somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

তাসনিম খলিলকে আমার কাছে একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ মনে হয়! ★

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এ লোকটিকে আমি আগে চিনতাম না। জেনারেল আজিজের একটি ডকুমেন্টারি পাবলিশ করেছিল আল জাজিরা টেলিভিশন, তখন এই লোকটির নাম শুনতে পাই। এর চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলার স্টাইলটা আমর কাছে একেবারে বিরক্তিকর লাগে। ঐসময় দেখেছি ওর প্রদত্ত তথ্য বেশিরভাগই টুইস্ট করা এবং ঘুরিয়ে পেচিয়ে নিজেকে বেশ বড় মাপের অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিক হিসেবে দাবি করা! ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিন সরকারের সময়ে নির্যাতিত হয়ে নাকি সুইডেন চলে যায় এবং সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিষাদাগার করতেই থাকে। ওর কথা শুনলেই মনে হচ্ছে ওর সব রাগ ক্ষোভ রাষ্ট্র বাংলাদেশের উপরে!

গত কয়েকদিন ধরে এই লোকটি ইউরোপিয়ান সদস্যভুক্ত দেশগুলির মানবাধিকার সংগঠনগুলির সাথে অনেকগুলি বৈঠক করে। তার এই বৈঠকের উদ্দেশ্যেই ছিল বাংলাদেশের উপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। সে দুঃখ প্রকাশ করে বারবার বলার চেষ্টা করছে, যেখানে আমেরিকা বাংলাদেশের উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন আমেরিকার মিত্র দেশ হয়েও বাংলাদেশের উপর আরো সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না! তার কথা বলার ধরন দেখে আমি খুব অবাক হচ্ছিলাম। আমার কাছে মনে হয়নি এই লোকটি কখনো বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, এদেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছে! নিজ মাতৃভূমি সম্পর্কে কেউ এভাবে কথা বলতে পারে তা আমার ধারণাতীত ছিল! তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এমনকি উন্নত রাষ্ট্রেও মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হয় না তা নয়। সব দেশেই কমবেশি মানবাধিকার সমস্যা থাকে কিন্তু সেটার রেশ ধরে নিজ মাতৃভূমির ক্ষতি সাধন করার চেষ্টাটা খুবই লজ্জাজনক বিষয়।

অনেকেই তার চেষ্টাকে বিভিন্নভাবে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করবেন। হয়তো বলতে চাইবেন বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করা যায়। অথচ তাসনিম খলিল যা করতে চাচ্ছে তাতে যদি সে সফল হয় সেটা কখনোই ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ হবে না! তার জন্য পুরো দেশ ও জাতিকে চরমভাবে মূল্য দিতে হবে। সে বা তার মত যারা প্রবাসে আছে তারা আয়েশী জীবনযাপন করবে ঐসব স্যাংশন নিষেধাজ্ঞায় তাদের কিছুই যায় আসবে না, যা ভোগার সাধারণ জনগণই ভুগবে!
তবে কিছুটা আশার বিষয় হচ্ছে সে যে বৈঠক করেছে সেখানে সে দুটি বিষয় বেশি হাইলাইট করেছে, একটি হলো সে নিজেই ভুক্তভোগী হয়ে বাংলাদেশ থেকে সুইডেন চলে এসেছে এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ৬১ জন মানুষের মৃত্যুর কথা। যেখানে সে দাবী করছে ৫ই মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এই ৬১ জন মানুষ নিহত হয়েছে। প্রথম বিষয়টিতে বলা হয়েছে সে যে সময়ের কথা বলেছে সেই সময় বর্তমান সরকার ছিল না, তত্ত্বাবধায়ক ও সেনা সমর্থিত সরকার ছিল। যার জন্য তার সেসময়ের বিষয়টি বর্তমান সরকারের বিপক্ষে ধর্তব্যে নিতে চায় না।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল হেফাজতের সমাবেশে নিহত সে ৬১ জনের তালিকা আছে কিনা? সে কোনো তালিকা দিতে পারেনি এমনকি সুনির্দিষ্টভাবে একজন মৃত বা নিখোঁজ ব্যক্তির নামও উল্লেখ করতে পারেনি!

সুইডেনে তাসনিম খলিল, আমেরিকায় সাংবাদিক ইলিয়াস, ফ্রান্সে পিনাকি ভট্টাচার্য এবং লন্ডনে আরও একজন আছে এই মুহুর্তে তার নাম মনে পড়ছে না। এরা দেশ সম্পর্কে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক খবর পরিবেশন করে যা সত্যি নেক্কারজনক! সরকারের সমালোচনা করা যায়, দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা যায় এবং তারা সেটা করেও তাতে আমার কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র বা এর ধরনের স্টেটমেন্ট দেওয়া দেশদ্রোহিতার শামিল। দেশদ্রোহিতা শুধু আইনি কাঠামোয় হয়না, নৈতিকতার মানদণ্ডেও অনেক দেশদ্রোহিতা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৩ বিকাল ৪:৩৪
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×