
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এই মুহূর্তে প্রায় পৌনে তিন লাখ কারন দর্শানোর নোটিশ লিখার কথা! অথবা আমাদের সকলেরই উৎকণ্ঠিত হওয়ার কথা যে দেশে পৌনে তিন লাখ কিশোর/কিশোরী জঙ্গী হয়ে যাচ্ছে! না, আসলে তেমন কিছু না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দশ দিনের বেশি উপস্থিত না হলে, তাদের সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানকে খোঁজ নিয়ে যথাযথ কারন দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছিল। কেননা সরকার জঙ্গীবাদ নিয়ে বড় চিন্তায় ছিলো, টানা এতদিন স্কুলে,কলেজ থেকে পালিয়ে থাকলে তারা হয়ত জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ছে না হয় জড়িয়ে পড়বে!
কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী বা আমাদের সরকার কি জানে এই বছর মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েও ২ লাখ ৬৮ হাজার ২২২ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি! এরা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুখী হবে না! কেউ জীবনের তাগিদে বিভিন্ন ছোট পেশায় যুক্ত হবে কেউবা আরব দেশে যাবে কাজের আশায় কেউ কেউ হয়তো ছোটখাটো অপরাধ কর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়বে। মন্ত্রী যখন বলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের দেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল তখন ইচ্ছে করে এই মন্ত্রীটাকে রোলারের নিছে ঢুকিয়ে দিই। শুধু মাধ্যমিকই না, জেএসসি'তেও পাশ করা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেনি! প্রশ্নপাশ, প্রশ্নপ্রত্রে ত্রুটি এগুলি কি বিশ্বে রোল মডেল? জানিনা উনি কোন বিশ্বের কথা বলছেন, উনার মনে হয় আলাদা একটা বিশ্ব আছে!
জাতীর এই পিছিয়ে পড়া অংশকে সরকার কিভাবে টেনে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠাবে কে জানে! শেখ হাসিনা, নাহিদ সাহেব উনারা এর মাঝে অনেক সভা সেমিনার করেছেন কিন্তু তাদের এটা নিয়ে একবারের জন্যও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতে দেখিনি! তাহলে কি আসলে আমাদের শাসকরা চাচ্ছে দেশের বৃহৎ একটা অংশ অর্ধশিক্ষিত হয়ে থাকুক! এতে তাদের লাভ কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

