somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা কথাসাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক, গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছদ্মনাম চন্দ্রহাস। ঐতিহাসিক গল্প-্উপন্যাসের লেখক হিসেবে তার নাম বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রের পরেই উচ্চারিত। সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ, তার মধ্যে আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ। রেকর্ডের জন্য পালাও লিখেছেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ছোট গল্পের জাদুকর। তিনি নিজেও বলতেন, “ছোটগল্পটাই আমার হাতে বেশি আসে। গল্প লেখার সময় সর্বদা মনে রাখি Brevity is the soul of wit । যাই লিখিনা কেন যত্ন করে লিখতে হয়।” শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবন্ধও লিখেছেন, তবে তা 'চন্দ্রহাস' ছদ্মনামে,। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গুলো যেন সর্বকালের ঐতিহাসিক সম্পদ। বহু দুরকালের সামান্য কয়খানা ঘটনা্র কঙ্কালের মধ্যে তিনি তার প্রতিভার মন্ত্রবলে প্রাণসঞ্চার করে রচনা করেছেন কালজয়ী আখ্যানমালা। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসঃ ১। কালের মন্দিরা (১৯৫৩), ২। গৌড়মল্লার (১৯৫৪), ৩। তুমি সন্ধ্যার মেঘ (১৯৫৮), ৪। কুমারসম্ভবের কবি (১৯৬৩), ৫। তুঙ্গভদ্রার তীরে (১৯৬৫)। সামাজিক উপন্যাস 'বিষের ধোঁয়া' বা অতিপ্রাকৃত নিয়ে তার 'বরদা সিরিজ' ও অন্যান্য গল্প এখনো বেস্টসেলার। সিনেমার চিত্রনাট্যকারের কাজও করেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যোতিষচর্চায়ও গভীরভাবে্ আগ্রহী ছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রবীন্দ্র পুরস্কার শরৎস্মৃতি পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এই লেখকের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭০ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের পূনেতে মৃত্যুবরণ করেন। কথাসাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৯ সালের ৩০ মার্চ (১৭ চৈত্র, ১৩০৫ বঙ্গাব্দে) বৃটিশ ভারতের উ্ত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে মাতুলালেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি নিবাস উত্তর কলকাতার বরানগর কুঠিঘাট অঞ্চলে। তার পিতার নাম তারাভূষণ এবং মাতার নাম বিজলীপ্রভা। তারাভূষণ বিহারের পূর্ণিয়ায় ওকালতি করতেন। সেখান থেকে তিনি মুঙ্গেরে আসেন। সেই সুবাদে শরদিন্দুর স্কুলশিক্ষা মুঙ্গেরে। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর শরদিন্দু কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন। বিএ পাশ করার পর তিনি আইন নিয়ে পড়াশুনা করছিলেন ল কলেজে। পরবর্তীতে পাটনা থেকে আইন পাশ করেন। পড়াশুনোর সাথেই তিনি সাহিত্য চর্চাও করতে থাকেন। তাঁর সাহিত্য রচনা শুরু হয় কবিতা দিয়ে। ২০ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর রচিত প্রথম সাহিত্য। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ "যৌবনস্মৃতি" প্রকাশিত হয় ১৩২৫ বঙ্গাব্দে। এর পর দুটি-্একটি গল্প। তার সৃষ্টি গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী আত্মপ্রকাশ করে ১৯৩২ সালে। ১৯৩৮ সালে বম্বের বম্বে টকিজ এ চিত্রনাট্যকাররুপে কাজ শুরু করেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এর পরে অন্যত্র ফ্রিল্যান্সর হিসেবে। ১৯৫২ সালে সিনেমার কাজ ছেড়ে স্থায়ীভাবে পূনায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তী ১৮ বছর তিনি সাহিত্য চর্চায় অতিবাহিত করেন। সংখ্যা গুণলে ছোটো গল্পই সবচেয়ে বেশী, সংখ্যায় দুশো বাইশ, ছত্রিশটি বইতে সংগৃহীত; উপন্যাস তেরোটি, নাটক ও চিত্রনাট্য তেরোটি, কিশোরপাঠ্য কাহিনী আটাশটি।


ছোট গল্পের যাদুকর শরদিন্দুর জীবনে সিনেমার, বিশেষ করে বম্বের সিনেমার, খুব বড় ভূমিকা ছিল। তিনি যে ছবিগুলিতে চিত্রনাট্যকারের কাজ করেছেন সেগুলি হলোঃ ১। দূর্গা (১৯৩৯), ২। কঙ্গন(১৯৩৯), ৩। নবজীবন(১৯৩৯) ও ৪। আজাদ(১৯৪০)। তাঁর বিভিন্ন রচনা থেকেও সিনেমা প্রস্তুত হয়েছে, যথাঃ ১। চিড়িয়াখানা - নির্দেশক সত্যজিত রায়, ২। ঝিন্দের বন্দী - নির্দেশক তপন সিংঘ, ৩। বিষের ধোঁয়া, ৪। দাদার কীর্তি - নির্দেশক তরুণ মজুমদার। এ ছাড়াও 'তিশগ্নি' নামে একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত হিন্দি ছবি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ছোটগল্প 'মরু ও সঙ্ঘ'র চিত্ররুপ। গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী তাঁর অমর সৃষ্টি। ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের বইগুলো হলোঃ ১। ব্যোমকেশের ডায়েরী (১৯৩৩), ২। ব্যোমকেশের কাহিনী (১৯৩৩), ৩। ব্যোমকেশের গল্প (১৯৩৭), ৪। দুর্গরহস্য (১৯৫২), ৫। চিড়িয়াখানা (১৯৫৩), ৬। আদিম রিপু (১৯৫৫), ৭। বহ্নি-পতঙ্গ (১৯৫৬). ৮। সসেমিরা (১৯৫৯), ৯। কহেন কবি কালিদাস (১৯৬১), ১০। ব্যোমকেশের ছ'টি (১৯৬২), ১১। ব্যোমকেশের ত্রিনয়ন (১৯৬২), ১৩। মগ্নমৈনাক (১৯৬৩), ১৪। শজারুর কাঁটা (১৯৬৭), এবং ১৫। বেণীসংহার (১৯৬৮)। ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের গ্রন্থগুলি সমন্নয়ে তাঁর সংকলনগুলো্ হলোঃ ১। শরদিন্দু অমনিবাস: প্রথম খণ্ড (১৯৭০), ২। শরদিন্দু অমনিবাস: দ্বিতীয় খণ্ড (১৯৭১), এবং ৩। ব্যোমকেশ সমগ্র (১৯৯৫) এছাড়াও তাঁর রচিত গল্প-সংকলন সমূহঃ ১। জাতিস্মর (১৯৩২), ২। চুয়াচন্দন (১৯৩৫), ৩। বুমের‌্যাং (১৯৩৮), ৪। বিষকন্যা (১৯৪০), ৫। কাঁচামিঠে (১৯৪২), ৬। শাদা পৃথিবী (১৯৪৮), ৭। এমন দিনে (১৯৬২), ৮। শঙ্খ-কঙ্কণ (১৯৬৩)।


সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্র পুরস্কার (উপন্যাস 'তুঙ্গভদ্রার তীরে'র জন্য), শরৎস্মৃতি পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কার প্রভৃতি পুরস্কার লাভ করেন। কৃতিমান এই সাহিত্যিক ১৯৭০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভাতের পূনেতে মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ছোটগল্পের যাদুকর কথাসাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×