
গতকাল থেকে একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়েছে যে, গণফোরামের এক নেতার সাথে জনৈক শওকত নামের এক ব্যক্তির কথপোকথন। কথাবার্তায় দেখা যাচ্ছে শওকত লোকটি ডঃ কামালের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং ডঃ কামালের জীবননাশের চেষ্টা চলছে বলে ঐ নেতাকে অবহিত করেন। সে লোকটি লন্ডন থেকে সম্ভবত ফোন করেছে আর এই খবরটি সে লন্ডন থেকেই পেয়েছে বলে বলছে।
ডঃ কামাল, আসম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী, মনসুর আহমেদ এদের সাথে জোট কিংবা ঐক্য করার ক্ষেত্রে বিএনপি জমায়েতের জন্য সুখকর কিছু ছিল না। ব্যাপারটা অনেকটা আমাশয় হওয়ার পর নিম পাতার রস খাওয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। এই লোক গুলোকে বিএনপি কখনো ভালো চোখে দেখেনি। বাধ্য হয়ে এদেরকে দলে ভিড়াতে এবং নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং মির্জা ফখরুল বা মওদুদ আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হয় আর কামাল হোসেন রাষ্ট্রপতি হয় তাহলে বেগম জিয়ার হাত থেকে বিএনপি'র কর্তৃত্ব প্রায় শেষ হয়ে যাবে। তারেক জিয়ার মূল্যায়ন দলে থাকবে না বললেই চলে। এই ব্যাপারটি বোঝার জন্য আপনাকে সক্রেটিস হতে হবে না। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, উনি জেলের তালা নিজ হাতে খুলে বেগম জিয়াকে বের করে আনবেন,উনাকে মুক্ত করবেন। আসলে এমনটি হবে না, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলেও বেগম জিয়াকে চট করে জেল থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে না কিংবা তারা আনতেও চাইবে না। এছাড়া তারেক জিয়া চাইলেও দেশে ফিরতে পারবে না সাথেসাথে এবং সে তেমন সাহসী কোন ব্যক্তিও না। তার বিরুদ্ধে যে রায়গুলি আছে এবং আরো কয়েকটি মামলা চলমান আছে এগুলোকে ভ্যানিশ করে ফ্রন্টের নেতারা তাকে দেশে নিয়ে আসবে না বস্তুত নানা কারন দেখিয়ে তারা টালবাহানা করতে থাকবে। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে তারেক জিয়া ও বেগম জিয়া বিএনপিতে সহসাই ফিরে আসবে না, তাদেরকে নেতৃত্ব দিবেনা এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই তারা ঐক্যফ্রন্ট করতে সম্মত হয়েছে বলে মনে করি। তাই ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে উপরের ব্যাপার গুলি ঘটার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
এখন তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে যারা বিএনপি'র রাজনীতি করে,টাকাপয়সা খরচ করে সম্ভবত তারা ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেছে। এছাড়াও এই দুজনের নেতৃত্ব বিএনপিতে খর্ব হলে আইএসআই ও জামাতের জন্যও ভালো কিছু হবে না। এমত অবস্থায় ডঃ কামাল হোসেনকে কোন অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরিয়ে দিতে পারলে তাদের জন্য নির্বাচনে সিমপ্যাথি পাওয়ার পথ খুলে যাবে এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বের পথটিও নিশ্চিত হবে।
এইজন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের জীবননাশের শঙ্কা অগুরুত্বপূর্ন কিছু নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




