somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বড় মানুষ ও তার মায়ের গল্পঃ বড় মানুষ হওয়ার পেছনে পারিবারিক প্রভাব

২৩ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আবুল হাসান আলী নদভী এই উপমহাদেশের এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার জ্ঞান-গরিমা গ্রহণযোগ্যতা আরব আজম সর্বত্র সর্বজনবিদিত, যার পাণ্ডিত্যের সৌরভ গ্রন্থাগার, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সুবাসিত করে, জ্ঞানী ব্যক্তিরাও তাকে নিয়ে দু'কলম লিখতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করেন।

একজন আলী নদভী গড়ে ওঠার পেছনে অনেক কিছুর প্রভাব বিদ্যমান। এমনি এমনি একজন সাধারণ মানুষ অসাধারণ হয়ে যান না। জ্ঞানার্জনের একেকটি স্তর পেরোতে পেরোতে এমন এক উচ্চতায় চলে যান যেখানে সেই সময়ে অথবা সেই ভূখণ্ডে এমন কোনো জীবিত মানুষ পাওয়া যায় না যারা সেই উচ্চতায় পৌঁছতে পারেন।

আলী নদভীদের মতন মানুষ তৈরির পেছনে 'পরিবেশ' একটা বড় ফ্যাক্ট। সে কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে এটার পেছনে সে ভবিষ্যতে কি করতে পারে তা অনুমান করা যায় যদিও সবসময় তা ধ্রুব সত্য নয়।

আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভীর পিতা মাতা ছিলেন সে যুগের অনেক বড় মানুষ। আর বড় মানুষদের ঘরে বড় মানুষরাই জন্মাবে, এটাই স্বাভাবিক। আলী নদভী এমন পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন যেখানে ইল্ম বিদ্যা ঐতিহ্যগত ভাবে এসেছিল। আলী মিয়ার (তাকে আলী মিয়াও বলা হয়ে থাকে) পিতার কথা বললে অনেক হবে, এর চেয়ে বরং তার মায়ের কথা বলি।

আলী নদভীর মা সায়্যিদা খাইরুন নিসা যিনি কিনা জিয়াউন্নবী আল-হাসানীর কন্যা, তিনি হাফিযা এবং সুলেখিকা ছিলেন, তিনি পাঁচ খানা বা তার বেশি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। এটা আজকের কালকের কথা না, আজ থেকে প্রায় এক শত বছর বা এর চেয়ে একটু বেশি সময়ের আগের কথা।

আলী নদভী "আমার আম্মা" নামে একটি গ্রন্থও লিখেছিলেন। মায়ের দ্বারা কতটা প্রভাবিত হলে এরুপ গ্রন্থ লিখা যায় চিন্তা করুন।

আলী নদভীর দুই জন বোন ছিল, তাদের কথাও বলা যেতে পারে, বড় বোন আমাতুল আজিজ লিখেছিলেন কয়েক খানা জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ। আর তার চার ছেলে ছিল যারা প্রত্যেকেই স্বনামধন্য আলিম, সাহিত্যিক এবং গবেষক হয়ে উঠেছিলেন।

আরেকজন বোন আমাতুল্লাহ তাসনীম আয়েশাও একজন গুণী মানুষ ছিলেন। তার "সফরের পাথেয়" গ্রন্থটি হিন্দুস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। তার আরেকটি গ্রন্থের নাম "তাসনীম তরঙ্গ", এছাড়া তিনি কবিতা লিখতেন এবং মুসলিম নারীদের মুখপত্র "রিদওয়ান" পত্রিকার সম্পাদিকা ছিলেন।

এবার নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছেন আলী নদভী কেনো আলী নদভী হলেন। তিনি এমন এক পরিবারে জন্মেছিলেন যেখানে যে-ই জন্মেছে সে রত্ন হয়ে উঠেছিল।

প্রতিটি মহান মানুষ পরিশ্রম অধ্যবসায় আর জ্ঞান গরিমার মাধ্যমে নিজেদের স্থান অন্যদের থেকে উচুতে করে নিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু এর পেছনে একটি পরিবারের ভূমিকা অবশ্যই আছে। যারা ঐতিহ্যবাহী বিদ্বান পরিবারে জন্মেছে, ইল্মি পরিবেশে বেড়ে উঠেছে তারা অবশ্যই যারা এরুপ পরিবারে জন্মে নি তাদের থেকে আলাদা স্থান করে নিয়েছে। দ্রঃ লেখক কোনো ঐতিহ্যবাহী বিদ্বান পরিবারে জন্মান নি বা ইল্মি পরিবেশে বেড়ে উঠেন নি।

কিন্তু আব্দুল হাই হাসানী আর সায়্যিদা খাইরুন নিসাদের ঘরে সবসময় যে শায়খ নদভীরা জন্মান তা কিন্তু নয়, আবার আলী নদভীর ঘরেও তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতন কেউ আসতে অনেক সময় লাগে। ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) কথা না বললেই নয়, তার পিতামহ মাজদুদ্দিন আব্দুস সালাম ছিলেন অনেক বড় বিদ্বান ব্যক্তি, যে যুগের পাঁচ জনের নাম করলেও তার নাম আসতে বাধ্য। সেই ইমাম মাজদুদ্দিনকে তার নাতী ছাড়িয়ে যাবেন কে জানতো? দেখা গেলো ইমাম ইবনে তাইমিয়া এতো দূরে গেলেন যে সাত শত বছর পেরিয়ে গিয়েছে অথচ তার প্রভাব এতো টুকু কমেনি। আবার ইবনে তাইমিয়ার পরশে ইবনে কায়্যিম, ইবনে কাসির, আয যাহাবী, ইউসুফ মিযযির মতন ব্যক্তিরা গড়ে উঠেছিলেন যাদের তুলনা এই হাজার বছরে বিরল।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৩:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×