somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাম্ব পেডেস্ট্রিয়ান
আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক এবং চরমভাবে বদমেজাজি টাইপের একটা প্রাণী। নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

ফ্রন্ট দ্যা ক্যামেরা ও বিহাইন্ড দ্যা ক্যামেরা( একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের কিছু কথা)

০৯ ই মে, ২০১৬ রাত ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা শুরু করেছি ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ। এরও অনেক আগেই অগোছালো হয়ে গিয়েছিলাম(আসলে বাধ্য হয়েছিলাম) । তবে স্বপ্ন ছিল ক্যাম্পাস লাইফে নব উদ্যমে নিজেকে পুনর্গঠন করব ।
এই ৩ বছর ৩ মাসে হয়ত পেরেছি হয়ত পারিনি। রাখডাক না রেখেই লিখছিঃ

* ফ্রন্ট দ্যা ক্যামেরাঃ
আমি প্রতি সেমিস্টারেই Attendance problem Face করি। স্যার/ম্যামগণের সহানুভূতি কিংবা জরিমানা (এক্সটার্নাল স্যারদের কোর্সে দিয়েছি) সাপেক্ষে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হই। সাপ্তাহিক কিংবা যেকোনো ছুটির দিনে বাড়ির পানে ছুটে যাই এবং ফলস্বরূপ ক্লাস মিস করি। রেজাল্ট বা সিজিপিএ হয় খারাপ। সবাই ভাবে আমি একটু বেখেয়ালি(হয়তবা তাই)। এটা হচ্ছে ক্যামেরার সামনের ঘটনা।

* এবার আসি বিহাইন্ড দ্যা ক্যামেরায় :
আমার জন্মের ২ বছরের মধ্যেই বাবা মারা যাওয়ার পর যিনি পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি আমার মা। উনিই আমাদের সবাইকে(ভাই-বোনদের) শিক্ষার ভিত গড়ে দিয়ে এতদূর নিয়ে এসেছেন। বাবা মারা যাওয়ার সময়, দাদার সম্পত্তি থেকে মাকে কিছুই দেওয়া হয়নি। এখন অবশ্য দেওয়া হয়েছে। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে।২০১৩ সালে আমার বড়বোন(যাকে বাড়ির কাছেই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল) মারা যাওয়ার পর মা ভেঙ্গে পড়েছেন অনেকটাই। বাড়িতে একা থাকেন। শারীরিক ভাবে অসুস্থ। বাজার করে দেওয়ার মানুষটিও নেই উনার। তাই ছুটে যেতে হয় বাড়িতে যখন তখন। জানি, Attendance Problem হবে তবুও যেতে হয় বাড়ির পানে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মায়ের জন্য কিছুই করা হচ্ছেনা। নিজেকে বড় বেশি স্বার্থপর মনে হয়। কি করব আমি???

* চাওয়া ও অপ্রত্যাশিত দন্ধ(বানান টা সঠিক করতে পারিনি অভ্র তে)
মা আপাতত বিএসসি টা ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই চাচ্ছেন না।
আর এই বিএসসি ডিগ্রী টা কবে পাব সেটা মা জিগ্যাস করলে কোন সদুত্তর আমি দিতে পারিনা। আসলে পাব কিনা সেটাও জানিনা। কারণ,
নিয়মের ভেড়াজালে সবকিছুই বন্দি।
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে যেমন ক্লাস পরীক্ষা নিয়মিত দিতে হবে, তেমনি বিবেকের কাছে নিজেকে মানুষ দাবি করতে হলে মায়ের বিপদে আমাকে মায়ের পাশে দাড়াতেই হবে নচেৎ মানব জীবন টাই বৃথা। নিজেকে ক্ষমা করতে পারবনা কোনদিন ও। মনুষত্ব আর বিএসসি দুইটার দন্ধ কখনোই কাম্য ছিলনা/ নয়। কিন্তু নিয়ম ও আইন মাঝে মাঝে আমাকে এই দুইটার দন্ধের মুখোমুখি দাড় করায় তখন আমি হতাশ হই। অনেক বেশি হতাশ...............।

* পরিশেষেঃ
সকলের সহযোগিতায় ও মায়ের অদম্য প্রেরণায় এই দুইয়ের দন্ধ এড়িয়ে ৩য় বর্ষে আছি। আরও কিছুদিন সকলের সহযোগিতা চাই। বিশেষ করে স্যার ও ম্যামগণের(যদিও যতটুকু সম্ভব ততটুকু সহযোগিতা সবাই আমাকে করেছে/করে)। আর বন্ধুদের কে কি আর বলতে হয়/হবে?
আমার জন্য না যতটুকু তার চেয়ে বেশি আমার মায়ের জন্য(যদিও সবশেষে পুরুটাই আমার কাজে দিবে) বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীটা আমার চাই। মায়ের মুখের হাসিটা দেখতে চাই।
পরিশেষে সকলের কাছে আমার মায়ের সুস্থ দেহ, মন ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
**Burning Question:
সেশন জট, সিডিউল ছাড়া ক্লাস, অকারণে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া, রেজাল্ট দিতে দেড়ি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সকল সমস্যার কি কোন সমাধান নাই???
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৬ রাত ১২:০৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×