
আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে, “নিজে বাঁচলে বাপের নাম” এই পৃথিবীতে সকল প্রাণীর প্রধান কাজ হচ্ছে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার পরেই প্রয়োজনীয় বাকি সকল কাজ গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রাণকে বাঁচানোর জন্যই মানুষসহ সকল প্রাণী সর্বোত্তম পন্থা অনুসরণ করার চেষ্টা করে। কথাগুলো বলার কারণ হচ্ছে আজ ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে একটি কর্মশালা হয়েছে। যেখানে আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, “আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি এখন আমাদের দরকার নিরাপদ খাদ্য।” আমাদের জন্য আগে কোনটার দরকার ছিল বেশি, নিরাপদ খাদ্য নাকি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হওয়া? বাংলাদেশ প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজনের কিডনি ও হার্টের সমস্যা আছে এবং এই সমস্যার প্রধানতম কারণ হচ্ছে খাদ্যে ভেজাল বা নিরাপদ খাদ্যের অভাব। এছাড়াও শিশুখাদ্যের মত সংবেদনশীল খাদ্য এখনো শতভাগ নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ চাল, মাছ, মুরগি, দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু এসব খাদ্যে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত যে পরিমাণ ভেজাল মিশ্রিত হয়, তা আপনার চোখের সামনে তুলে ধরলে আপনি না খেয়েই স্ট্রোক করে ফেলতে পারেন!
পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া এমনকি এই ব্লগেও খাদ্যে ভেজাল নিয়ে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর ভিডিও, রিপোর্ট, আর্টিকেল পাবেন। সামান্য বেশি কিছু মুনাফা লাভের জন্য খাদ্যপণ্যে কি পরিমান বিষ মিশানো হয় তা কল্পনার বাইরে। এসব বিষ মিশ্রিত খাদ্য আমরা সকলেই খাচ্ছি। সামান্য সান্তনার বিষয় এই যে, এই বিষ মিশ্রিত খাদ্য আমি আপনি যেমন খাচ্ছি তেমনি আমাদের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে আমাদের মন্ত্রী, এমপি, সচিবরাও এসব খাচ্ছে। গত ৫০ বছরেও এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটা নিয়ে কেউ সিরিয়াসলি কাজ করেনি।
একটা জাতি যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার না পায় তদুপরি যেটুকু পায় তার মধ্যেও যদি ভেজাল থাকে তাহলে সেই জাতির কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়। এছাড়াও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি হয়ে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। অকালে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারাতে হয়। সর্বোপরি একটা পরিবারে হঠাৎ করে বিপর্যয় নেমে আসে। আপনার আশেপাশের অনেক পরিবার কিংবা আপনি নিজেই হয়তো এরকম পরিস্থিতিতে পড়ে গেছেন।
যাইহোক আজকে আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এটা নিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন। তবে পরিতাপের বিষয় হবে যদি উনার এই কথাটি এই কর্মশালার মধ্যেই থেকে যায় এবং আগামী বছরও উনি কোন এক কর্মশালায় একই কথা পুনরাবৃত্তি করেন। আর এরচেয়েও বড় পরিতাপের বিষয় যেটি সেটি হলো আজকে যদি উনি এই কর্মশালায় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি এখন দরকার নিরাপদ খাদ্যে নিশ্চিত করা এই কথাটি না বলে, বলতে পারতেন আজকে আমরা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পেরেছি এখন আমাদের দরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হওয়া।
শেষ কথা এই যে, আমাদের নীতিনির্ধারকদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। তাঁদের নিজেদের স্বার্থেই তাঁরা এই নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা লক্ষে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করুক।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




