিও" মুহুর্তেই ছত্রাখান করে দিল পুরা দুই কোম্পানী সৈনিক বাহিনী.
৪.
হেল্লো সান শাইন!!! তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে!! তোমার একটু হাটা হাটি করা দরকার...হা হা হা হা !
কোন ভাবে নিজেকে তুলে বসলো তনিমা! গত ৩ দিন ধরে এতো মার খেয়েছে যে নিজের চেহারা তে হাত বুলিয়েও আতকে উঠছে, সারা শরীরে ব্যাথা, মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ড্রাগস পুশ করেছে। “ আমাকে মেরে ফেল, আমি তোমাদের কোন কাজে আসবো না,”, খুবই শান্ত ভাবে বললো তনিমা। এই প্রথম তাকে রুমের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, দুই দিক থেকে দুইজন তাকে ধরে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বেশ পুরানো আমলের পাথুরে বাড়ি , বেশ কিছু রুমকে মডিফাই করে জেল খানার সেল বানিয়ে রেখেছে। তনিমা কে একটা রুমে এনে বসানো হলো।
বেশ সুদর্শন একজন তাঁর সামনের চেয়ারে এসে বসলো! বেশ দামী স্যুট এবং পারফিউম ব্যবহার করছে।
- মিস তনিমা! আমি ডঃ ইগোর মিউরো, আমাকে তুমি মিউরো বলে ডাকতে পারো। তোমার উচিত জানাইএস্কি কোথায় আছে সেটা আমাদের জানানো। আমি একজন বিজ্ঞানী , আমার আর একজন সহকর্মির সাথে দেখা করতে চাচ্ছি, কিন্তু তুমি সেটা হতে দিছোনা।
- তোমার মত সহকর্মিদের হাত থেকে বাচতেই সে হারিয়ে গেছে! আমি ওকে তোমাদের হাতে তুলে দিবনা! আমি জানি কেন তোমরা তাকে খুজে পেতে চাচ্ছো !! ওর গবেষনা তোমরা কাজে লাগাতে চাচ্ছো।
- তুমি কি ওকে কি বেশী দামী মনে করো? তোমার জীবনের থেকেও ? নিজের ক্যারিয়ার? তোমার সহকর্মী দের থেকে? আমরা তোমার কম্পিঊটার নিয়ে এসেছি। সেখানে ওর ফাইল টাও পেয়েছি, এনক্রিপ্টেড কিন্তু ব্যাপার না। সেরা হ্যাকারদের কাজে লাগচ্ছি সেটা খোলার জন্য। কিন্তু শুধু ফাইল পেলেই হবে না, মূল ব্রেইন টাকেও দরকার। কোয়াপরেট উইথ আস তনিমা!! এন্ড ইউ ক্যান বি আ গ্রেট এসেট ফর "দ্য সিনিস্টার সিন্ডিকেট"।
অবাক হচ্ছো নাকি? হা হা হা!!! তুমি কি ভেবেছো, ২ বছর আগে জায়ারের ল্যাব এবং এক্সপেরিমেন্ট থামিয়ে দিয়েছিলে? আরে সেটা ছিল একটু মাইনর সেট ব্যাক…. হা হা হা। আমরা আরো পরিনত এখন এবং প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। আর গতবারের ভুল গূলা আমরা করবোনা। এখন বলো, জানাইএস্কি কোথায়? কিভাবে এনক্রিপ্টেড ফাইল ওপেন করবো? আর ওখানে সিকিউরিটি বিকন আছে কি? মানে আন-অথারাইজড কেউ ওপেনের চেষ্টা করলে কি সেল্ফ ডিলিট হবে কিনা!!
বাম চোখটা পুরাই ফুলে বন্ধ হয়ে আছে, ডান দিকের টা এখনো কাজ চালাচ্ছে। যে পরিমান ঘূষি আর থাপ্পর খেয়েছে তাতে হাসি দেয়া টাও কষ্টের কিন্তু তাও তনিমা শান্ত ভাবে একচিলতে হাসি নিয়ে একচোখে তাকিয়ে থাকলো কোন কথা না বলে। দুইপক্ষের নিরবতা ভাংলো মিউরো,
" তুমি অনেক সাহসী আর জেদি"। তুমি সারপ্রাইজ পছন্দ করো? আমাদের সাথে আরো কিছু স্পেশাল গেস্ট আছে, চলো তাদের কে আর অপেক্ষায় না রাখি।
৫.
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা অনেক আগেই থামিয়ে দিয়েছিল তনিমা, কত দিন গিয়েছে তার পরিবারের সদস্য দের খুনের বিচার চেয়ে কান্না কাটি করতো প্রার্থনায় বসে। কিন্তু একদিন সে থামিয়ে দিল, বুঝলো কান্না কাটি তে ঈশ্বরের মন গলবে না, খুনি রা ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ তাদের খুজেও পাচ্ছে না। ঈশ্বরও চাচ্ছেন না তারা বিচারের মুখে আসুক।
কিন্তু আজকে, অবচেতন ভাবে সে প্রার্থনা করছিল, "মার্টিন কে যেন ওরা না খুজে পায়"। কিন্তু বিধিবাম, মার্টিন এবং মারিয়া দুইজন কেই হাত পা বাধা অবস্থায় দেখতে পেল পাশের রুমে। তারাও ব্যাপক মার খেয়েছে। মারিয়ার দিকে তাকানো যাচ্ছে না, এত বয়স্ক মহিলা কেও জানোয়ার গুলা টর্চার করেছে। আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না, " প্লিজ লেট দেম গো, আই উইল গিভ ইউ দ্য পাসকোড", প্লিজ! বলে মাটিতে বসে পড়লো তনিমা।
- লাইফ ইজ নট ফেয়ার, মাই লাভ! হা হা হা। ইটস গিভ এন্ড টেক। আমাকে তুমি কিছু দিবে, বিনিময়ে তোমাকে আমি কিছু দিব। তোমার কাছে আমার দুই টি প্রিয় জিনিষ আছে, আর আমার কাছে তোমার দুই টি প্রিয় জিনিষ আছে। লেটস বি সিভিলাইজড এন্ড এক্সচেঞ্জ… হা হা হা হা ! একটা দিলে একজন, দুইটা দিলে দুইজন কে বাচাতে পারবে, সাথে তুমি বোনাস পাবে নিজের জীবন! ইটস আ উইন, উইন সিচুয়েশন, লাভ!!
দুইজন ই তার প্রিয়, আর এরা যে কথা রাখবে তার তো কোন নিশ্চয়তা নাই! ফাইলের পাস কোড আর জানাইএস্কির লোকেশন দিলে তিনটা লাশ যে ফেরত যাবে না তার কোন গ্যারেন্টি নাই। কিন্তু হার মানা তো যাবে না! কোন ভাবে কি বাচার উপায় আছে এদের কাছ থেকে? সময় নিবে? কিন্তু পালানোর পথ তো খুজে দেখছে না। বাবা-মা-ভাবী-ভাগ্নের লাশ দেখে যেভাবে মেলায় হারিয়ে যাওয়া বাচ্চার মত কেদেছিল! আজকেও ঠিক সেইভাবেই কেদে ফেললো, কাকে বাচাবে?
~ (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



