somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল
পাঠক ছিলাম, লেখক হলাম। পড়ব বেশী, লিখব কম। পছন্দের বিষয় প্রকৃতি, জীবন ও দর্শন। ভালোলাগে প্রবন্ধ ও সম্পাদকীয়। প্রতীক্ষায় আছি একদল বিচক্ষণ লেখকের। যারা সমাজের সমস্যাগুলো বুঝবে, তা নিয়ে ভাববে ও লিখবে। যে লেখায় মানুষ হবে সচেতন, দেশের হবে উন্নয়ন।।জয় বাংলা।।

ইতিহাসের পাতার সেই দিনগুলোঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার (মুজিবনগর সরকার)

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের সারাদিনের পোস্ট গুলোতে চোখ রাখলাম(সন্ধ্যায়)। অবাক, হতাশ সেই সাথে কিছুটা ক্ষুদ্ধও হলাম। কোটা জ্বর ও নববর্ষ শেষে আবারো ধর্ষন জ্বরে ভূগছে ব্লগ। অন্যয়ের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হচ্ছে, ভাল কথা। তাই বলে বিশেষ দিনগুলোকেও আমরা মনে রাখবো না? হাজারো ব্লগারের মধ্যে কেউ'ই না? অন্তত শ্রদ্ধেয় ও তার জিগরি দোস্তের কাছ থেকে একটা পোস্ট আশা করেছিলাম। পেলাম না। শুধু আজকেই নয় দশ তারিখেও পাই নি।:(

যাই হোক আসল কথায় আসি, আজ মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে(১৭ই এপ্রিল) মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য, কুষ্টিয়া(তৎকালীন) জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার অন্তর্গত ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে, অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। (মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল ১৯৭১এর ১০ই এপ্রিলে।)

ঐ অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বক্তব্য পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন,

---- ---- বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি। অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি।
জয় বাংলা।

অর্থাৎ এর মধ্যে দিয়েই প্রধানমন্ত্রী দেশী বিদেশী সাংবাদিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানালেন। আর এভাবেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সূচনা হল।(কপি)


অস্থায়ী সরকারের গঠনঃ
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী)
উপ-রাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম (রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন)
প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ
অর্থমন্ত্রীঃ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
পররাষ্ট্রমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদকে
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ এইচ এম কামারুজ্জামান
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানঃ কর্নেল এম এ জি ওসমানী
কার্যালয়: ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা।


অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রণালয় সমূহের নামঃ
১. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
২. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৩. অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
৪. মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়
৫. সাধারণ প্রশাসন বিভাগ
৬. স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়
৭. তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়
৮. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৯. ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়
১০. সংসদ বিষয়ক বিভাগ
১১. কৃষি বিভাগ
১২. প্রকৌশল বিভাগ

এসব মন্ত্রণালয়ের বাইরে আরো কয়েকটি সংস্থা ছিল, যারা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে কাজ করত। যেগুলোর মাধমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং সদ্য স্বাধীন দেশে প্রশাসনিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়।।

একটি বাংলাদেশ, তুমি জাগ্রত জনতার;
সারা বিশ্বের বিস্ময়, তুমি আমার অহংকার।


তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বই।
ছবিসূত্রঃ
১. শেখ মুজিবুর রহমানঃ anyodhara24.com
২. উপ-রাষ্ট্রপতির বক্তৃতাঃ banglakagoj24.com
৩. গার্ড অব অনার প্রদর্শনঃ ctvnews24.com
৪. মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দঃ somewhereinblog.net
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫৬
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×