somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের নবী মুহাম্মদ হচ্ছে নবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সেক্যুলার নবী। ★

১৮ ই জুলাই, ২০২২ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সেই স্বাধীনতার পর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন উপায়ে আক্রমণ হয়েছে। সম্ভবত আর কয়েক বছর পর নিতাই রায়, অপু উকিল, গয়েশ্বর বাবু ছাড়া আর তেমন হিন্দু খুঁজে পাওয়া যাবে না। হিন্দুরাও এ দেশকে নিজেদের দেশ বলে ভাবতে দ্বিধাবোধ করবে। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব সংবিধানে ভুরাজনৈতিক ও পশ্চিমাদের নেকদৃষ্টি পাওয়ার জন্য সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি জুড়ে দেয়। মূলত সেকুলারিজম মানে ধর্মনিরপেক্ষতা না করে সেকুলারিজম অর্থ সার্বজনীন বলাটাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু অশিক্ষিত বাঙালি ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষিত বাঙালিরাও এই সেকুলারিজমকে ধর্মহীনতা ভাবতে থাকে।
যদি সেকুলারিজম এর কথা বলতে হয়, তাহলে বলা যায় আমাদের ধর্মগ্রন্থ ও নবী মুহাম্মদ হল সবচেয়ে বড় সেক্যুলার। কেননা আল্লাহ সরাসরি কোরআনেই বলে দিয়েছেন এই ধর্মগ্রন্থটি সার্বজনীন অর্থ্যাৎ সবার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

যাক এত কিছুর পরেও আমাদের হিন্দু সংখ্যালঘুরা কোনোমতে দিন কাটাচ্ছিল এই দেশে। শেষমেশ সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য হুসাইন মু: এরশাদ আমাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলে ঘোষণা দেয়! এতে হিন্দু জনগোষ্ঠী আরো বিপাকে পড়ে যায়। তাদের উপর আরো বেশি অত্যাচার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বাড়তে থাকে। মুহাম্মদ এরশাদ এই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার পর এটাকে আর কেউ সরানোর মত সাহস দেখায়নি। তাই বলা যায় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করাটা যতটা না ইসলামের জন্য তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
আসলে রাষ্ট্রের ধর্ম থাকলে এটা কারো জন্য কোন ভালো ফলাফল নিয়ে আসে না। এটা শুধুমাত্র একটু মনের আত্মতুষ্টি দেয়। যেমন বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে আপনি যেই ক্লাবের সমর্থন করেন সেই দল জিতলে কিছুটা আত্মতুষ্টি পান তেমনি রাষ্ট্রধর্ম থাকলে শুধু মনের মধ্যে আপনার সামান্য আত্মতুষ্টি আসে। নাগরিকদের জন্য এটা বাড়তি কি সুবিধা দেয় কেউ জানলে বলবেন।

এতকিছু বলার কারন হচ্ছে, রাষ্ট্রধর্মের মত একটা অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাষ্ট্রের ভিতর বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে। এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসের সমর্থকের সংখ্যা অনেক, কি কারনে তারা রাষ্ট্রধর্ম সমর্থন করে বলা মুশকিল। আমেরিকা, ভারতের মতো দেশে কোনো রাষ্ট্র ধর্ম নেই কেননা তারা সারা বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে চায়, সবার জন্য সার্বজনীন হতে চায়। যেখানে আমাদের ধর্মের নবী সবার জন্য সার্বজনীন একই ভাবে ধর্মগ্রন্থও, সেখানে আমরা রাষ্ট্রের একটা ধর্ম দিয়ে নিজেদেরকে আবদ্ধ করে ফেলছি। বর্তমান এই সময় এসে রাষ্ট্রধর্মের আসলে তেমন দরকার নেই; এতে ধর্মের কিংবা ধার্মিকদের কোন উপকার হয় না, উপকার হয় ভন্ড রাজনীতিবিদদের।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০২৩ সকাল ৯:৪৭
২৪টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের এস,এম,ই খাতে উদ্ভাবনের বাধা ও সম্ভাবনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১০



বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাত আজ দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই খাতের অনেক উদ্যোক্তা এখনো উদ্ভাবন বা ইনোভেশন গ্রহণে পিছিয়ে আছেন। গবেষণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×