somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

সূর্যের ভিতরে ফোটন কণার দুঃখ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সূর্য! আমাদের এই সৌর জগতের মধ্যমনি।
হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দ্বারা ঘটিত এক বিশাল আগুনের গোলক! দশ লাখ কিলোমিটার ব্যসের এই অগ্নি গোলটি আমাদের পৃথিবীর ব্যসের থেকে ১০৯গুন বড়। আমরা হাজার বছর থেকে এই সূর্যকে দেখে আসছি সাথে আকাশের ঐ দূরের তারা গুলোও। কিন্তু তখন বুঝতে পারিনি আমাদের এই সূর্যও একটি তারা আর দূরের ঐ তারা গুলোও এক একটি সূর্য। আসুন আজ এই সূর্যের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি এর ভিতরে কি কি হচ্ছে।

সূর্য একটি গরম গ্যাসের গোলক। এর ভর খুব একটা বেশি নয় প্রতি ঘনসেন্টিমিটারে ১.৪১ গ্রাম মাত্র। পানির ঘনত্বের মত। তবে এর কেন্দ্রের ঘনত্ব ১১৩গ্রাম, বলা যায় সীসার ঘনত্বের ১০গুন। সূর্যের একেবারে ভেতরে যদি যেতে পারেন তাহলে আপনাকে ১০মিলিয়ন ডিগ্রি তাপ পোহাতে হবে আর বাহিরে দিকে যা ৬০০০কেলভিনের মত। ভিতরে এত তাপমাত্রার কারনে গ্যাস সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় যার ফলে দেখবেন এর অনু থেকে ইলেকট্রন পরমাণুটি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও দেখবেন এর অনুগুলো ও আয়নরাশি পরস্পরকে আকর্ষণ করছে, যার ফলে সূর্য গোলাকার আকার ধারন করেছে। সূর্যের ভিতর আরেক এলাহী কান্ড প্রত্যক্ষ করবেন, বুঝতে পারবেন এর কেন্দ্রের দিকে সব কিছুকে টানছে প্রবল আকর্ষণে। আর বাহিরের গ্যাস গুলো সৃষ্টি করে যাচ্ছে প্রচন্ড বহির্মুখী চাপ। এই ব্যাপারটির আবার একটি দাঁতভাঙ্গা বৈজ্ঞানিক নামও আছে: হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুলিব্রিয়াম! এই টান আর চাপের কারণেই সূর্য তার ভারসাম্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

যাইহোক অন্যান্য তারা গুলোর মতো সূর্যে হাইড্রোজেন আর হিলিয়াম ছাড়াও পাবেন সামান্য পরিমাণ লিথিয়াম, বোরন, কার্বন, নাইট্রোজেন, বেরিলিয়াম, ফ্লোরিন, অক্সিজেন, নিয়ন। সূর্যের কেন্দ্রের মধ্য যে শক্তি উৎপন্ন প্রক্রিয়াটি দেখছেন সেটা তার ১লাখ কিলোমিটার ব্যসের মধ্যেই উৎপন্ন হয়। এই এলাকায় পারমানবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয় তাপ জন্ম নেয় আলোর কণা ফোটন! আর এই ফোটন কণারা ছড়িয়ে পড়ে এই মহাশূন্য! আলোকিত করে আমাদের এই সৌরমন্ডলকে আমাদের পৃথিবীকে। তবে যে ফোটন কণা আপনি কেন্দ্রে উৎপন্ন হতে দেখলেন সেটা কিন্তু সাথে সাথেই সূর্যের কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা। প্রচন্ড আকর্ষণ থেকে মুক্ত হতে এক একটি ফোটন কণার লেগে যায় দশ লাখ বছর!
অথচ এই আকর্ষণ না থাকলে মাত্র দুই সেকেন্ডে বের হয় আসতো প্রতিটি ফোটন কণা। মাত্র দুই সেকেন্ডের পথ পাড়ি দিতে হয় দশ লাখ বছর ধরে! বিলিয়ন বিলিয়ন ফোটন কণার মুক্ত হওয়ার যুদ্ধ আপনাকে ব্যাথিত করবে।

ফোটনের এই বন্ধিদশার কারনে সূর্যের কেন্দ্রে যদি শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় সেটা বুঝতে আমাদের সময় লাগবে দশ লাখ বছর! কি অবিশ্বাস্য! এই যে এতক্ষন সূর্যের ভিতর শক্তি উৎপাদনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখলেন এটা কি প্রক্রিয়া হয় তা জানা গেছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র থেকে। তিনিই বলেছেন বস্তু এবং শক্তি আলাদা কিছু নয়, একটিকে রূপান্তর করা যায় আরেকটিতে। সে বিখ্যাত সূত্রটি হচ্ছে ই=এমসি^
এখানে ই হচ্ছে মোট উৎপন্ন শক্তি, এম হচ্ছে যে বস্তুটিকে শক্তিতে রূপান্তর করা হবে তার ভর, আর সি হচ্ছে আলোর গতি। এতক্ষন আমাদের এই সূর্যের ভিতর যে পারমানবিক বিক্রিয়া শক্তি উৎপন্ন হতে দেখলেন সেটা এই সূত্র মেনেই উৎপন্ন হচ্ছে গত ৪০০কোটি বছর ধরে।
তবে এর বাহিরে আরো একটি সূত্র আছে যেটা আমাদের নুরু ভাই ও নতুন নকিব ভাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। যে সূত্র মেনে সূর্য সৃষ্টিকর্তার আরশের নীচে সেজদা দেয়। :)

ছবি: গুগল
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৫৯
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×